আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু সবাই কেমন আছেন আশা করি সকলে ভালো আছেন আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে আমিও ভাল আছি।
আজকে আমি যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব বিষয়টি হলো দুনিয়া পরীক্ষার হল আমাদের জন্য দুনিয়াটা পরীক্ষার হল সে বিষয়ে আমি কিছু কথা বলার চেষ্টা করব আল্লাহতালা তৌফিক দান করুন আমিন।
এই দুনিয়াটা হল পরীক্ষার হল আর জগতের সকল মানুষ হল পরীক্ষার্থী পরীক্ষা তার প্রত্যেকটি মানুষের জীবনের আয়ু হলো পরীক্ষার নির্ধারিত সময় যেমনি ভাবে মাদ্রাসা স্কুল কলেজ ও ভার্সিটির পরীক্ষাসমূহের পরীক্ষার্থীরা ঘরে প্রবেশ করার পর তাদের হাতে প্রশ্ন পত্র দেয়া হয়।
ঠিক তেমনি ভাবে পৃথিবীর প্রতিটি নারী পুরুষ প্রাপ্ত বয়সের প্রকৌশল আল্লাহপাক ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক শরীয়তের বিধি-নিষেধ তাদের দায়িত্ব অর্পিত হয়। সুতরাং যারা ইসলামী শরীয়তের পক্ষ থেকে অর্পিত করনীয়-বর্জনীয় বিধান বলি পুরোপুরিভাবে মেনে চলবে ইসলামের আদর্শের উপর জীবন কাটাবে তারাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বলে সাব্যস্ত হবে এবং পুরস্কার হিসেবে মহামূল্যবান জান্নাতের চিরস্থায়ী বাসিন্দা হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা আর আল্লাহর পরীক্ষার পার্থক্য আছে প্রতিষ্ঠান পরীক্ষায় ফেল করার পর পরবর্তীতে আবার পরীক্ষা দিয়ে ভালো রেজাল্ট করার অবকাশ থাকে পক্ষান্তরে আল্লাহর পরীক্ষায় ফেল করে একবার কেউ দুনিয়া থেকে চলে গেলে পরবর্তীতে পুনরায় দুনিয়া সে পাশ করা কোনো সুযোগ থাকে না।
তাই একজন সচেতন বিচক্ষণ ও মেধাবী পরীক্ষার্থী যেমন পরীক্ষার হলে প্রবেশ করে প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর এক মিনিটও অযথা ব্যয় করে না বরং একনিষ্ঠভাবে লিখতে থাকে তদ্রূপ একজন সচেতন বুদ্ধিমান মানুষের জন্য প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর একটি মুহূর্ত অযথা ব্যয় করা উচিত নয় বরং নিরলসভাবে ইবাদত-বন্দেগী করা আবশ্যক কেননা হায়াত শেষ হয়ে গেলে নেক আমল করার জন্য এক সেকেন্ডের অবকাশও দেয়া হবে না।
পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীদের কিছুটা ছাড় দেয়া হয় যেমন কোনো পরীক্ষার্থী যদি ভুল আনসার দেয় অথবা সব প্রশ্নের অ্যানসার না দেয় পরিদর্শক দেখে ও তাকে কিছু বলেন না কারণ পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীদের ইচ্ছামত যা খুশি লেখার স্বাধীনতা দেয়া হয়।
এর অর্থ এই নয় যে খারাপ পরীক্ষা দেয় যার কারণে তাকে কখনো আফসোস করতে হবেনা লজ্জিত হতে হবে না রেজাল্ট প্রকাশ হওয়ার পর তার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়বে এই জন্য সচেতন মেধাবী পরীক্ষার্থীরা স্বাধীনতা পেয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকে না বরং নিজ নিজ দায়িত্ব বোধ থেকেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সবগুলো প্রশ্নের উত্তর সুন্দর ভাবে লিখে শেষ করে।
তেমনি ভাবে আল্লাহ পাক আমাদেরকে দুনিয়ায় কিছুটা স্বাধীনতা দিয়েছেন আমরা যদি নামাজ না পড়ি রোজা না রাখি সামর্থ্য থাকলেও রচনা করি ওয়াজিব হলে যাকাত আদায় না করে ইত্যাদি ভালো কাজ না করে উল্টো গুনাহের কাজে লিপ্ত হয় আল্লাহ পাক কিছু বলেন না মৃত্যু পর্যন্ত অবকাশ দেন এর অর্থ এই নয় যে আল্লাহ পাক অবাধ্য হয়ে আমরা ছাড় পেয়ে যাব কঠিন হাশরের ময়দানে যখন প্রকাশ করা হবে অবশ্যই ধরা পড়তে হবে।
কিন্তু তখন হাই হুতাশ করে কোন লাভ হবে না তাই সচেতন বুদ্ধিমান মানুষের কাজ হল আল্লাহর পরীক্ষায় পাশ করার জন্য নিজ দায়িত্ববোধ থেকে সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করা শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার জন্য কত পরিশ্রম ও চেষ্টা-সাধনা করে থাকে অথচ যে পরীক্ষায় একবার ফেল করলে আর কোনদিন পাস করার আশা নেই সে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার ব্যাপারে মানুষেরা একেবারেই উদাসীন।
পড়ালেখায় অমনোযোগী শিক্ষার্থী পরীক্ষায় খারাপ করার পর যেমন আফসোস করে মনে মনে বলে ইস যদি রেজাল্ট না দিত যদি আমার রেজাল্ট প্রকাশ প্রকাশ না হতো তদ্রুপ এবাদতে অমনোযোগী পূজায় গমনকারী মানুষেরা আল্লাহর পরীক্ষায় খারাপ করার পর হাশরের ময়দানে আফসোস করে বলবে যদি আমলনামা না দিত যদি আমার আমলনামা প্রকাশ না হতো।

