বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
আসছালামুআলায়কুম ওয়া রহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহু।
প্রিয় সাথী বৃন্দ,
আশা করি আপনারা সবাই ভাল আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি সুস্থ আছি। আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব মানুষ ও জ্বীনদের জন্য জান্নাত, বাকি সব মাখলুকাত এর জন্য জান্নাত নেই কেন?
জান্নাত মহান আল্লাহতালার এক বিস্ময়কর সৃষ্টি। যাহা মহান আল্লাহতালা সৃষ্টি করে রেখেছেন। প্রত্যেকটি মানুষের জন্য এক একটি করে জান্নাত তৈরি করে রেখেছেন। এই জান্নাত শুধু জ্বীন এবং ইনসানদের জন্যই তৈরি করা হয়েছে, অন্য কাহারো জন্য নহে।
মহান আল্লাহ তায়ালা, জ্বীন এবং ইনসান বাদে বাকি যত মাখলুকাত সৃষ্টি করেছেন, সেটা আসমানের উপরে হোক, জমিনের নিচে হোক বা আসমান এবং জমিনের মাঝে হোক, কাউকেই জান্নাত- জাহান্নাম কোনটাই দান করা হবে না। এর প্রধান কারণ হলো, তাদেরকে ভালো মন্দ বোঝার ক্ষমতা, বিবেক বুদ্ধি দান করা হয় নাই। তাই তাদের কোন প্রকার হিসাব নিকাশ মহান আল্লাহতালার সামনে দিতে হবে না। তাই তাদের জন্য জান্নাত জাহান্নাম নেই।
মানুষ ওজ্বঈন বাদে সমস্ত মাখলুকাত আল্লাহর হেদায়েত প্রাপ্ত অর্থাৎ আল্লাহর অনুগত। মহান আল্লাহ তাআলার বিরুদ্ধচারণ করার কোন ক্ষমতাই তাদের দেওয়া হয় নাই। মহান আল্লাহ তা'আলা তাদের যে নির্দেশ দিয়ে দিয়েছেন, যে হেদায়েত করে দিয়েছেন, তাহা তারা অক্ষরে অক্ষরে অর্থাৎ ১০০ তে ১০০% পালন করে থাকে। কখনোই তার ব্যাতিক্রম করতে পারেনা, পারবেও না। তারা আল্লাহর হেদায়েত প্রাপ্ত।
যেমনঃ ধরুন আম গাছের কথা বলি। আম গাছকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তুমি মানুষের সেবা করবে। তুমি ফল ধরলে শুধু আম ফলই ধরতে হবে অন্য কোন ফল ধরতে পারবা না। এরকম জাম, কাঁঠাল, লিচু, আনারস, আঙ্গুর আপেল, যত ফল গাছ রয়েছে। সবাই শুধু যে ফল ধরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শুধু সেই ফল ধরে থাকে। অন্য কোন ফল ধরার ক্ষমতা বা শক্তি তাদেরকে দেওয়া হয় নাই। অন্য কোন ফল যদি ধরত তবে মানুষ তাদের সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে যেত। তাহলে আল্লাহর মহামান্য নির্দেশ অমান্য করা হতো কিন্তু তাদের তো সেই ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। তাই আজ পর্যন্ত পৃথিবীর বুকে, কোন ফল গাছ দেখা মেলে নাই যে, তার নিজের ফল বাদে অন্য কোন ফল ধরেছে।
যেমনঃ ফেরেশতাদের কথা বলা যাক। তারা মন্দ কাজ করার ক্ষমতা রাখেনা। আল্লাহ তাদের মন্দ কাজ করার ক্ষমতা, ইচ্ছা শক্তি, একেবারে নষ্ট করে দিয়েছেন। তারা সব সময় ভালো কাজ করবে অর্থাৎ তারা আল্লাহর বিরুদ্ধাচারণ কোন কাজ করতে পারে না। এইজন্য ফেরেশতাদের কোন হিসাব নেই, বেহেশত ও দোযখ নেই।
চন্দ্র সূর্যের কথা বলি, সূর্যকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তুমি শুধু পৃথিবীর বুকে তাপ দিয়ে যাবা, তাই সূর্য আলো ও তাপ ছাড়া আর কোন কিছু করা তার পক্ষে সম্ভব হয় না। কারণ মহান আল্লাহতালা তাকে যে নির্দেশ দিয়েছেন, তাই সে পালন করবে। এইজন্য চন্দ্র সূর্যের কোন হিসাব নেই।
কিন্তু মানুষ এবং জ্বীন এই দুই জাতি মহান আল্লাহতালার হুকুম মানতেও পারে আবার নাও মানতে পারে। ভালো কথা বলতে পারে আবার না বলেও জীবন যাপন করতে পারে। আল্লাহর ইবাদত করতেও পারে আবার ইবাদত না করেও জীবন যাপন করতে পারে। অর্থাৎ তাদেরকে ইচ্ছাশক্তি দেওয়া হয়েছে। তারা ভাল কাজ করতে পারে আবার মন্দ কাজ করতে পারে। এইজন্য তাকে পৃথিবীর বুকে মহান আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে কিছুই বলবেন না।
তাদেরকে ধরা হবে, মরনের পরে হাশরের ময়দানে। সেখানে তাদের জীবনের প্রত্যেকটি মুহূর্ত, প্রত্যেকটি সেকেন্ডের হিসাব করাই-গন্ডায় দিতে হবে। এই বিচার শেষে যদি কারো নেকীর পাল্লা ভারী হয়, তবে সে আল্লাহর সন্তুষ্টি পাবে এবং চির শান্তির জায়গা জান্নাত লাভ করবে। আর যদি পাপের পাল্লা ভারী হয়, তবে তার স্থান হবে জাহান্নামে। মানুষ ও জ্বীনদের জন্য বিচার আছে এবং জান্নাত জাহান্নাম রয়েছে। এর একটাই কারণ তাকে বিবেক-বুদ্ধি, আকল জ্ঞান দেওয়া হয়েছে।
তাই আসুন আমরা আমাদের বিবেক-বুদ্ধি, আকুল জ্ঞান দ্বারা মহান আল্লাহতালার আদেশ-নিষেধ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আদায় করি এবং মহান আল্লাহতালা সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সদা সর্বদা চেষ্টা করতে থাকি। আজকের মত এখানেই শেষ করছি, আল্লাহ হাফেজ

Comments