জান্নাতের নাজ নেয়ামত এবং বিবরণ।

alim236
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

আর সাথী বৃন্দ, আজকে আমি বেহেশতের সুখ কি কি রয়েছে সেই বিষয় নিয়ে কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই। এই পোস্টে আপনাদের স্বাগতম এবং অভিনন্দন।

মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে দুনিয়াতে পাঠাইয়া দিয়েছেন। আমাদের এ দুনিয়াতে পাঠানোর উদ্দেশ্য হলো আমাদের পরীক্ষা করা। আমাদেরকে পরীক্ষার হলে পাঠিয়েছেন। আমরা এ জীবনে বিভিন্ন পরীক্ষায় যদি পাশ করতে পারি তবে পরম করুনাময় আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে অনন্ত সুখের জিন্দেগী জান্নাত দান করবেন। দামাল প্রভু আল্লাহ তা'আলা তার নেক বান্দাদের জন্য অনন্তকালের জন্য এক সুখময় স্থান সৃষ্টি করে রেখেছেন। আর সেই স্থানের নাম হলো জান্নাত। যে জান্নাত আল্লাহ তায়ালা নিজের হাতে সাজিয়েছেন এবং সাজাইতেছেন। সে জান্নাতে নিজ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে দুধের নহর মধুর নহর শরাবেন নহর এবং পরিষ্কার পানির নহর। আর সেই জান্নাতের ঘর গুলো হবে অত্যন্ত সুন্দর এবং চিরস্থায়ী যে ঘরের একটি ইট হবে সোনার অন্য একটি ঈদ হবে রুপার আর এই সোনার এবং রুপার ইট দিয়ে সেই বাড়ি তৈরি করা হবে আর পাথরগুলো হবে মুক্তার তৈরি। এবং সেই ঘরের সোনা এবং রুপার ইটের গাঁথনি হবে। সেই সোনার ঈদ এবং রূপার ইট এর গাঁথনি হবে এবং মেশকো এবং আম্বরের। আর সেই বিল্ডিং এর কালার হবে হলুদ জাফরান এর মত। আর এই ঘরগুলো ব্যবহার করবে ঐ সমস্ত বান্দারা যে বান্দা রা দুনিয়ার জিন্দেগীতে মহান আল্লাহ তায়ালার হুকুমসমূহ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে এবং প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ গ্রহণ করে নিয়েছে এবং দিন ইসলামের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে মেনে চলেছে তাদেরকে এই দেওয়া হবে সেই সুখময় শান্তিময় জায়গা জান্নাত। তাইতো মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন যে সমস্ত বান্দারা নিজের নামাজের প্রতি যত্নশীল হবেন আর তারাই হবে জান্নাতুল ফেরদৌসের অধিকারী। তারা সেখানেই চিরকাল থাকবে। তাদেরকে সেখান থেকে কখনোই বের করে দেওয়া হবে না তারা অনন্তকাল অবদান অবদান শেষ জায়গায় থাকবে খাবে ভ্রমণ করবে নিয়ে চিন্তায় ঘোরাফেরা করবে তাদের কোন ভাবনা থাকবে না তাদের কোন চিন্তা থাকবে না তাদের কোন কষ্ট থাকবে না তাদের কোন পেরেশানি থাকবে না তাদের কোন অভাব থাকবে না তাদের কোন ভয় থাকবে না তারাও কখনোই মন্দ কথা শুনবে না তারা কখনোই হতাশ হবে না তারা কখনোই নিরাশ হবে না তারা কখনোই মনে কষ্টে ভুগবে না তারা কখনোই বৃদ্ধ হবে না তারা কখনোই চুল পাকবে না তাদের কখনোই দাঁত পড়বে না তাদের কখনোই চোখ নষ্ট হবে না তাদের কখনোই চামড়া ভাঁজ করবে না তাদের কখনোই পায়খানা প্রসব করতে হবে না সেখানে শুধু সুখ আর সুখ শান্তি আর শান্তি আবাদান আবাদান জিন্দেগি।

