আমাদের সংক্ষিপ্ত জিন্দেগীর অসংক্ষিপ্ত আশা

alim236

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

 আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

 

প্রিয় সাথী বৃন্দ, আজকে আমি আমাদের সংক্ষিপ্ত জিন্দেগীর অসংক্ষিপ্ত আশা নিয়ে কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করব ইনশাল্লাহ। এই পোস্টটা আপনাদের সকলকে স্বাগতম এবং অভিনন্দন।

 

আমাদের আশা, আমাদের প্রত্যাশা, আমাদের বেঁচে থাকা, আমাদের দুনিয়ার জিন্দেগি সাজানো এবং অর্থ উপার্জন ইত্যাদি প্রত্যেকের জীবনে কমবেশি রয়েছে। আমরা এই দুনিয়ার জিন্দেগীতে আসি একবারে ছোট্ট শিশু আকারে এরপর আমাদের ধীরে ধীরে বড় হওয়া শুরু হয় প্রথমে আমরা শিশুকাল ছেড়ে কৈশোর কাল পদার্পণ করি। কৈশোর পার করে আমরা যৌবনে পদার্পণ করি এবং যৈবন পার করে আমরা বৃদ্ধ বয়সে উপনীত হই আর এক সময় আমরা মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ি। এটা সময়টা হল প্রায় ঘরে ৫০ থেকে ৬০ বছর এর বেশি নয়। এই ৫০ থেকে ৬০ বছরের জিন্দেগি জন্য আমরা যেভাবে প্রিপারেশন নেই প্রস্তুতি গ্রহণ করি এবং অর্থ উপার্জন করি এবং আমাদের এই সংক্ষিপ্ত জিন্দেগী যেভাবে সাজায় তা কিছু বর্ণনা আমরা দিতে চাই।

 

ছোটকাল থেকে আমার যদি কোন সন্তান হয় তার জন্য আমি অঢেল অর্থ সংগ্রহ করি আমার সন্তান পৃথিবীতে থাকবে আমি হয়তোবা একদিন চলে যাব কিন্তু সে যেন কোন প্রকার কষ্ট কোনো প্রকার দুঃখে প্রতিটা না হয় এজন্য তার জন্য প্রচুর সম্পদ সংগ্রহ করে রেখে যায়। এবং তাকে এমন ভাবে মানুষ করি যেন সে দুনিয়ার জিন্দেগীতে সবচাইতে বড় ভালো চাকরি করতে পারে এবং উন্নত পরিবেশে গ্রহণ করতে পারে যেমন অধিকাংশ এর মতে ছেলে মেয়েকে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার পড়ানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে থাকি। এইজন্য ছোটকাল থেকে তাকে ভালো ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়ানোর চেষ্টা করি এবং একসময় সে ভালো ছাত্র হয় এবং পড়াশোনা শুরু করে। এরপর একসময় দেখা যায় সে হয় ডাক্তার নয় ইঞ্জিনিয়ার এরকম হয় হওয়ার পর বাবা-মা সবার কাছে বলে বেড়ায় জামা সন্তান ডাক্তার হয়েছে আমার সন্তান ইঞ্জিনিয়ার হয়েছে আমি সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করেছি । এই সন্তানের গল্প শেষ সমাজে সব জায়গায় বুক ফুলে গর্ভসহকারে বলতে থাকে এবং সে আত্মতৃপ্তি পেয়ে থাকে।

 

