বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
প্রিয় সাথী বৃন্দ, আজকে আমি মানুষের দশ প্রকার দোষের মধ্যে একটি দোষ হলো অহংকার। যে দোষ থাকলে মানুষ কখনোই উত্তম মানুষ হতে পারেই না। এই অহংকার অত্যন্ত জঘন্যতম অপরাধ। অহংকারী সর্বসময় আত্ম রোগে ভোগে। সে কখনো স্বস্তি পায় না শান্তি পায় না অস্বস্তিতে সর্বসময় তার কেটে থাকে।
অহংকার আসলে কি জিনিস এটা আগে আমরা প্রথমে জানি। আমি অন্যর চেয়ে ভালো আমি নামাজ পড়ি আমিও রোজা রাখি আমি ধান সদগা করি মানুষকে উপকার করি আমাকে অনেক সুন্দর দেখায় আমি ধনী ইত্যাদি মনের মধ্যে জল্পনা কল্পনা এবং প্রকাশ্যে বলে বেড়ানো অন্যের সাথে কম্পেয়ার করা এগুলোই হল অহংকার।
মহান আল্লাহ তা'আলা অহংকারকে হারাম করেছেন এবং তার বান্দাদের অহংকার করতে নিষেধ করেছেন কঠোরভাবে এছাড়াও প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অহংকার কে পতনের মূল বলেছেন। এছাড়াও হাদিসে আসছে অহংকারী ব্যক্তি কখনোই ভেস্তে প্রবেশ করতে পারিবে না। এক বিন্দু অহংকার থাকা অবস্থায় কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। এছাড়া আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দীর্ঘ ২৩ বছরে এই অহংকার সম্পর্কে অনেক কথাই বলেছেন এবং তার উম্মতদেরকে সতর্ক করেছেন এবং এবং এই অহংকার করতে একেবারেই নিষেধ করেছেন।
একমাত্র হাফেজদের অর্থাৎ কোরআন পড়নেওয়ালার সাথে অহংকার করা জায়েজ এ ছাড়া কোন ক্ষেত্রেই অহংকার করা জায়েজ না সব হারাম বলে উল্লেখিত আছে কোরআন এবং হাদিসে।। আমরা এখন দু একটি অহংকার এর উদাহরণ পেশ করব।
প্রথমে আমরা বলি যে দিনের মধ্যে যে অহংকার গুলো রয়েছে সেগুলো আগে আলোচনা করি। আমি মুসলিম আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি এখন যদি কোন ব্যক্তি বলে বেড়ায় যে ও তো নামাজই পড়ে না আর আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি এটাও অহংকার হবে কারণ এই নামাজ পড়ার তৌফিক একমাত্র আল্লাহতালা তাকে দিয়েছেন তাকে বেনামাজিও বানাতে পারতেন এটা আল্লাহর অনুগ্রহ ও মেহেরবানী এই ব্যাপারে মহান আল্লাহতালাকে প্রশংসা জানানো উচিত আমার তো অহংকার করার কিছুই নেই কারণ আল্লাহ তৌফিক দিয়েছেন বিধায় আমি নামাজ পড়তে পেরেছি। এরকম আমি সুন্দর আমাকে সুন্দর করে তৈরি করা হয়েছে এই সুন্দর এবং এই সৌন্দর্যর কোন বড়াই করা আমার পক্ষে একেবারে ঠিক নয় কারণ মহান আল্লাহতালা মুহূর্তের মধ্যে আমাকে অসুন্দর করে দিতে পারেন। যেমন এক্সিডেন্ট হয়ে চেহারা নষ্ট হয়ে যেতে পারে হাত-পা হারাতে পারে চোখ কানা হয়ে যেতে পারে ইত্যাদি ইত্যাদি হতে পারে যে কোন মুহূর্তেই এখন আমরা ভালো আছি আল্লাহ ভালো রেখেছেন এটা আমার কোন কৃতিত্ব নাই এটা মহান আল্লাহতালা আমাকে ভালো রেখেছেন এটা প্রশংসার দাবিদার একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালা এই ব্যাপারে অহংকার করার কোন প্রকার একতিয়ার নেই বা অধিকার নেই। এছাড়াও আমি উচ্চ আলেম, বড় আলেম, আমি মুফতি, আমি মহাদ্দেস, ইত্যাদি ডিগ্রী অর্জিত হতে পারে তাই বলে অহংকার করার কিছুই নেই কারণ আমি এগুলো হতে পারি নাই মহান আল্লাহতালা আমাকে জ্ঞান দিয়েছেন স্মৃতিশক্তি বাড়ায় দিয়েছেন সেজন্য আমি মুফতি ও মোহাদ্দেস হতে পেরেছি তাছাড়া আমার নিজের কোন কৃতিত্ব