দৃষ্টিভঙ্গি
৫. যুক্তিপূর্ণ ব্যাখ্যার আলোকে কুরআনের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন ও অনেকে ধারণা করে থাকেন যে, শরীয়তের হুকুম আহকাম কোন উদ্দেশ্যের উর্ধ্ব প্রতিষ্ঠিত নয় । কাজের সাথে তার ফলাফলের কোন সম্পর্ক নেই। এ ধারণা হল। ইজমা, ক্লিয়াস ও খাইরুল কুরুনের মনীষীগণের গবেষণালব্ধ মতামত উত্ত মতবাদকে খণ্ডন করেছে। যেমন নামাজের চকম আল্লাহকে স্মরণ করা এবং তাঁর নিকট মোনাজাত করার জন্য প্রদান করা হয়েছে। গরীব এবং অসহায়দের অভাব অনটন দূর করা এবং ধনীদের অন্তর থেকে কৃপণতার ছাপ মুছে ফেলার জন্য যাকাতের বিধান দেওয়া হয়েছে। আত্মাকে কু-প্রবৃত্তির প্রভাব থেকে মুক্ত রাখার জন্য রোযাকে ফরজ করা হয়েছে। আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপক প্রচার প্রসার এবং ফিৎনা ফাসাদ দূর করার লক্ষ্যে জিহাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অনুরূপভাবে নবী সা.-এর আদেশ নিষেধের মাঝেও কোন না কোন রহস্য লুকায়িত রয়েছে। যেমন-জোহরের পূর্বে চার রাক'আত নামাজ সম্বন্ধে নবী সা. বলেন ঐ সময় আকাশের দ্বার উন্মুক্ত করা হয়, আমার ইচ্ছা হয় যে, এ সময় যেন আমার কোন নেক আমল উর্ধ্বে আরোহণ করে। এভাবে প্রত্যেক আহকামের মাঝে কোন না কোন রহস্য লুকায়িত রয়েছে। এক শ্রেণীর মানুষ মনে করত ইসলামের বিধি-বিধানকে যুক্তির আলোকে বিশ্লেষণ করা এবং এগুলোর রহস্য উদ্ঘাটন করতে যাওয়া ইসলামের জন্য ক্ষতিকারক। পক্ষান্তরে শাহ সাহেব মনে। করতেন এ ধারণা ভুল। তাঁর মতে যুক্তির আলোকে ইসলামী হুকুম-আহকামের বিচার বিশ্লেষণ করলে ক্ষতিতো নয়ই বরং বহুবিধ উপকার হবে। যেমন আমলের প্রতি আগ্রহ বাড়বে, তাছাড়া ফিকহী ইজতিহাদের ক্ষেত্রেও যথেষ্ট সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি হবে। এ দিকে লক্ষ্য করেই শাহ সাহেব এ কাজকে তাঁর বিপ্লবী কর্মসূচীর অন্তর্ভুক্ত করেন।

