আমাদের কলেজ অর্থাৎ কুড়িপাড়া আলহাজ্ব মোহাম্মদ নাসিম মডেল কলেজ এর সম্পর্কে কিছু তথ্য এবং কলেজের কিছু ফটোচিত্র।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
হ্যালো বন্ধুরা আজকে আমি ওদের কলেজ নিয়ে কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করব এই পোস্টটা আপনাদের সকলকে স্বাগতম এবং অভিনন্দন।
আমাদের কলেজের নাম কুড়িপাড়া আলহাজ্ব মোহাম্মদ নাসিম মডেল কলেজ। কলেজটা ইন্টারমিডিয়েট পর্যাযয়ের। ডিগ্রি খোলার জন্য চেষ্টা চলছে হয়তোবা একদিন সম্ভব হয়ে যাবে। কলেজটা এমপি হয়েছে ২০১৬ পহেলা মার্চ। প্রায় ছয় বছর কলেজ স্টার রেজাল্ট এমন একটি পর্যায়ে চলে গেছে যা আশেপাশে যতগুলো কলেজ রয়েছে সবগুলো কলেজের মধ্যে কুড়িপাড়া আলহাজ্ব মোঃ নাসিম মডেল কলেজের রেজাল্ট সবচাইতে ভালো।
কুড়িপাড়া আলহাজ্ব মোঃ নাসিম মডেল কলেজ এর অবস্থানঃ কুড়িপাড়া আলহাজ্ব মোহাম্মদ নাসিম মডেল কলেজস্ট ী বাংলাদেশ এর মাঝে রাজশাহী বিভাগের সিরাজগঞ্জ জেলার সদর থানায় অবস্থিত। এই সদর থানার ঠিক উত্তরে একটি পদান্ত গ্রাম যে গ্রামে ক্যাপ্টেন মনসুর আলী জন্মগ্রহণ করেছিল। সেই কুড়িপাড়া গ্রামের এই আলহাজ্ব মোঃ নাসিম মডেল কলেজটির অবস্থিত। এই গ্রামের ঐতিহ্য বলতে শুধু ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এর জন্মস্থান এমনকি তার সুযোগ্য পুত্র আলহাজ্ব মোঃ নাসিম এর জন্মস্থান। আর সেই গ্রামে এই কলেজটি অবস্থিত।
নামকরণঃ কলেজটির পূর্বের নাম ছিল কুড়িপাড়া কলেজ। আর এই কুড়িপাড়া কলেজ নামিক কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কিন্তু আলহাজ্ব মোহাম্মদ নাসিম সাবে ক স্বরাষ্ট্র টেলি যোগাযোগমন্ত্রী তিনি করোনা রোগে মারা গিয়েছেন প্রায় দু'বছর আগে। আর তিনি মারা যাওয়ার পরে তার নাম কি অভিস্মরণীয় রাখতে তার ছেলে উদ্যোগ নেয় যে এই কলেজটির নাম যদি তার বাবার নামে করা হয় তবে আজীবন তার বাবার নামটি সবাই স্মরণ করবে। আর সেই কারণেই উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং বিভিন্ন চেষ্টা তদবির এবং দৌড়াদৌড়ি পরিশ্রম এরপরে কলেজটির তার বাবার নামে করা সম্ভব হয়েছে। এখন অর্থাৎ দুই হাজার বাইশ সালের প্রথমদিকে তার নামটি কলেজের সংযোগিতা হয় এখন কলেজটির নাম হল কুড়িপাড়া আলহাজ্ব মোহাম্মদ নাসিম মডেল কলেজ।
কলেজটির অবকাঠামোঃ আগে এই কলেজটির অবকাঠামো অত্যন্ত বঙ্গদর্শন ছিল অর্থাৎ কলেজটি প্রথম দিকে প্রিয় নেতা আথার জনগণের নেতা আলহাজ্ব মোঃ নাসিম এমপি উক্তি করে দিয়েছিলেন এবং সেই সময় অর্থাৎ বিএনপির আমল আসার সাথে সাথে মোঃ টুকু এমপি সেই কেটে দিয়েছিলেন অর্থাৎ স্থগিত করেন। এরপর এই কলেজটি হাইকোর্টে তাদের স্থগিত এমপিও বল রাখার জন্য মামলা করেন। মামলা করার পর হাইকোর্ট রাইডায় এবং এমপিও পূর্ণ বহালের জন্য। এরপর কলেজ স্ট্রিট এমপি এর পূর্ণ বহন করা হয় এবং সব শিক্ষকের বেতন একসাথে হয়ে যায়। এমপি হওয়ার পর কলেজটির অবকাঠামোর দিকে নজর দেয় বিভিন্ন মহল। এখন বর্তমান কলেজটির যে অবকাঠামো রয়েছে তা আমি ছবিগুলো শেয়ার করব আপনারা সবাই দেখবেন এছাড়া আমি কিছু বর্ণনা দেই বর্ণনা হলো এখন আমাদের এই কলেজটির টিনসেট দুইটি ঘর করা রয়েছে এবং এর পাশাপাশি আরো একটি ঘর রয়েছে যেগুলোতে প্রায় 15 থেকে 20 টি রুম রয়েছে। এছাড়াও একটি বড় বিল্ডিং একতলা হিসেবে আমাদের কলেজে হয়েছে যেটা ধীরে ধীরে চারতলা পর্যন্ত এক্সটেনশন করা হবে। এছাড়াও কলেজের লাইব্রেরি রয়েছে লাইব্রেরীতে প্রায় তিন থেকে পাঁচ হাজারের মতো বই রয়েছে যেখানে ছাত্র-ছাত্রী নির্দ্বিধায় বিভিন্ন বই বিভিন্ন উপন্যাস বিভিন্ন গল্প বিভিন্ন হাদিস ইত্যাদি পড়তে পারে।
