উপমহাদেশ পূর্বের তুলনায় বহুলাংশে বিদ'আত মুক্ত হয়। বর্তমানেও এ আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। দ্বীনি শিক্ষার আলো বিবর্জিত কিছু কিছু অঞ্চল, অজ্ঞ পর্যায়ের কিছু কিছু সাধারণ মানুষ এবং অসৎ ও স্বার্থান্বেষী আলেমরা ব্যতীত প্রায় সর্বত্রই সুন্নতে নববীর উপলব্ধি আজ অনেকাংশেই সুস্পষ্ট।
ইলমীভাবে বিদ'আত সম্পর্কে সচেতন করার জন্য ওলামায়ে দেওবন্দ কর্তৃক বিদ'আতের স্বরূপ, উৎপত্তি, বিকাশ ও তার পরিণাম সম্পর্কে বহু বই পুস্তকও রচিত হয়। শাহ ওয়ালী উল্লাহ রাহ. রচিত আলবালাগুল মুবীন এ বিষয়ে একটি অনবদ্য গ্রন্থ। হযরত ইসমাইল শহীদ রাহ. সীরাতুল মুসতাকীম নামক গ্রন্থে তৎকালে প্রচলিত বিদ'আতের উপর বিস্তারিত আলোচনা করেন। হযরত থানভী রাহ, ভারতবর্ষের প্রচলিত বিদ'আতের উচ্ছেদ কল্পে বহু বই পুস্তক প্রণয়ন করেন, হিফ্যুল ইলাম ও আশরাফুল জাওয়ার বিদ'আত সম্পর্কে রচিত তাঁর বিশেষগ্রন্থ। তাছাড়া হযরত খলীল আহমদ সাহারানপুরী রচিত আল মুহান্নাদ আলাল মুফাননাদ, আল বারাহিনুল কাতেআহ, হযরত মাদানী রচিত আশশিহাবুস সাকিব, মাও: মনজুর নুমানী কৃত ফয়সালাকুন মুনাজারা, মুফতী সারফরাজ খান রচিত রাহে সুন্নাত, মুফতী আহমদ শফী রচিত 'আসসুন্নাহ ওয়াল বিদআহ' মাও: আবুল হাসান নদভী রচিত শিরক ও বিদ'আত ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
তাছাড়াও উলামায়ে দেওবন্দ তাদের ওয়াজ নসীহত বক্তৃতা বিবৃতির মাধ্যমে সর্বদাই উম্মতকে বিদ'আত ও কুসংস্কার সম্পর্কে সচেতন করে আসছেন। প্রয়োজনে বিদ'আতীদের সাথে বহস ও মুনাযারাও তারা সব সময় করে আসছেন। এ জন্য তাদেরকে বহুক্ষেত্রে জীবনের ঝুঁকি নিয়েও কাজ করতে হয়েছে। কিন্তু কোন অবস্থাতেই তারা বিদ'আত ও কুসংস্কারের সাথে আপোষ করেননি। বলতে গেলে বিদ'আতের বিরুদ্ধে আপোষহীন সংগ্রাম উলামায়ে দেওবন্দের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
পাশ্চাত্যের চিন্তাধারায় প্রভাবিতদের বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যার মুকাবেলা ঃ আল কুরআন হল দুনিয়ার মানুষের জন্য ঐশী দিক নির্দেশনা। এরই নির্দেশিত আদর্শের আলোকে পরিচালিত হবে মানুষের জীবন এটাই স্রষ্টার কাম্য। এর প্রতিটি বাক্যের বাচন ভঙ্গিতে রয়েছে ঐশী ব্যাপকতার মহামু'জিযা। এ ব্যাপকতার মাঝেও নিহিত রয়েছে মানুষের জন্য প্রভূত কল্যাণ । অত্যন্ত সংক্ষেপ; তাই ভাবার্থ উদ্ধার ও স্রষ্টার অভিপ্রেত ও কাঙ্খিত উদ্দেশ্য নির্ণয় এর ভাষা সাধারণ মানুষের কাজ নয়। এতে ভুলের সম্ভাবনা রয়েছে সমূহ। অনেক ক্ষেত্রে একটি নির্দেশ দেয়া রয়েছে কিন্তু তার প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি বর্ণিত হয়নি। সে সকল ক্ষেত্রে সেই নির্দেশের মর্মার্থ পর্যন্ত পৌছা মানুষের জন্য অসম্ভব বটে। এজন্যই মহান আল্লাহ তা'আলা এগ্রন্থ প্রেরণের সাথে সাথে এর মূল আদর্শ ও কাঙ্খিত ভাব ব্যাখ্যা করে দুনিয়ার মানুষকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য এ গ্রন্থের ব্যাখ্যাকার।
Comments
utopia