দিয়ে হতে পারি নাই কারণ জ্ঞান মহান আল্লাহতালা আমাকে দিয়েছেন বুদ্ধি মহান আল্লাহতালা আমাকে দিয়েছেন সত্যি মহান আল্লাহতালা আমাকে দিয়েছেন এগুলো না দিলে তো আমি কখনই এগুলো হতে পারতাম না অর্থাৎ প্রশংসার দাবিদার অহংকার একমাত্র আল্লাহ তায়ালার আমরা বিন্দু পরিমানও এ ব্যাপারে অহংকার করিতে পারি না। আমি হাজী তাই বলে এটা অহংকার করার কিছুই নেই কারণ মহান আল্লাহতালা আমাকে সুস্থ রেখেছেন সম্পদ দিয়েছেন এবং মক্কা পর্যন্ত যা তৌফিক ও দিয়েছেন আমি নিজে সুস্থ থাকতে পারিনা সম্পদ অর্জন করতে পারিনা এবং চলাফেরা করতে পারিনা যদি মহান আল্লাহতালা আমাকে চলতে না দেন তাই বলে অহংকার করার তো কিছু নেই কারণ হজ করা ৌফিক একমাত্র আল্লাহ্ তায়ালা দিয়েছেন । অহংকার একমাত্র আল্লাহ তায়ালাই করতে পারেন এটা তাহারি মানায় আমরা অহংকার করতে পারি না। আমাদের সমাজে এবং আমাদের দেশে এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছে লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি টাকা রয়েছে কিন্তু সে হজ করতে পারে না আল্লাহ তাকে তৌফিক দান করেন না। অথচ একজন রিক্সাওয়ালা একজন নিঃস্ব অসহায় মানুষও হজ করিতেছেন এটা অবশ্যই মহান আল্লাহ তাআলার দয়া এবং মেহেরবানী ছাড়া আর কিছুই নয়। তাইতো হাজী বলে অহংকার করা একেবারেই বোকামি নিরর্থক। আমি দিনের কাজ করি তাই বলে অহংকার করা যাবে না কারণ যে ব্যক্তি নামাজ পড়ে না রোজা রাখে না দ্বীনের কাজ করে না সেই ব্যক্তি যদি আল্লাহ তাআলার কাছে চোখের পানি ফেলে যদি দোয়া করে এবং খাঁটি তওবা করতে পারে তবে আল্লাহ তা'আলা তাকে মাফ করতে পারে আর আমি নামাজ পড়ি রোজা রাখি হজ করি যাকাত করে দেই তাই বলে আমি যে পার পেয়ে যাবো এমন তো নয় কারণ মহান আল্লাহতালা আমাকে যদি ক্ষমা না করেন আমাকে যদি মাফ না করেন আমাকে যদি নাজাত না দেন আর যে নামাজ পড়ে না রোজা রাখে না হজ করে না যাকাত দেয় না তাহাকে যদি আল্লাহতালা মাফ করে দেন তবে তো আমার করার কিছুই নেই তাই বলে আমরা অহংকার কেন করি অহংকার করা একেবারেই ঠিক নয়। এরকম হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ উদাহরণ রয়েছে আমাদের সমাজে।
অহংকারী শাস্তিঃ অহংকারীর প্রথম শাস্তি হইলো সে আন্তরিকভাবে কখনোই শান্তি পাইবে না সর্বসময় অস্বস্তিতে ভুগবে। এছাড়াও মহান আল্লাহ তায়ালা অহংকারী ব্যাপারে অনেক শাস্তির কথা বলা হয়েছে এছাড়াও হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর মুখোশ্রিত বাণী হাদিসেও অহংকারী সম্পর্কে অনেক শাস্তি এবং ভয়ের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে দু চারটি আপনাদের সামনে তুলে ধরছি। অহংকার যে করবে তার পতন অবশ্য ভাবী হবেই হবে। অহংকারী কখনোই ভেস্তে প্রবেশ করিতে পারবে না। এক বিন্দু পরিমাণ অহংকার থাকলেও সে ভেস্তে প্রবেশ করতে পারবে না। এছাড়াও অহংকারীকে কেউ ভালবাসে না সবাই তাকে মন্দ ভাবে মন্দ বাসে। অহংকারী ব্যক্তি কখনো মানুষের উপকার করতে পারে না মানুষের ভালো দেখতে পারেনা মানুষকে সুন্দর চোখে দেখতে পারেনা। এই অহংকারী ব্যক্তি যেখানে যায় যেখানে পদার্পণ করুক না কেন যেখানে আগমন করুক না কেন সবাই তাকে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে নিন্দা জানাই থাকে।