কিন্তু তার সন্তান আসলে কতটুকু মানুষ হয়েছে সেটা আমরা এখন একটু আলোচনা করব। আমরা আসলে এই পৃথিবীতে আসার উদ্দেশ্য মহান আল্লাহ তালাই ভালো জানেন এবং আমাদেরকে বলে দিয়েছেন যে "তোমাদের এই পৃথিবী পাঠানোর উদ্দেশ্য হলো একমাত্র আমার ইবাদত করার জন্য অন্য কোন কারণে পৃথিবীর বুকে আমাদেরকে পাঠানো হয় নাই"। এই কথা মহান আল্লাহতালা কুরআনে বলে দিয়েছেন এমন কি আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সল্লু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদিসে অনেক অনেক জায়গায় এই মর্মে হাদিস পাওয়া যায়। আমাদেরকে বানানোর উদ্দেশ্য এবং এই পৃথিবীতে পাঠানোর উদ্দেশ্য একটি তাহলে মাবুদের ইবাদত করা। তাইতো আমাদের উচিত সর্বপ্রথম আমাদের সন্তানকে মহান আল্লাহর পরিচয় তার কাছে উপস্থাপন করা এবং এরপর আমাদের হযরত মুহাম্মদ সাঃ আল্লাহর দূত আল্লাহতালা রাসূল সেই কথা ও তার কাছে উপস্থাপন করা পরিস্থিতি করে তোলা। যখন আল্লাহতালাকে চিনবে এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম কে নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে এবং সেই মর্মে সে লেখাপড়া শুরু করবে সবকিছু জানবে বুঝবে শিখবে এবং দ্বীনেরপুর সে সুন্দরভাবে চলা শিখে যাবে তখন হল একজন প্রকৃত মানুষ। যে আল্লাহর কাছে চেনে ���া প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সালামের আদর্শকে গ্রহণ করে না এমনকি দিন ইসলাম সম্পর্কে সে বুঝেনা জানেনা কিন্তু এছাড়া অন্য সব বিষয় ধরে নিলাম জানে এবং তার জানা হয়েছে তবুও তাকে প্রকৃত মানুষ বলা যাবে না কারণ সে তার প্রধান উদ্দেশ্য যে উদ্দেশ্যে পৃথিবীতে আসিয়াছে আল্লাহতালা পাঠিয়েছেন সেই উদ্দেশ্য সে জানে না জানার চেষ্টা করে নাই। তাই তাকে প্রকৃত মানুষ বলা যাবে না। এইটা ওই শিশুর বা ওই ব্যক্তির দোষ নয় দোষ হল তার বাবা এবং মার কারণ শিশুকালে তাকে যে পন্থায় বড় করা এবং সেই শিক্ষায় শিক্ষিত করা চেষ্টা করবে সে সেই শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠবে।কিন্তু বাস্তব চিত্র দেখা যায় একজন ছেলে ডাক্তার হয় ইঞ্জিনিয়ার হয় অথচ সে ইসলাম সম্পর্কে একেবারে অজ্ঞ তার বাবা-মা যদি মারা যায় তবে তাদের জানাজা দেওয়ার জন্য হুজুর ছাড়া উপায় থাকে না এমনকি তার বাবা-মার কবরে যদি জিয়ারত করা হয় তাহলে সে হুজুর ছাড়া আর সে নিজে দিতে পারে না। তারপর ইসলামের হুকুম আহকাম সম্পর্কে সে একেবারে অজ্ঞ থাকে এমনকি আল্লাহ তায়ালাকে চেনেনা আল্লাহর পরিচয় জানে না প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর আদর্শ সে বুঝতে পারে না জানে না এবং ধারণ করতে পারে না ইসলাম ধর্মে সম্পর্কে সে একেবারেই অজ্ঞ থাকে। তাহলে কি সেই ছেলে প্রকৃত মানুষ হল না সেই ছেলে কখনোই প্রকৃত মানুষ হলো না কারণ সে তার আসল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুতি হয়ে চলে গেছে।

 

এগুলো আমাদের দীর্ঘ আশা-আকাঙ্কার ফল। কারণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ভাষা আমার মনে পড়ে গেল সে একটি কবিতায় বলেছিল মরিতে চাইনা আমি এই সুন্দর ভুবনে মানবের মাঝে আমি বাঁচিবার চাই। অর্থাৎ কোন ব্যক্তি এই দুনিয়া থেকে মরে যেতে চায়না এই দুনিয়াতে দীর্ঘদিন বাঁচতে থাকে আশা রাখে সম্পদের পাহাড় গড়বে সন্তানকে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার বানাবে এবং বাড়ি করবে গাড়ি করবে সুন্দর সুন্দর নারীর অধিকারী হবে এই সমস্ত আশা তার কখনোই ছোট হয় না শুধু বড় হতেই থাকে হতেই থাকে। তার আসার কখনো শেষ হয় না সে আশা একাধারে বড় করতে থাকে করতেই থাকে। অথচ সে কথা ভুলে গেছে যে সে একটা সংক্ষিপ্ত জিন্দেগী নিয়ে এই পৃথিবীতে আগমন করেছে তাকে আবার চলে যেতেই হবে সে যদি নাও যেতে চায় তাকে নেওয়া হবে একথা জানা সত্বেও সে এ কথা কে ভুলে যায় এবং এই সংক্ষিপ্ত ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীতে সে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে চায়।

 

