সদা সত্য কথা বলি মিথ্যা কথা থেকে বেঁচে থাকি।
প্রিয় সাথী বৃন্দ, আজকের এই সকালের শীতকালের অগ্রিম শুভেচ্ছা এবং স্বাগতম। আজকের এই সকালে আশা করি আপনারা সবাই খুব ভালো আছেন সুন্দর আছেন সুস্থ আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে অনেক ভাল আছি সুস্থ আছি।
আজকে আমি সত্য কথা বলা মিথ্যা কথা না বলা এ বিষয়ে কিছু আলোচনা করব ইনশাল্লাহ এই পোস্টটা আপনাদের সকলকে স্বাগতম এবং অভিনন্দন।
সত্যের জয় চিরদিনই হয় মিথ্যা একদিন না একদিন বিলুপ্ত হয়। সত্য ধ্রুব তারার মতো মিটমিট করে জ্বলতেই থাকে আর মিথ্যা সূর্যের মতো হলেও একসময় তা নিভে যায়। সত্যের জয় চিরদিনই হয় মিথ্যা কখনো সত্যর কাছে টিকে থাকতে পারে না। সত্য সবসময় সফলতা পেতে থাকে আর মিথ্যার সব সময় মিথ্যার গ্লানি বরণ করে নিতে হয়।
সত্য কথা বলার সাহসঃ সত্য কথা বলার সাহস পাব কোথা থেকে সে বিষয়ে কিছু কথা না বললেই নয়। আগে আমাদের ধর্মের দিকে তাকাতে হবে আমাদের ধর্মে কি বলেছে সত্য মিথ্যা সম্পর্কে। আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সঃ আঃ তিনি জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একটি শ্রেষ্ঠ উপদেশ দিয়েছেন যে তোমরা সবসময় সত্য কথা বলো। কারণ সত্য বললে সবকিছু সহজ হয় টিকে থাকা যায়। এ ব্যাপারে আমাদের প্রিয় নেতা হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনাদর্শায় অনেক উদাহরণ রয়েছে। আমাদের পবিত্র কোরআনে সদা সত্য কথা বলতে বলেছেন মহান আল্লাহ তাআলা এছাড়াও পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করা হয়েছে চার শ্রেণীর মানুষ আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়। তার মধ্যে একজন হল সিদ্দিক অর্থাৎ সত্যবাদিতা। সত্য মানুষকে জান্নাতে দিকে নিয়ে যায়। এখন আমাদের ভালোভাবে জানা উচিত যে সত্য কথা বললে আল্লাহ খুশি হন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুশি হন এবং এই সত্য কথা আমাদের জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়। তাই আমাদের মনের সাহস শক্তি এখান থেকেই আমরা পাই যে সদা সত্য কথা বলব তাহলে আমাদের ভবিষ্যত খুবই উজ্জ্বল অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা ভালোবাসবেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম খুশি হবেন এবং আমাদেরকে জান্নাতের দিকে এই সত্য নিয়ে যাবে। তাহলে আমরা সত্য কথা, সদা সত্য কথাই বলব। আমাদের ধর্মীয় অনুমতি ধর্মীয় যে আদেশ সেখান থেকে আমরা মূল শক্তি অর্জন করব সত্য বলার সাহস।
এছাড়াও আমরা বাস্তব জীবনে দেখতে পাই যে সদা সত্য কথা বললে অনেক বিপদ আপদ থেকে হেফাজত থাকা যায়। অনেক অনেক পাপ কাজ হতে বেঁচে থাকা যায়। যেমন উদাহরণস্বরূপ যদি আমরা বলি কোন চোর যদি চুরি করে আর সে যদি মিথ্যা কথা না বলে অর্থাৎ সদা সত্য কথা বলে তাহলে সে অবশ্যই ভেবে নেয় যে আমি চুরি করেছি আর এ ব্যাপারে যদি আমি সত্য কথা বলি তাহলে লোকে কি বলবে সবাই তো জেনে যাবে অতএব আমি আর চুরি করবো না কারণ আমার যে সত্য কথা বলতে হবে। তাই একজন চোরও যদি হয় তাহলে সে সত্য কথা বলার কারণে চুরির অভ্যাসে পরিত্যাগ করা অত্যন্ত সহজ হয়। এছাড়াও যদি কেহ পরকীয়া আসক্ত হয় আর সে যদি সত্যবাদী হয় তাহলে তে তার পরকীয়া অভ্যাস একদিন চলে যাবে। অর্থাৎ যত বড় দোষই থাকুক না কেন যতবারই অপরাধ থাকুক না কেন সেই ব্যক্তি যদি হজম করে নেয় আমি সদা সত্য কথা বলব তাহলে সে মন্দ কাজ কখনই করতে পারবে না আর করলেও তা অবশ্যই অতি শীঘ্রই ছেড়ে দিতে বাধ্য হবে।