অহংকার দূর করার উপায়, আমরা মানুষ আমাদের পিছনে শয়তান লেগে আছে। শয়তান সবসময় চায় আমরা যেন জান্নাতে না যেতে পারি আল্লাহ সন্তুষ্টি অর্জন করতে না পারি এবং প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সঃ এর আদর্শ গ্রহণ না করি। তাইতো সারারাত দিন ২৪ ঘন্টা শয়তান আমাদের পিছনে লাগিয়ে থাকে এবং আমাদেরকে ভাল কাজ থেকে দূরে রাখে মন্দ কাছে উদ্বুদ্ধ করে। তাইতো আমাদের সতর্ক থাকতে হবে যেন অহংকার আমাদের ভিতরে প্রবেশ করতে না পারে আর যদি ভিতরে প্রবেশ করেই থাকে তবে তা দূর করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে। আমাদের একটা কথাই ভাবতে হবে সর্ব প্রশংসার মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা তাছাড়া আমার কোন প্রকার প্রশংসা পাওয়ার অধিকার নেই। কারণ সমস্ত সম্পদের মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা আমরা পৃথিবীতে সবাই ফকির আর ফকিন্নি। আমরা কেহই সম্পদের মালিক নয় এটা হল ক্ষণস্থায়ীভাবে মহান আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে দান করেছেন এবং মুহুর্তের মধ্যে আবার ছিনিয়ে নিতে পারেন। তাইতো আমাদের একমাত্র ভাবতে হবে সবার থেকে নিকৃষ্ট আমি সবাই আমার থেকে অনেক উত্তম এবং ভালো সবাইকে আল্লাহতালা মাফ করে দিতে পারেন আমাকে আল্লাহ তা'আলা নাও মাফ করতে পারেন। তাইতো সব সময় ভয়ে থাকতে হয় হে আল্লাহ তুমি আমাকে ক্ষমা করিও তুমি আমাকে মাফ করিও অহংকার একমাত্র আপনারই অধিকার আমরা কখনোই অহংকার করতে পারি না পারব না কারণ এই হাত আমার এ কথাও আমরা বলতে পারি না কারণ এই হাতে প্যারালাইসিস হইলে এই হাত আর আমার কথা শোনে না এই পাও আমার এই কথা আমরা বলতে পারি না কারণ এই পায়ে প্যারালাইসিস হলে এই পাওয়ার আমার কথা শুনে না এই চোখ আমার এ কথা আমি বলতে পারি না কারণ এই চোখ নষ্ট হলে আমি আর দেখতে পারি না । এই ব্রেন আমার এ কথা আমি বলতে পারি না কারণ জ্ঞান বিকৃত হলে আমি আর আমার নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারি না আমি আবোল তাবোল বলতে থাকি। এই পেট আমার এ কথাও আমি বলতে পারি না কারণ এই পেট খারাপ হলে আমি আর ভালো করতে পারি না। এই জীবন আমার এ কথাও আমি বলতে পারি না কারণ এই যৌবন নিঃশেষ হয়ে গেলে আমি আর আমার জীবনের শক্তি ফিরে আনতে পারি না। আমি একটা সামান্য আল্লাহর বান্দা ছাড়া আর কিছুই নয় আল্লাহর অনুগ্রহ আল্লাহর দয়া আল্লাহর মেহেরবানী আল্লাহর হেফাজত আল্লাহর সর্বপ্রকার সাহায্য নিয়ে আমি পৃথিবীতে আছি থাকি এবং আবার আমাকে চলে যেতে হবে। এই সংক্ষিপ্ত জীবনের আমার আর কি অহংকার থাকতে পারে আমার আর কি তাকাব্বালি থাকতে পারে।
আসুন আমরা নিজেকে অহংকার মুক্ত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করি এবং মহান আল্লাহ তাআলার হুকুম পালন করি এবং প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ গ্রহণ করি তবে আমরা পরকালীন জিন্দেগীতে পরম সুখে জিন্দেগীতে পরম শান্তির জিন্দেগীতে প্রবেশ করতে পারব ইনশাআল্লাহ আল্লাহ হাফেজ।



আপনার পোস্ট @sereybd দ্বারা কিউরেট করা হয়েছে। Serey Bangladesh কমিউনিটিতে পোস্টটি শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ
realsort-elyas দ্বারা ম্যানুয়ালি কিউরেট করা হয়েছে
নবী করীম (সা) অহংকারী ব্যক্তিকে কঠোর সাবধানতা অবলম্বন করেছেন।