আজকে একটি কওমি মাদ্রাসায় যাওয়া এবং ছেলেকে নিয়ে আসা সম্পর্কে কিছু কথা।
প্রিয় সাথী বৃন্দ, আজকে আমি একটা মাদ্রাসায় অর্থাৎ কওমিয়া মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম। মাদ্রাসাটির নাম দত্তবাড়ি দারুল উলম হাফিজিয়া কওমিয়া মাদ্রাসা। মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বেশ অনেক আগে। প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ বছর আগে। আর এত দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় তারা এখন একটা বড় মাদ্রাসায় পরিণত হয়েছে যেখানে হাজার হাজার ছাত্র পড়াশোনা করে থাকে।
আমি আমার ছেলেকে এই মাদ্রাসাতে ভর্তি করেছি সে নাযারাতে পড়ে অর্থাৎ কোরআন শরীফ দেখে দেখে রিডিং পড়া করিতেছে। এরপর সে হাফিজিয়া পড়বে ইনশাআল্লাহ। মাদ্রাসাতে প্রথমে অক্ষর এবং পড়ার নিয়ম কানুন পড়ানো হয় সেই ক্লাসের নাম হল মক্তব-১। সেই ক্লাস পার হয়ে এখন সে মক্তব-২ তে পড়াশোনা করছে প্রায় আটপারায় সাত পৃষ্ঠায় সে এখন পড়াশোনা করছে।
কোরআন শরীফের সর্বমোট ত্রিশটি খন্ড বা পারা রয়েছে। এই ৩০ খন্ড মিলে একটি কোরআন শরীফ। আরে কোরআন শরীফ হলো মহান আল্লাহতালার পক্ষ হতে নাযিলকৃত পবিত্র ধর্মগ্রন্থ যা মুসলিমদের জন্য সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর উপর নাযিল হয়েছে। এই কোরআন শরীফ সারা বিশ্বের প্রত্যেকটি মানুষের জন্য রহমতস্বরূপ। এই কুরআন যে কেউ পড়ুক না কেন সে হেদায়েত পেয়ে যাবে আশা করা যায়।
এই কুরআন শরীফ দীর্ঘ ২৩ বছর অর্থাৎ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নবুয়ত পাইলেন তখন থেকে প্রায় 23 বছর যাবত ধাপে ধাপে এই কোরআন শরীফ হযরত মুহাম্মদ সঃ এর উপর বিভিন্ন ঘটনা প্রেক্ষাপটে নাযিল হয়েছে। আর এটি নাযিল করেছেন মহান আল্লাহতালা জিব্রাইলের মাধ্যমে। প্রতিটি আয়াত সালাম নবীজির কাছে এনে দিতেন এবং শোনাতেন, মুখস্ত করাতেন। এই কোরআন হলো মুসলিমদের জীবন বিধান, পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের চলার পথে পারিবারিক হোক, সামাজিক হোক, রাষ্ট্রীয় হোক, অর্থনৈতিক হোক, চাকরির ক্ষেত্রে হোক, যে কোন ক্ষেত্রেই পরিপূর্ণ সমস্যার সমাধান এই কোরআনে পাওয়া যায়।
এই পবিত্র ধর্মগ্রন্থ সংরক্ষণের দায়িত্ব মহান আল্লাহতালা নিজেই নিয়েছেন। পৃথিবীর কোন শক্তি এই কোরআনকে ধ্বংস করতে বা নিশূন্য করে দিতে পারবে না, পারবে না। কারণ এই কুরআন এর দায়িত্ব সংরক্ষণের দায়িত্ব এমন একজন নিয়েছেন যে হল সবার উপরে, সর্বশক্তিমান, সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী, যে সব কিছুকে ধারণ করতে পারেন কিন্তু তাকে কেউ ধারণ করতে পারে না তিনি এক অদ্বিতীয় তার কোন শরীক নেই তার কোন ভাবি নেই তার কোন ফটোগ্রাফি নেই তার কোন পার্টনারশিপ নেই তার সহযোগিতা লাগেনা। তিনি সবাইকে রিজিক দিয়ে থাকেন। অর্থাৎ মুসলমান হোক,খ্রিস্টান হোক, ইহুদি হোক, হিন্দু হোক বাধ্য হোক, আচ্ছা যে ধর্মেই হোক না কেন যে জাতেরই হোক না কেন যে গোষ্ঠি হোক না কেন সবাই রিজিক মহান আল্লাহ তা'আলা নিজের হাতে দিয়ে থাকেন। চাই সে আল্লাহকে মানুক আর না মানুক আল্লাহকে আল্লাহ বলে মানুক আর না মানুক আল্লাহকে বড় বলে মানুক আর না মানুক তাতে কিছুই যায় আসে না মহান আল্লাহ তাআলার কিন্তু তিনি তারপরও সবাইকে রিজিক পরিপূর্ণভাবে দিয়ে থাকেন।