তাই সত্য কথা বললে বিভিন্ন প্রকার বিভিন্ন পাপ থেকে অনায়াসে বেঁচে থাকা সম্ভব হয়।
সত্যবাদীতার সম্মানঃ আমরা বাস্তব জীবনে দেখি যদি কেউ সত্যবাদী হয়ে থাকে তবে তাকে আবাল বিদ্যাবণিতা সবাই তাকে সম্মান করে। তাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করে ভক্তি করে। তার প্রতি মানুষের গভীর আস্থা তৈরি হয়। কোন কোচির ব্যাপারেই তার সম্পর্কে কেউ ভয় পায় না। সত্যবাদী মানুষ যেখানেই যাক না কেন সেখানেই সে নির্দ্বিধায় সত্য কথা বলতে থাকে আর এ কারণে ও কিছু মানুষ যদি তার প্রতি বিরক্ত হয়ো তবে অধিকাংশ মানুষ তার প্রতি সন্তুষ্ট হয় এমনকি যারা বিরক্ত হয়েছিল তারাও একদিন তার প্রতি সন্তুষ্ট বা খুশি হয়ে যায়। তেমনি পিতা-মাতাও যদি তার কোন সন্তান যদি সত্যবাদী হয় তবে তার প্রতি পিতামাতার ভক্তির শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা অনেক গুণ বেড়ে যায় তারা গর্ব ভরে বলতে থাকে আমার এই সন্তান সত্যবাদী কখনো মিথ্যা কথা বলে না। দুনিয়াতে তো সত্যবাদীতার অনেক সম্মান কিন্তু আখিরাত জীবনেও সত্যবাদিতার মুক্তি অনিবার্য। তার প্রতি মহান আল্লাহতালা খুশি থাকেন এবং আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু অত্যন্ত খুশি থাকেন এবং শাফায়েত করে করবেন এছাড়াও ফেরেশতাকুল এবং প্রতিটি মাখলুক তাকে অত্যান্ত ভালবাসে এবং তার প্রতি খুশি থাকেন।
সত্যবাদীতার উপকারিতাঃ কেউ যদি সত্যবাদিতা অর্থাৎ সত্য কথা সর্বদা বলে এবং সে যদি সমাজে সত্যবাদিতা হিসেবে পরিচিত হয়ে যায় তবে তার অনেক উপকারিতা রয়েছে। সে যদি কোন বিপদ-আপদে পতিত হয় তবে সবাই তাকে সহযোগিতার হাত বাড়ায়। তার অন্যায় মানুষ খুবই কমই করে অর্থাৎ তার অন্যায় কেউ করতে চায় না। সে অযথা হাঙ্গামার মধ্যে পতিত হয় না অযথা কোন বিপদের সম্মুখীন হয় না। সত্যবাদিতা এমন একটি গুণ যে গুণের কারণে সে জান্নাতে অনায়াসে যাবে আশা করা যায় কারণ পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করা হয়েছে চার শ্রেণীর মানুষ ক্ষমার যোগ্য আল্লাহর প্রিয় বান্দা। যেমন নবীগণ, সিদ্দিকগণ, সালেহীন গণ, শহীদগণ। এরমধ্যে সিদ্দিকগণ অর্থাৎ সত্যবাদী গণ রয়েছে। তাই আমাদের উচিত আমরা যারা রয়েছি টুকটাক মিথ্যা কথা বলি তারা সতর্ক হয়ে সাবধান হয় এবং সত্যবাদিতা অর্জন করার আপ্রাণ চেষ্টা করি।
