আমরা ক্ষণস্থায়ী জিন্দেগীর বাসিন্দা, আমাদের করণীয়

alim236

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

 আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

 

 

প্রিয় সাথী বৃন্দ, আজকের এই সুন্দর এবং মনোরম পূর্ণ সকালের লাল গোলাপের শুভেচ্ছা সবার প্রতি। আমি আল্লাহর রহমতে অনেক ভাল আছি। আশা করি আপনারাও আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন।

 

         ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার বাসিন্দা আমরা, আমাদের করণীয়।

 

মহান আল্লাহ তা'আলা এই পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছেন শুধুমাত্র কেবলমাত্র একটা পরীক্ষার হল স্বরূপ। এক কথায় বলা যায় এই পৃথিবী হলো জিন এবং ইনসানের পরীক্ষার হল আর কিছুই নয়।

 

আমরা যারা শিক্ষকতা করি। তারা আমাদের স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীকে পড়াশোনা করাইয়া থাকি। এবং খুব আদর এবং যত্ন করে সর্ববিষয়ে সুন্দরভাবে বোঝানোর চেষ্টা করি এরপর তাদেরকে পড়াশুনা করার জন্য চাপ সৃষ্টি করি তারপর তারা দীর্ঘ কয়েক মাস পড়াশোনা করে এরপর আমরা প্রথম সাময়িক পরীক্ষা নিয়ে থাকি। এরপর আরো দুই তিন মাস পড়ানোর পর দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা নিয়ে থাকি এরপর আমরা বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে থাকি । বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়ার পর আমরা খাতাগুলো মূল্যায়ন করি। তারপর কয়েকদিন পরেই তাদেরকে রেজাল্ট শুনাইয়া দেই এবং রেজাল্টে যারা পাস করে অর্থাৎ প্রথম স্বামী পরীক্ষায় যারা পাস করে তাদেরকে আমরা তাদের ফলাফল জানায় দেয় দেখাইয়া দেই এবং তাদেরকে আরো ভালোভাবে পড়াশোনা করার চেষ্টা করি। এবং পরীক্ষায় কি ভুল ত্রুটি হয়েছিল তা তাদেরকে বোঝায় ধরাইয়া দেই এবং সংশোধনের জন্য বলে থাকে। এরপরে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষায় ওই একই অবস্থা অবলম্বন করে থাকি তাদেরকে বারবার সতর্ক করি সংশোধনের চেষ্টা করি এবং আরো বেশি পড়াশুনা করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে থাকে। এরপর বার্ষিক পরীক্ষা যখন হয় তখন তাদেরকে যদি পাশ হয় তাহলে পরবর্তী দ্বিতীয় বছরে জন্য এলাও করে থাকি আর যদি ফেল করে বা পরীক্ষায় খারাপ করে তাহলে তাকে দ্বিতীয় বর্ষে ওঠার জন্য অনুমতি দেয় না।

 

এই যে পরীক্ষা হল ছাত্র-ছাত্রীকে আমরা যেখানে পরীক্ষা নেই সেই হলের কিছু নিয়মকানুন রয়েছে নিয়ম-কানুন গুলো হল আমরা তাদেরকে প্রথমে প্রবেশপত্র দিয়ে থাকি। পরীক্ষার হলে প্রবেশ করার জন্য। যখন সে প্রবেশপত্র হাতে পায় তখন সে পরীক্ষার হলে যথা টাইমে অর্থাৎ দশটায় যদি পরীক্ষা শুরু হয় তার থেকে কমপক্ষে ১৫ মিনিট আগে হলে প্রবেশ করতে হবে। পরীক্ষার হলে প্রবেশ করার পর যার যার যেখানে আসন তাকে সেখানেই বসতে হবে। পরীক্ষার হলে পরিবেশ বজায় রাখার জন্য যে সমস্ত নিয়মকানুন রয়েছে সবই তাকে মানতে হয়। এরপর পরীক্ষা শুরু হয়। তাকে খাতা দেওয়া হয় এবং প্রশ্ন দেওয়া হয়। প্রশ্ন করে তার উত্তর গুলো খাতায় লিখবে। এখন যদি কেউ ভুল উত্তর লেখে স্যার কখনো তাকে বলবেও না বাধাও দিবে না। আর যদি কেউ সঠিক উত্তর লেখে তবুও তাকে কেউ কিছুই বলবে না এবং কোন প্রকার বাধা ও প্রদান করবে না। অর্থাৎ ভুল লেখলেও কোন প্রকার সমস্যা নেই সঠিক লিখলেও কোন প্রকার সমস্যা নেই স্যারদের। সমস্যা একমাত্র ওই ছাত্রের যে ভুল লেখে। সমস্যা নেই ওই ছাত্রের যে সঠিক উত্তর লেখে।