কারণ তিনি অত্যন্ত দয়ালু মেহেরবান, তার দয়ার কোন শেষ নাই মেহেরবানীর কোন শেষ নাই ক্ষমার কোনো শেষ নাই। তার ভালোবাসার ও কোন শেষ নাই। তিনি হাইয়ুল কাইয়ুম চিরঞ্জীব তার কখনো মৃত্যু হবে না তিনি পূর্বেও ছিলেন এখনো আছেন ভবিষ্যতেও থাকবেন তার কোন প্রকার নয় ক্ষয় নাই ধ্বংস নাই সৃষ্টি নাই। তিনি হলেন মহান আল্লাহ তা'আলা। তিনি আমাদের এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন তাকে রব হিসেবে মেনে চলার জন্য।
তাইতো আমরা মহান আল্লাহ তায়ালাকে একক স্রষ্টা হিসেবে মনে প্রাণে বিশ্বাস করি। আর তার বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর উদ্দেশ্যে আমরা প্রস্তুতি স্বরূপ আমাদের সন্তানদেরকে মাদ্রাসায় ভর্তি করেছি। আমরাও মহান আল্লাহ তাআলার হুকুম আহকাম এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ইসলামের আদর্শ জীবন দিয়ে পালন করে থাকি। আর মৃত্যু পর্যন্ত আমরা এভাবে পালন করেই যাবো।আমি মরে যাওয়ার পরে আমার সন্তান যেন মহান আল্লাহকে মানে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাহু সাল্লাম এর তরিকায় জিন্দেগি কাটাতে পারে সেজন্য সন্তানদেরকে মাদ্রাসায় ভর্তি করা। সে যেন আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্ট অর্জন করতে পারে এবং জাহান্নাম থেকে রক্ষা পেয়ে জান্নাতে দাখিল হতে পারে। সে যেন প্রশ্ন তুলতে না পারে জামার বাবা আমাকে দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করে নাই এজন্য আমি বেইমানতে পারি নাই।
তাই আজকে মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম ওর সাপ্তাহিক ছুটি অর্থাৎ শুক্রবারে বিকালে ওকে আবার মাদ্রাসায় পৌঁছে যেতে হবে। তাই আজকে বারোটা বা একটা থেকে শুক্রবার আসর মাগরিব পর্যন্ত ওর ছুটি এজন্য ওকে আমি নিজে নিয়ে এসেছি। ছোট মানুষ হিসেবে দূরে থাকা অর্থাৎ বাবা-মাকে রেখে দূরে থাকা অত্যান্ত কষ্টকর বিধায় সে বাড়িতে আসতে চায় আমিও তেমন না না করে তাকে নিয়ে আসি।
কিন্তু মাদ্রাসায় পৌঁছে দেখি শোয়াইব নেই অর্থাৎ আমার ছেলেটা মাদ্রাসাতে নেই ওর বাক্সের ভিতর দেখলাম যে ওর ব্যাগ রয়েছে তখন বুঝতে পারলাম যে হয়তো কোথাও গিয়েছে বাড়িতে আসে নাই তখন আমি নামাজের জন্য অপেক্ষা করলাম ইতিমধ্যেই ও চলে আসছে ওকে জিজ্ঞেস করলাম তুমি কোথায় গিয়াছিলা। তখন শুয়াইব বলল আমি জাকিরদারের বাড়িতে গিয়েছিলাম বলে আসার জন্য। এরপর নামাজ পড়লাম নামাজ পড়ার পরে ওকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। মাদ্রাসাতে থেকে কিছু ফটো তুললাম এবং সমৃদ্ধির সংক্ষিপ্ত একটি ভিডিও করেছি যা আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।
আসলে মাদ্রাসাতে দেখা যায় আপনার ছবি তো দেখতে পাবেন অনেক ছোট ছোট ছেলে মেয়েও মাদ্রাসায় পড়তে থাকে। তারা মাদ্রাসাতেই থাকে মাদ্রাসারই খাবার খায় এবং মাদ্রাসাতেই পড়াশোনা করে। এবং কেউ ৬ মাস কেউ তিন মাস কেউ এক বছর কেউ দুই বছর কেউ দেড় বছর কেউ আড়াই বছর কেউ তিন বছর এর মধ্যেই পুরো কোরআন শরীফ মুখস্ত করতে পারে। আর এই মুখস্ত করার পিছনে মহান আল্লাহ তায়ালার অবদান রয়েছে। মহান আল্লাহতালা ঘোষণা করেছেন কেউ যদি এ কুরআন শরীফ মুখস্ত করতে চায় তবে তাকে আমি এই কোরআন শরীফ মুখস্ত করার জন্য সহজ করে দেব। তাইতো যারা পড়াশোনা করে এত অল্প টাইমেও এই পুরো ধর্ম গ্রহণ গ্রন্থটি তারা মুখস্ত করে ফেলতে পারে।