আমাদের একটি বিষয় সবসময় মাথায় রাখা উচিত যে যে জিন্দেগি সংক্ষিপ্ত শুরু হবে এবং অল্প টাইম এর মধ্যে শেষ হয়ে যায় অর্থাৎ ৫০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যেই এই জিন্দেগী শেষ হয়ে যায় আর এই জিন্দেগীর জন্য আমি বড় বড় আশা কেন করব বড় বড় বাড়ি আমি কেন করব দামী দামী গাড়ি আমি কেন ব্যবহার করব। যদি আমি সম্পদের পাহাড় গড়ে সমস্যা নাই তবে সেই সম্পদ ব্যবহার করতে হবে হালাল পন্থায় এবং ওই সম্পদ উপার্জন করতে হবে হালাল পন্থায়। আমি বড় বাড়ি বড় গাড়ি কিনতে পারি ব্যবহার করতে পারি কোন সমস্যা নাই সেটা হতে হবে শরীয়তের বিধান মতে। অর্থাৎ দিন মানার পরে যা ইচ্ছা আয়োজন করতে পারে সেটা হালাল পন্থায় হতে হবে।

 

তাই আসুন আমরা একটি বিষয় সবসময় মনে রাখি যে পৃথিবীটা সংক্ষিপ্ত পৃথিবী শুরু আছে এবং কিছু সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে এবং আমার জিন্দেগি সংক্ষিপ্ত ৫০ থেকে ৬০ বছর এর মধ্যেই আমি আবার বৃদ্ধ হয়ে যাব এবং মৃত্যু মুখে পতিত হবে আল্লাহর কাছে চলে যেতে হবে। তাই দুনিয়ার জিন্দেগিকে আমি বড় বড় আশায় ভরপুর না করে সংক্ষিপ্ত আশা করে এবং মহান আল্লাহতালার হুকুম প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আদর্শ গ্রহণ করে এবং অনন্ত জিন্দেগীর জন্য এই সংক্ষিপ্ত দুনিয়��য় বড় বড় লোভ লালসা আশা-আকাঙ্ক্ষা করা একমাত্র বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে এই দুনিয়া একটা বিশ্রামাগার এই বিশ্রামাগারে যেমন মানুষ অল্প টাইমের জন্য বসে থাকে সেখানে সে ঘর তৈরি করে না সেখানে সে বড় বড় আশা-আকাঙ্ক্ষা করে না কারণ সে একটু পরেই আবার সেখান থেকে রওনা হয়ে চলে যাবে। অনুরূপভাবে পৃথিবী আমার জন্য একটা বিশ্রামাগার এখানে থাকার জায়গা নয় এখানে দীর্ঘ সময় থাকার উপায় নাই এখানে আমি এসেছি অল্প টাইমের জন্য আবার কিছুক্ষণ পরই রওনা হয়ে পরকালের দিকে চলে যাব। যেহেতু চলে যেতে হবে থাকার উপায় নেই সেখানে বড় বড় আশা বড় বড় গাড়ি বড় বড় বাড়ি, সুন্দর সুন্দর নারী, সম্পাপের পাহাড় ঘুরে আমার কোন লাভ হবে না আমাকে যেতে হবে খালি হাতে আমার সাথে বা আমার সঙ্গী কেউ হবে না আমি একাই কবরে চলে যাব। কবরে চলে যাওয়ার পরেই তিনটি প্রশ্নের উত্তর আমাকে দিতে হবে সেই তিনটি প্রশ্নের উত্তর আমাকে দুনিয়ার এই সংক্ষিপ্ত জিন্দেগীতে বানাইয়া নিয়ে যেতে হবে। আমি যদি তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারি তবে আমি পার পেয়ে যাব সুখের জিন্দেগি পাবো আর যদি এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর আমি না দিতে পারি তবে আমার দুঃখের কোন শেষ থাকবে না। অতএব এই দুনিয়াতে আমি সম্পদের পাহাড় গড়েও কোন লাভ নেই বা বড় বড় অট্টালিকা করেও লাভ নেই সুন্দর সুন্দর নারী অর্জন করেও লাভ নেই এবং বড় বড় আশা-আকাঙ্ক্ষা কখনোই করে কখনোই লাভ হবে না। তাই আসুন আমরা আশাকে সংক্ষিপ্ত করি দুনিয়ার জিন্দেগিকে সংক্ষিপ্ত মনে করি আখিরাতের প্রস্তুতি গ্রহণ করি এবং আখেরাতে জিন্দেগি কে প্রাধান্য দেই দুনিয়ার জিন্দেগিকে প্রাধান্য না দেই। মরণের প্রস্তুতি নেই এবং এই প্রস্তুতি নিতে নিতে যদি আমি মৃত্যুমুখে পতিত হয় তবে মহান আল্লাহতালা আমাকে ক্ষমা করবেন মাফ করবেন। আজকের মত এখানেই শেষ করতে চাচ্ছি আল্লাহ হাফেজ।

Comments