সত্যবাদীতার উদাহরণঃ আমরা জানি সত্যবাদীতার উদাহরণ পৃথিবীতে অনেক রয়েছে। আমরা যদি সত্যবাদী তার উদাহরণ খুঁজতে যায় সর্বপ্রথম আমাদের প্রভু আমাদের পালনকর্তা আমাদের সৃষ্টিকারী মহান আল্লাহতালার কথাই বলতে হয়। মহান আল্লাহতালা সর্বদা সত্য কথাই বলেন এবং তিনি যা ওয়াদা করেন তাও সত্য এবং পবিত্র কুরআনে যা বলেছেন তাও সত্য তা কখনোই মিথ্যা হতে পারে না হবে না। এরপর আমরা যদি নবীগণের দিকে তাকাই তবে প্রত্যেকটি নবী সত্যবাদী ছিলেন কেউ কখনোই মিথ্যা কথা বলতেন না। সেই ধারাবাহিকতায় আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাহু সালাম এমন সত্যবাদী ছিলেন যে আরব দুনিয়ায় তাকে আলামিন অর্থাৎ সত্যবাদিতা বলে উপ��ধি দিয়েছিলেন। এই আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সঃ তিনি তো সত্যবাদী ছিলেনই এবং তার উম্মতদেরকেও সত্যবাদিতা অর্থাৎ সত্যবাদী হওয়ার জন্য উপদেশ দিতেন। এছাড়াও সাহাবাগণ সত্যবাদী তার অন্যতম উদাহরণ ছিল তারা সদা সর্বদা সত্য কথাই বলতেন। এরপরে যারা মহান আল্লাহতালার হুকুম অক্ষর অক্ষরে পালন করেন প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আদর্শ ধারণ করেন যেমন তাবিন এবং তাবেতাবিন এবং ওলামায়ে কেরামগণ। এরা সদা সত্য কথা বলে সত্য পথেই চলে। এ ছাড়া আমাদের মধ্যে অনেক উদাহরণ রয়েছে কিছু কিছু মানুষ কখনই মিথ্যা কথা বলে না সত্য কথা বলতে থাকে। এতে মানুষ তাকে ভালোবাসুক আর না বাসুক সেদিকে তার কোন ভ্রুক্ষেপ থাকে না সে সর্বদা সত্য কথাই বলতে থাকে।
সত্যবাদী কম গড়ে তোলার প্রচেষ্টাঃ আমরা যদি আমাদের সন্তানগুলোকে ছোটকাল থেকেই সত্য কথা বলাতে শিখি সত্ত ভাবে চলা শিখায় তবে সে সত্যবাদী হবে। আর এই ব্যাপারটি সুন্দরভাবে কমপ্লিট করার জন্য সন্তানকে ছোটকাল থেকেই সত্য কথা বলা শিক্ষা দিতে হবে এবং দ্বীনী এলেম এবং সত্য কথা বলা সম্পর্কে মহান আল্লাহতালা কি বলেছেন এবং সত্যবাদী মানুষগুলোর উদাহরণ তাদের সামনে পেশ করতে হবে তুলে ধরতে হবে তাহলে তারা সত্যবাদী একজন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে। আমাদের সমাজে প্রত্যেকটি মানুষ যদি তার সন্তানদেরকে সত্য কথা বলা সত্য পথে চলার উপদেশ খুব সুন্দর ভাবে দিতে থাকে তবে আশা করা যায় তাদের সন্তানগুলো অবশ্যই সত্যবাদী হবে।
আর যখন সন্তানগুলো সত্যবাদী হবে তারা যখন বড় হবে তারা যখন আবার সন্তানের বাবা হবে তখন তারা তাদের সন্তানকে ঠিক একই ভাবে সত্য কথা বলা শিক্ষা দিবে সত্য পথে চলার শিক্ষা তাদেরকে দিবে। ফলে তাদের সন্তানও সত্যবাদী হিসেবে গড়ে উঠবে এভাবে যদি আমাদের বংশ-পরম্পরায় সবাই যদি সত্যের প্রতি চোখে তাকে সত্য কথা বলতে থাকি সত্য পথে চলতে থাকি তবে আমাদের পুরো কমেডি একটা সত্যবাদী তার উপর প্রতিষ্ঠিত হবে।
তাই আসুন আমরা সত্য কথা সর্বদা বলার চেষ্টা করি এবং সত্য পথে চলি সত্যকে ভালোবাসি সত্যকে আমাদের সন্তানকে শিক্ষা দেয় এবং এবং সত্যকে বুকে ধারণ করি এবং লালন করি তবে আশা করা যাবে আমরা সত্যবাদী অর্থাৎ সিদ্দিকগণের অন্তর্ভুক্ত হব এবং আমাদের সন্তানরাও সত্যবাদী এবং সিদ্দিকগণ এর অন্তর্ভুক্ত হব আমরা পরকালীন জিন্দেগীতে আল্লাহর সন্তুষ্টি পাবো হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর শাফায়েত এবং আমরা সুকুমার শান্তিময় চিরস্থায়ী আরাম আয়েশের জায়গা জান্নাত লাভ করতে পারব আমিন। আজকের মত এখানেই শেষ করছি আল্লাহ হাফেজ।


