বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
বিষয়: অনেক ক্ষেত্রে নারীর অধিকার পুরুষের চেয়ে বেশি
অনেক ক্ষেত্রে নারীর অধিকার পুরুষের চেয়ে বেশি। সামগ্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাকালে দেখা যায় ইসলাম নারীকে পুরুষের চেয়ে বেশি অধিকার ও মর্যাদা দিয়েছেন ।বিষয়টি ভালোভাবে লক্ষ্য করার জন্য আমি কয়েকটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরতেছি ।
এক নম্বর/ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কন্যা সন্তানের ফজিলত বর্ণনা করেছেন ।যে ঘরে প্রথম কন্যা সন্তান হয় সে ঘরে আল্লাহর রহমত ও বরকত নাজিল হয় ।কিন্তু ছেলে সন্তান সন্তানের বেলায় এর ফজিলত ঘোষণা করা হয়নি ।
দুইনাম্বার/ ইসলামের বিধান অনুযায়ী ছেলে সাবালক হবার সাথে সাথে পিতার কাছ থেকে খোরপোষ প্রাপ্তির অধিকার হারায় ।তখন আর ছেলের অন্ন বস্ত্র বাসস্থানের ব্যবস্থা করা পিতার উপর ওয়াজিব থাকে না। যদি করেন সেটা পিতার অনুগ্রহ। পক্ষান্তরে মেয়ে সাবালক হবার পর পিতার কাছ থেকে খোরপোষ প্রাপ্তির অধিকার হারায় না। উপযুক্ত পাত্র পাত্র করা পর্যন্ত অন্ন বস্ত্র বাসস্থানের ব্যবস্থা করা পিতার উপর ওয়াজিব ।এক্ষেত্রে নারীকে পুরুষের চেয়ে বেশি অধিকার ও মর্যাদা দেয়া হয়েছে। যদি নারী পুরুষ সমান অধিকার হতো তবে নারীরা এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হতেন।
তিন নাম্বার / শান্তির ধর্ম ইসলামের বিয়ের বেলায় মেয়ের পিতার কোন খরচ এর জিম্মাদারী দেয়া হয়নি ।বরং বিয়ের সব খরচ ছেলের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে ।এমনকি বিয়ে করতে এলে মেয়ের সঙ্গে করে নিয়ে আসতে হবে এবং ছেলের দেয়া পোশাকে সজ্জিত করে বউ বানিয়ে নিয়ে যেতে হবে। বিবাহ উপলক্ষে নিমন্ত্রণ এর ব্যবস্থা করা ও মেয়ের পিতার দায়িত্ব নেই বরং ছেলে ছেলে পক্ষ ওলিমা তথা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করবেন। এক্ষেত্রে নারীকে পুরুষের চেয়ে বেশি সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়েছে ।যদি নারী পুরুষ সমান অধিকার হতো তবে নারীরা এই স্বতন্ত্র সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতেন ।
4 নাম্বার / ইসলাম নারীদের ওপর থেকে জীবিকা উপার্জনের কঠিন দায়িত্ব রোহিত করেছে ।একটি মেয়ে জন্মের পর থেকেই বিয়ে হওয়ার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত পিতা বা বড় ভাইয়ের দায়িত্বে থাকে ।সে সময় তার খোরপোষের ব্যবস্থা করা পিতা অথবা গায়ের ওপর ন্যস্ত থাকে। বিয়ের পর থেকে আজীবন তার ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করা স্বামীর উপর ওয়াজিব। কোন কারণে মেয়ের স্বামী মারা গেলে কিংবা মেয়ে তালাকপ্রাপ্তা হলে পুনরায় বিবাহ না হওয়া পর্যন্ত সেই মেয়ের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করা পিতা অথবা ভাইয়ের ওপর দায়িত্ব ।পক্ষান্তরে ছেলেরা সাবালক হওয়ার সাথে সাথেই পিতার কাছ থেকে প্রাপ্তির অধিকার হারায় হারায় ।সেই পিতামাতা এবং বিয়ের পর স্ত্রী-সন্তানের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব কাঁধে এসে পড়ে শুধু তাই নয় যদি কোন পুরুষ এমন অসহায় হয়ে পড়ে যে তার খোরপোষের ব্যবস্থা করার মতো কোনো সম্পদ না থাকে এবং সে যদি বার্ধক্য জনিত কারণে দুর্বল বিকলাঙ্গ অথবা অন্য যে কোন কারনে জীবন ধারণের জন্য উপার্জন করতে করতে সম্পূর্ণ রূপে অক্ষম হয়ে পড়ে তাহলে উক্ত অসহায় পুরুষের খোরপোষের ব্যবস্থা করা সরকারের দায়িত্ব ।
কিন্তু যদি কোন নারী দরিদ্র হয় এবং তার পিতা স্বামী বা এমন কেউ না থাকে যে তার খোরপোষের ব্যবস্থা করতে পারে তাহলে উক্ত নারীর জীবন ধারণের সকল উপকরণ নিজ দায়িত্বে সর্বহারা সরকারের অবশ্য। এ ক্ষেত্রে উক্ত নারীর দুর্বল হওয়ার শর্ত নেই সেনারি শক্তিশালী হোক না কেন কর্ম করার ক্ষমতা থাকলেও সেই অসহায় নারীকে দিয়ে কাজ করানো যাবে না ।বিনা শ্রমে তার যাবতীয় ব্যয়ভার সরকারকে বহন করতে হবে ।ইসলাম নারীদেরকে জন্মের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বিনাশ্রম ঘরে বসে আরাম আয়েশে খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে ।সেই সাথে নারীদেরকে উপার্জনের কঠোর জিম্মাদারী থেকে মুক্তি দিয়ে বেশি বেশি ইবাদত বন্দেগী করার সুযোগ করে দিয়েছে ।যদি নারী পুরুষ সমান অধিকার হত তবে নারীরা এই মর্যাদা অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন ।পুরুষ মহিলা উভয়ের পরকালীন জীবন যেন কল্যাণকর হয় সেজন্য দুজনেরই নেক আমল করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা জরুরি ।এ ক্ষেত্রে পুরুষের তুলনায় নারীরা নেক আমল করে সব অর্জন করা বেশি সহজ।
আজকে এখানেই শেষ করছি। আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু।