এছাড়াও কলেজের সংস্কৃতি জন্য ঢোল তবলা আরো যা যা থাকা দরকার সেগুলো রয়েছে যা ছাত্রছাত্রী খেলাধুলা করতে পারে। এছাড়াও খেলাধুলার আরো অনেক সামগ্রী আমাদের রয়েছে যেগুলো লাইব্রেরীতে রয়েছে ছাত্র-ছাত্রী যখন মনে করে অর্থাৎ যখন টাইম দেওয়া হয় তখন তারা সেগুলো নিয়ে খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকে। এছাড়াও কলেজে ওয়াইফাই লাইন রয়েছে যেগুলো থেকে শিক্ষকগণ ইন্টারনেট সুবিধা পেয়ে থাকে। কলেজটির চারপাশে সবুজ মনোরম পরিবেশ এবং রাস্তার পাশে অবস্থিত রাস্তা থেকে প্রায় দেড়শো গজ ভিতরে তবে রাস্তা থেকে কলেজ পর্যন্ত একটা পাকা রাস্তা রয়েছে এমনকি রাস্তার পাশে আমাদের কলেজের একটা বড় গেট রয়েছে।
কলেজে পঠিত বিষয়সমঃ আমাদের কলেজে প্রায় ১৯ টি সাবজেক্ট রয়েছে এবং একটি সাবজেক্ট নতুন এই বছর অর্থাৎ ২০২২ এর শেষের দিকে সংযোজিত হলো। বসে সংযোগিতা হওয়া সাবজেক্টটি হল কৃষিবিজ্ঞান। এ ছাড়া আমাদের এই কলেজের তিনটি গ্রুপ সচল রয়েছে এবং প্রত্যেকটি গ্রুপের 150 টি করে সিট রয়েছে। জন বিজ্ঞান গ্রুপ রয়েছে বিজ্ঞান গ্রুপে সাবজেক্ট রয়েছে গণিত রসায়ন পদার্থ বায়োলজি এর পাশাপাশি ছাত্ররা চতুর্থ বিষয় হিসেবে মনোবিজ্ঞান নিতে পারে আর এই বছর থেকে কোন ছাত্রছাত করলে কৃষিবিজ্ঞানও নিতে পারবে। এই গ্রুপেও দেড়শটি সিট রয়েছে এখন বর্তমান সায়েন্স গ্রুপের ছাত্র-ছাত্রী উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে অর্থাৎ ছাত্রসংখ্যা অনেক হতে চলেছে।
এছাড়াও কমার্স গ্রুপ রয়েছে যে গ্রুপে সবগুলো সাবজেক্ট রয়েছে তবে হিসাববিজ্ঞান ম্যানেজমেন্ট উৎপাদন এবং চতুর্থ বিষয় হিসেবে মনোবিজ্ঞান এবং কৃষি নিতে পারবে।
আর এই ক��ার্স গ্রুপেও দেড়শ টি সিট রয়েছে তবে এই গ্রুপে ছাত্রছাত্রী উল্লেখযোগ্য হারা কমছে কারণ এখন ছেলে মেয়ে কমার্সের দিকে দিকে খুবই কম ঝুকছে।
এছাড়াও আমাদের মানবিক গ্রুপ রয়েছে যে গ্রুপে অনেকগুলো সাবজেক্ট রয়েছে যেমন পৌরনীতি সমাজবিজ্ঞান যুক্তিবিদ্যা ইতিহাস ইসলামী ইতিহাস ইসলাম শিক্ষা ,সাসিবিক শিক্ষা। এই সাবজেক্টে এখন বিলোক্তি প্রায় এ সাবজেক্টও পরিবর্তে আর কোন সাবজেক্ট এখন আসে নাই তবে এই সাবজেক্টের শিক্ষক রয়েছে সে শিক্ষকটি কলেজের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে। এইবার অর্থাৎ ২০২১ সালের দেড়শটি শিট প্রায় সবগুলো ফিলাপ হয়েছে এমনকি অতিরিক্ত ছাত্রছাত্রীদেরকে আমরা ভর্তি করিতে পারি নাই। এই হলো আমাদের কলেজের সাবজেক্ট এবং গ্রুপসমূহ।
