পরাজিত

A
arif567


কয়েকটি যুদ্ধে পরাজিত হলেও ১৮১৮ সালে এক চূড়ান্ত যুদ্ধে ওয়াহাবীদেরকে করাস্ত করে তাদের রাজধানী দারিয়া দখল করে নেয়। এভাবে ওয়াহহাবীদের প্রতিষ্ঠিত সাম্রাজ্য বিলুপ্ত হয়ে যায়। কিন্তু ইব্রাহীম পাশা মিশরে চলে গেলে ওয়াহাবীরা নজদ অঞ্চলে পুনরায় শক্তি সঞ্চয়ে সচেষ্ট হয়। ঊনবিংশ শতকের শেষের দিকে সউদী রাজ পরিবার পুনরায় রিয়াদে তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়।

১৯০৯ সালে রাসূল খিমা নামক দুর্গে বৃটিশের সাথে তাদের এক চূড়ান্ত সংঘর্ষ হয়। বৃটিশরা দুর্গটি দখল করে নিয়ে যায় এবং দুর্গটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে তা ভস্মীভূত করে ফেলে। ঠিক এসময় ইংরেজ সাংবাদিকরা এই আন্দোলনকে 'ওয়াহাবী আন্দোলন' হিসাবে আখ্যায়িত করে। এ থেকেই পাশ্চাত্যের ঐতিহাসিকরা এটিকে ওয়াহাবী আন্দোলন হিসাবে উল্লেখ করে আসছে।

১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্ব যুদ্ধ শুরু হলে ইংরেজরা তুরষ্কের শক্তিকে খর্ব করার জন্য আরব জাতীয়তার ধুয়াতুলে আরবদেরকে তুরষ্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়, এবং শরীফ হুসাইনকে ক্ষমতার প্রলোভন দিয়ে তুরস্কের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের উস্কানী দেয়। শরীফ ক্ষমতার লোভে তুরস্কের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করলে মক্কা মদীনা শরীফের অধীনে চলে আসে। আর রিয়াদসহ দক্ষিণ অঞ্চল ইবনে সউদের নিয়ন্ত্রণেই রয়ে যায়। ইংরেজরা ইবনে সউদকেও প্রলোভন দিয়েছিল। কিন্তু সে এই প্রলোভনের শিকার হয়নি। বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্ত হলে শরীফ ইংরেজদের অনুগত হিসাবে দেশ শাসন করতে থাকে। এভাবে চলে যায় বেশ কয়েক বৎসর। ইবনে সউদ শরীফের এই ইংরেজ তোষণ নীতি পছন্দ করতেন না। ফলে শরীফের সাথে তার বিরোধ লেগেই ছিল। ১৯২৬ সালে ইবনে সউদ হিজাযের একচ্ছত্র শাসক হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে এবং অধিকৃত অঞ্চলকে "সৌদী আরব” নামে নামকরণ করে। বর্তমান রাজ পরিবার তাদেরই বংশধর।

ভারতে যখন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদের নেতৃত্বে ইংরেজ বিরোধী আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ ধারণ করে তখন এ আন্দোলনকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য ইংরেজরা যে সব চাল চালে তার মাঝে এ আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্টদের ওয়াহাবী বলে আখ্যায়িত করার চালটি অন্যতম। ১৮২২ সালে সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ হজ্জ থেকে ফিরে এসে প্রকাশ্যে জিহাদী তৎপরতা শুরু করলে ইংরেজরা তাদের প্রচার মাধ্যমগুলোতে তাঁকে ওয়াহাবী আন্দোলনের অন্যতম নেতা বলে অপপ্রচার চালাতে থাকে। যেহেতু এদেশের মানুষ আগে থেকেই ওয়াহাবীদের প্রতি বিরূপ ভাবাপন্ন ছিল সুতরাং তাদের এই প্রচারণায় যথেষ্ট সুফল ফলে। এমনকি ইংরেজ ঐতিহাসিক মিঃ হান্টারতো এই উভয় আন্দোলনকে এক ও অভিন্ন বলেই মন্তব্য করেছেন এবং প্রমাণ হিসাবে উল্লেখ করেছেন যে, হজ্জ করতে গিয়ে সাইয়্যিদ আহমদ রাহ. মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাবের শিষ্যত্ব বরণ করে স্বদেশে ফিরে আসেন এবং ভারতবর্ষে ওয়াহাবী আন্দোলনের সূচনা করেন। এর পিছনে যুক্তি হিসাবে তিনি দেখিয়েছেন যে, হজ্জে যাওয়ার আগে সে একজন পীর ছিল মাত্র

Comments

dalim8563
Beautiful