তাইতো আমার প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পবিত্র বাণীতে বলেছেন তোমরা যদি আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করো তাহলে জান্নাতুল ফেরদৌস এর প্রার্থনা করবা কারণ জান্নাতুল ফেরদৌস এর উপর আল্লাহর আরশ থাকবে। মহান আল্লাহ তা'আলা নয়টি বেহেশত তৈরি করেছেন এবং এর মধ্যে সবচাইতে আরশের নিকটবর্তী সবচাইতে নাজ-নিয়ামতে আমাদের ভরপুর সবচাইতে বড় জান্নাত হলো জান্নাতুল ফেরদাউস। এই জান্নাতুল ফেরদাউস মহান আল্লাহতালা এমন ভাবে সাজিয়েছেন এমনভাবে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছেন যে এই জান্নাতুল ফেরদৌসের মধ্যে চারটি নহর প্রবাহিত হবে আর এই নহর চারটি হল একটি হল দুধের নহর তারপর মধুর নগর তারপর শরবতের শহর আরেকটি হলো পরিষ্কার পানি নহর। আর এই জান্নাতে যারা প্রবেশ করবে এই জান্নাতের মালিক যারা হবে তারা যদি শুধু মনে মনে ভাবে আমি সর্বোচ্চ খাব নাকি মধু খাব তখন যেটা সে খেতে চায় সেই নহরটা বাঁকা হয়ে এসে তার মুখে পৌঁছে যাবে তাকে কষ্ট করে শরবত বানিয়ে খেতে হবে না। আর এই জান্নাতের অধিবাসীরা ফুলের বাগানে ঘোরাঘুরি করতে থাকবে সেখানে বিভিন্ন কোয়ালিটির ফুল ফুটে থাকবে যা সৌন্দর্যের তুলনা হয় না। এরপর তারা ফলের বাগানে ঘুরতে থাকবে এবং যেই ফলের বাগানেই সে যাক না কেন সেখানে পৌঁছে যদি সে মনে মনে চিন্তা করে যদি ফল খেতে পারতাম তখন ওমনি ওই ফল তার কাছে এসে বলবে আপনি কি আমাকে খেতে চান তখন তিনি বলবেন হ্যাঁ তখন সেই ফল অটোমেটিক খোসা ছাড়িয়ে তার মুখের ভিতরে চলে আসবে তখন সে অতি সহজে সেই ফলটি খেয়ে নেবে এতে তার কোন প্রকার কষ্ট কোন প্রকার হাত দিয়ে ফলটি খোসাজ ছাড়াইয়া খাইতে হবে না এমনিতেই খোসা হীন ভাবে তার মুখেই পুড়ে যাবে। খাওয়ার শেষে ওই গাছের সেই ডালটি আবার পুনরায় ধীরে ধীরে সোজা হয়ে উঠে চলে যাবে। এবং যে ভোটা থেকে ফলটি খেয়েছে সেই বোটায় আরো কয়েকগুণ বর্ধিত ফল ধরে থাকবে। আর সেই ফলগুলো যদিও দুনিয়ার জীবনের ফলের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হবে কিন্তু খেতে এক একটি ফলের স্বাদ এক এক রকমের হবে এমনকি প্রতি কামড় দিলে প্রতিটি কামড়ের আলাদা আলাদা মজা পাওয়া যাবে। এমনকি ডান মাড়ির নিচে চাবালে এক স্বাদ পাবে আবার বাম মারির নিচে চাবালে আর এক স্বাদ পাওয়া যাবে। সর্বশেষ এমন কথা পাওয়া যায় যে প্রতিটি ফল 70 এর অধিক প্রকার স্বাদ মেশানো থাকবে।

যখন একজন জান্নাতি ফুলের বাগানে ঘুরতে থাকবে তখন তার সাথে থাকবে 40 জন দাসী ডাইনে থাকবে ৪০ জন বামে থাকবে ৪০ জন হুর গেরমান। ফুলগন সর্বদা জান্নাতিদের সেবায় নিযুক্ত থাকবে এবং কারো হাতে থাকবে পানের ব্যাথা কেউ থাকবে মাথার কাছে কেউ থাকবে পায়ের কাছে আবার কেউ মধুর সুরে মন মাতানো গান শোনাবেন আবার কেউ সামনাসামনি বসে গল্প করবেন অর্থাৎ বিভিন্ন ভাবে জান্নাতে থেকে মজা দান করবেন। তাদের কাজই হবে জান্নাতে কে মন খুশি রাখতে প্রফুল্ল রাখতে যা যা করা দরকার তারা তখন তাই করবে। এই হুর গুলো বয়স থাকবে ১৬ বছরের যুবতী। তাদের চোখগুলো ডাগর ডাগর। চোখের পাতাগুলো মিছমিছে কালো বর্ণের হবে। তাদের চোখের সাদা অংশ খুবই সাদা আর কালো অংশ খুবই কালো তাদের মাথার চুল পায়ের পাতা পর্যন্ত পড়বে। তারা অত্যন্ত সুশ্রী হবে। তাদের দেখলেই মনটা ভালো হয়ে যাবে। তারা কত স্পিডে ভালোবাসে তাও তার দেহের মধ্যে দেখা যাবে মিটারের সাহায্যে। একদিন মহান আল্লাহ তা'আলা জিব্রাইল আলাই সালাম কে বললেন হে জিবরাঈল আমি আমার নিয়ে প্রিয় বান্দা দের জন্য জান্নাতুল আদম তৈরি করেছি যাও তুমি দেখে এসে আমাকে জানাও সেটি কেমন হয়েছে।তখন আল্লাহ পাকের আদেশে জিবরাঈল আঃ জান্নাতুল আদম দেখতে গেলেন এবং জান্নাতুল আযানের মধ্যে ঘুরে ঘুরে তিনি পুরো জান্নাতুল আদম দেখলেন তিনি দেখলেন জান্নাতুল আদম এর মধ্যে ৮০টা খাম্বা এক এক খাম্বার দ্রুত 500 বছরের রাস্তা কত বড় জান্নাত আল্লাহ তাআলা তৈরি করে রেখেছেন সুবহানাল্লাহ। জিবরাঈল আল আসালামের ৬ শত পাখা এক এক পাখার এক ঝাপটায় ১০০ বছরের রাস্তা যেতে পারেন আর তার এই ৬ শত পাখা মিলে তিনি পুরো জান্নাতুল আদনান দেখতে শুরু করলেন দীর্ঘ ছয়শত বছর ওড়ার পর মাত্র তিন খাম্বা যাওয়ার পর তিনি হয়রান হয়ে গেলেন। পুরো জান্নাত তো দেখা দূরের কথা মাত্র 3 খুটি পর্যন্ত ঘোরার পর সে হয়রান প্রেশান হয়ে গিয়েছেন বাকিগুলো তো দেখা দূরের কথা। সেই জান্নাতুল আদমের এক খাম্বার নিচে এক হুর দাঁড়িয়ে আছেন। আর হযরত জিবরাঈল আল ইসলামের হয়রান প্রেশানী দেখে সেই হুর একটু হেসে দিলেন আর সেই হাসি দেখে জিব্রাইল আলাই সালাম সাথে সাথে সেজদায় পড়ে গেলেন। বাকিটুকু পরের পোস্টে ইনশাল্লাহ আলোচনা করা যাবে। আজকে এখানেই শেষ করছি আল্লাহ হাফেজ।

Comments