শিক্ষক মন্ডলীঃ কুড়িপাড়া আলহাজ্ব মোহাম্মদ নাসিম মডেল কলেজ এর শিক্ষক সমূহ তরুণ প্রজন্মের অর্থাৎ সবার বয়স কম ২৪ জন শিক্ষক একটু বেশি বয়সের। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ শিক্ষক থাকার কারণে পড়াশোনার মান অত্যন্ত ভালো যা ভালো রেজাল্ট করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। আমাদের এই শিক্ষকগুলো কলেজে নিয়মিত আসে এবং নিয়মিত ক্লাস নিয়ে থাকে এবং সবকিছু বিষয় সুন্দর সাবলীল ভাবে ছাত্রছাত্রীকে পাঠদান করে থাকে। এ ছাড়া আমাদের কলেজের একজন প্রিন্সিপাল রয়েছে যিনি সৃজনশীলতায় বিশ্বাসী সে কলেজের ডেকোরেশনের দিকে ভালো মনোযোগী সে কারণে কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন ভালোভাবে হচ্ছে। আশা করা যায় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কলেজের আরো অনেক অবকাঠামো হবে কলেজ আরো উন্নত হবে।
কলেজের অর্থনৈতিক অবস্থাঃ প্রথম দিকে কলেজের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো ছিল না অর্থাৎ অর্থ বিভিন্নভাবে সংগ্রহ করা হতো শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের থেকে ইত্যাদি ভাবে আর বর্তমান কলেজের অর্থনীতি অবস্থা অনেক ভালো যা কলেজের আয়ফান্ড থেকেই অর্জিত হয়ে থাকে।
বর্তমানে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় যে পরিমাণ পরিবর্তন হচ্ছে তাতে শিক্ষার অমল পরিবর্তন হবে এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আর শিক্ষার পদ্ধতি যদি উন্নত হয় তবে কলেজে শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়ন হবে এবং ছাত্র ছাত্রী আরো ভালো করবে ভালো পড়াশোনা করবে ভালো রেজাল্ট করবে অর্থাৎ বাংলাদেশের শিক্ষার হার বেড়ে যাবে আর শিক্ষার হার বাড়লে একটি দেশের উন্নয়নের পথ অত্যন্ত সুগম সহজ হয়।
বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রী ড দীপু মনি যেভাবে শিক্ষার কার্যক্রম প্রণয়ন করছে তাতে যদি সেটা বাস্তবায় রূপ নেয় অর্থাৎ প্রতিফলন ঘটানো যায় প্রত্যেকটি কলেজে প্রত্যেকটি স্কুলে প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানে তাহলে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক উন্নত হবে এবং উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলা সম্ভব হবে। আর সেই জন্য শুধু সরকারকে এ��িয়ে আসলেই হবে না সাথে সাথে আমাদের প্রত্যেকটি শিক্ষক সমাজকে আন্তরিকতার সহিত এগিয়ে আসতে হবে শুধু এগিয়ে আসলেই হবে না আন্তরিকতার সহিত কাজ করতে হবে আর এই কাজ করার ফলে বর্তমান শিক্ষা পদ্ধতিতে প্রণয়ন করা হচ্ছে তা বাস্তবে রূপ নেবে। তবে এখানে আমাদের গার্জিয়ান যারা রয়েছে তারাও সমানভাবে ভূমিকা রাখতে হবে সন্তানদের পড়াশোনা ঠিকমতো হচ্ছে কিনা বা সন্তানরা মন্দ অভ্যাসে পরিণত হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। যদি একটি বাপ মাও অর্থাত তার গার্ডিয়ান তার সন্তানদের প্রতি যদি সুনজ রাখে অর্থাৎ তদারকি ঠিকমতো করে তাহলে ওই ছাত্র বা ঐ ছাত্রী বিপদের যেতে পারে না সে অবশ্যই পড়াশোনা করবে আর ভালোভাবে পড়াশোনা করলে তার রেজাল্ট ভালো হতে বাধ্য আর রেজাল্ট যদি ভালো হতে বাধ্য হয়, ভালো হয়ে যায়। ছাত্র-ছাত্রী জুল রেজাল্ট ভালো হয়ে যায় তাহলে অবশ্যই কলেজের সুনাম হবে আর কলেজ যদি সুনাম হয় তবে বাংলাদেশ সরকার যে শিক্ষা পদ্ধতি প্রণয়ন করছে তা বাস্তবে রূপ নিবে।
আজকে এ পর্যন্তই আবার অন্য কোন বিষয় নিয়ে আমরা পোস্ট করব ইনশাল্লাহ পোস্টটি পড়ার জন্য সকলকে ধন্যবাদ বিদায় আল্লাহাফেজ।



কলেজের কথা গুলা অনেক ভালো লাগো