বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহু।
প্রিয় সাথী বৃন্দ,
আশা করি আপনারা সবাই আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। আমিও আল্লাহর অপার কৃপায়, আপনাদের দোয়ায় অনেক ভাল আছি। আজকে আমি একটি মারাত্মক পাপ হয়, এমন একটা বিষয় নিয়ে আপনাদের সাথে কিছু কথা শেয়ার করব। বিষয়টি হলো "গীবত" । এই পোস্টে আপনাদের সকলকে স্বাগতম এবং অভিনন্দন।
গীবত একটা জঘন্যতম অপরাধ। ইসলাম ধর্মে গীবত গাওয়া একেবারে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গীবতকে ভয়ংকর পাপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যে পাপ বান্দার হকের সহিত সরাসরি সম্পর্কিত অর্থাৎ যার সম্পর্কে গীবত গাওয়া হবে, তার কাছ থেকেই মাপ নিতে হয়। অন্য কেউ মাফ করলে হবে না। এমনকি মহান আল্লাহ তাআলা এই গুনাহ মাফ করবেন না।
আসুন আমরা গীবত কাকে বলে একটু দেখে নেই। গীবত হলো কাহারো অনুপস্থিতিতে তার কথা, ভালো হোক অথবা মন্দ হোক, তাহা অন্যের কাছে প্রকাশ করা অর্থাৎ কারো অগোচরে তার দোষ অন্যের কাছে বর্ণনা করা। যা শুনে যার গীবত গাওয়া হলো তার মনে কষ্টের সৃষ্টি করে।
গীবত কত প্রকার তা আমাদের প্রথমে জানা উচিত। গীবত মোট চার প্রকার আর এই গীবত করতে তিনজন ব্যক্তি জড়িত থাকতে হয় অর্থাৎ তিন ব্যক্তির প্রয়োজন হয়। এই চার প্রকার গীবতের মধ্যে এক প্রকার গীবত সরাসরি হারাম। যা কুরআন ও হাদীসে নিষেধ করা হয়েছে। আর বাকি তিন প্রকার গীবত হালাল অর্থাৎ কোন প্রকার পাপ হবে না।
যে প্রকার গীবত হারাম বলে সাব্যস্ত করা হয়েছে। সেই গীবত সংক্ষিপ্ত আকারে আলোচনা করা যাক। যে গীবত গাওয়ার ফলে (গীবত করতে যে তিনজন ব্যক্তির প্রয়োজন হয়) এই তিনজন ব্যক্তির মধ্যে কাহারো, কোন প্রকার উপকার হয় না। শুধু অপকার হয়। এই প্রকার গীবত একেবারে হারাম।
হারাম গীবতের উদাহরণঃ ধরুন কোন ব্যক্তি চুরি করেছে। তাহা এক ব্যক্তি দেখেছে। এই কথা সে চা স্টলে গিয়ে সবার মাঝে বলিতেছে যে, অমুকের ছেলে আজকে চুরি করেছে। চা স্টলে অনেক মানুষের মধ্যে বলার কারণে ওই চোরের, যে গীবত করলো এবং যার চুরি করেছে, এই তিন ব্যক্তির মধ্যে কাহারো কোন উপকার হলো না। এখানে যে গীবতটা হলো তা একেবারে হারাম।
হালাল গীবত এর উদাহরণঃ ধরুন কোন ব্যক্তি তার পরিচিত একজন নেশাখোর, চোর, বখাটে ছেলে তার প্রতিবেশী মেয়ের বিবাহের জন্য দেখতে এসেছে। তখন ঐ ব্যক্তি তার প্রতিবেশীকে ডেকে নিয়ে ঐ ছেলের যাবতীয় দোষ ত্রুটি বলে দিল এবং বিবাহ হলো না। এতে কিন্তু সে ওই ছেলের গীবত করল কিন্তু তারপরেও তার কোন পাপ হবে না কারণ এখানে ওই মেয়েটার অর্থাৎ তার প্রতিবেশীর অনেক বড় উপকার করলো। এরকম উপকার তিনজন ব্যক্তির মধ্যে যে কোন একজনের হলেই সেই গীবত অবশ্যই হালাল হবে, আর এই গীবত করা যাবে, কোন প্রকার পাপ হবে না।
তাই আমাদের সবার উচিত, হালাল গীবত গুলো গাওয়া কোন প্রকার দোষ নেই। এতে আরো মানুষের উপকার হবে। কিন্তু যে গীবত করলে মানুষের অপকার হয় অর্থাৎ কোন প্রকার উপকার হয় না অর্থাৎ এই গীবত হারাম। এই প্রকার গীবত হতে আমরা সবাই সাবধান থাকি। পরে আমরা অন্য কোন পোস্টে গীবতের ভয়াবহতা এবং গীবতের শাস্তি এবং গীবতের প্রতিকার নিয়ে কথা বলব ইনশাল্লাহ। আজকের মত এখানেই শেষ করছি, আল্লাহ হাফেজ

Comments