তাইতো পৃথিবীতে এমন কোন ধর্মগ্রন্থ খুঁজে পাবেন না যে ধর্মগ্রন্থের হাফেজ রয়েছে অর্থাৎ কেউ পুরো ধর্ম গ্রহণ করতে পেরেছে আজ পর্যন্ত এরকম ইতিহাস পাওয়া অসম্ভব। আর এরকম হাফেজ খুজতে গেলে একমাত্র কুরআনুল কারিমের হাফেজ পাওয়া সম্ভব হয় অর্থাৎ পুরো 30 পারা কোরআন ছোট করে রাখতে পারে ছোট বয়স থেকে বৃদ্ধ বয়সের অনেক মানুষই। কারণ কুরআনুল কারীম মহান আল্লাহ তায়ালার সরাসরি বাণী পবিত্র বাণী। মহান আল্লাহ তা'আলা এই কুরআনের মাধ্যমে আমাদেরকে সাবধান করেছেন সংশোধন হওয়ার উপায় বলে দিয়েছেন এবং সাফল্য কিভাবে অর্জিত হবে সে সম্পর্কে বলে দিয়েছেন এবং ধ্বংস হবে কিভাবে সে সম্পর্কে বলে দেয়া হয়েছে এবং কোন কাজ কিভাবে করবে তাও বলে দেওয়া হয়েছে।
একজন মানুষ পরিপূর্ণভাবে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত চলার জন্য যা যা প্রয়োজন তা তাই কোরআনে রয়েছে। এমন কোন সমস্যা অর্থাৎ এমন কোন ঝামেলা নাই যে ঝামেলার সমাধান পবিত্র কোরআনুল কারীমে নাই। অর্থাৎ সর্বপ্রকার সমাধান পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কুরআনুল কারীমে রয়েছে। আর এই পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কেউ নকল করতে পারে নাই ভেজাল ঢুকাতে পারে নাই। কারণ এর দায়িত্ব মহান আল্লাহ তা'আলা নিয়েছেন।
পৃথিবীর শুরু থেকে আজ অবধি যত ঘটনা ঘটেছে সেই ঘটনাগুলোর বিবরণ পবিত্র ধর্মগ্রন্থে রয়েছে এটা যদি মানুষর রচিত কোন গ্রন্থ হতো তাহলে সেই ইতিহাসগুলো কখনোই সম্ভব ছিল না যা কোরআনের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি। যেমন মিশরে ফেরাউন পানিতে ডুবে মারা গিয়েছিল এবং তার লাশ কোথায় আছে কেউ জানে না কিন্তু আজ অবধি এই সম্প্রীতি বেশ কয়েকদিন আগে প্রাণের মাধ্যমে জানা গেল যে ফেরাউনের লাশ পানির মধ্যে রয়েছে আর সেখান থেকে সেই লাশ সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড় াও বাদশা কারণ তার সম্পদের দম্ভ ভরে চলার জন্য তার সম্পদ ধ্বংস হয়েছে সে আজ অবধি মাটির নিচে রয়েছে এবং সে মাটির নিচেই চলে যাচ্ছে এই খবর একমাত্র কোরআনের মাধ্যমে জানা সম্ভব অন্য কোন ইতিহাস থেকে জানা সম্ভব নয়।
মানুষের শান্তির পথ মুক্তির পথ মানবতার পথ নৈতিকতার পথ সফলতার পথ কিভাবে পেতে পারে কিভাবে পাবে সবই এই কোরআনে মহান আল্লাহতালা দেখিয়ে দিয়েছেন।।
তাই আসুন আমরা আমাদের জিন্দেগীকে ঠিক করি পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআনুল কারীম বেশি বেশি পড়ি এর তরজমা গুলো পড়ি এবং এর ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ গুলো পড়ি আমাদের অনেক উপকার হবে অনেক অজানা বিষয় জানা হবে। আমাদের সন্তানগুলোকে এই কোরআনের শিক্ষা দিয়েই যায় ফলে সে মানুষের মতো মানুষ হবে। আজকে এ পর্যন্তই কষ্ট অন্য কোন বিষয় নিয়ে কথা হবে ইনশাআল্লাহ আল্লাহ হাফেজ।