পড়াশোনা করতে হয় দুই বৎসর অথবা প্রথম সার্টিফিকেট পরীক্ষা দেওয়া হয় প্রায় ১০ বছর পড়াশোনা করার পর। ১০ বছর দীর্ঘ সময় পড়াশোনা করার পর পরীক্ষার সময় মাত্র তিন ঘন্টা। একবারও এরকম টাইম কম সময় ক্ষণস্থায়ী সময়। সময় শেষ হলেই ছাত্রের লেখার অধিকার থাকে না আর খাতা নিয়ে নেওয়া হয়। এরপর সেই খাতাগুলো শিক্ষকগণ মূল্যায়ন করে থাকে এবং পাশ ফেল নির্ধারণ করে থাকে।

 

তেমনি ভাবে মহান আল্লাহ তা'আলা এই পৃথিবী কে পরীক্ষার হল হিসাবে তৈরি করেছেন এবং ইনসানকে এই ফলে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য। আখিরাতের জিন্দেগি অনন্ত অনাদিকাল শুরু হবে আর কখনোই শেষ হবে না। অথচ সেই দিনের জন্য সেই দীর্ঘ সময়ের জন্য এই দুনিয়ার পরীক্ষার সময় মাত্র ৬০ থেকে ৭০ বছর। এই ৬০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে আবার প্রথম অর্থাৎ শিশু থেকে কৈশোর পর্যন্ত ১৫ বছর কোন প্রকার হিসাব আল্লাহ নিবেন না এরপর আমাদের হিসাব শুরু হবে। তাহলে আমরা সময় পাই ৭০ এর মধ্যে ১৫ বছর বাদ দিলে ৫৫ বছর। এই পুষ্পান্ন বছর আখিরাতের সময়ের তুলনায় কিছুই না আধা মিনিট হবে না অর্থাৎ কয়েক সেকেন্ড হবে না। কারন আমরা জানি যে যে জিনিস একই রকমের বৈশিষ্ট্য তাদের মধ্যে তুলনা করা যায় কিন্তু ভিন্ন ধরনের বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন জিনিসের মধ্যে তুলনা করা যায় না। তাইতো আখিরাতের জিন্দেগীর সাথে দুনিয়ার জিন্দেগি তুলনা করা যায় না কারণ দুনিয়ার জিন্দেগি শুরু আছে আবার শেষ হয়ে যায় আর আখিরাতের জিন্দেগি শুরু হয় আর কখনোই শেষ হয় না। তাহলে বিষয়টা কি দাড়াইলো বিষয়টা হলো আখেরাতে জিন্দেগীর সাথে দুনিয়ার জিন্দেগি তুলনায়ও নয় তারপরেও আমরা বোঝার জন্য কিছু তুলনা করে থাকি।

 

আমরা দুনিয়ার মাঝে এসে এমন অবস্থায় চলি যেমন আমরা যখন বাজারে যাই তখন দেখা যায় সবাই বিভিন্ন ব্যস্ততায় ঘোরাঘুরি করতেছি কেউ তরকারি কিনছে। কেউ চাউল কিনছে অর্থাৎ যার যা প্রয়োজন সে তাই কেনার জন্য ব্যস্ত কেউ কারো প্রতি কোন প্রকার খেয়াল নেই। তেমনি আমরা বাজারের মতোই আমাদের জিন্দেগীর প্রত্যেকটি কাজ নিয়ে এমন ব্যস্ততায় পড়ে আছে অথচ আসল ব্যস্ততা যেটা আমার পরকালীন জিন্দেগীতে দরকার পড়বে অর্থাৎ লাগবে সেটা নিয়ে আমি কখনোই ব্যস্ততা দেখায় না। আখেরাতে জিন্দেগীর কাজ নিয়ে আমরা কখনোই ভ্রুক্ষেপ করি না অর্থাৎ তাগাদা মনে করি না। আমরা মনে করিতেছি আমাদের জিন্দেগী এইভাবেই চলবে। আমরা বিভিন্ন পন্থায় রোজগার করিতেছি খাইতেছি ঘুরতেছি পড়তেছি চলতেছি কিন্তু এটা যে আমার পরীক্ষার হল এখানে যে আমি পরীক্ষা দিচ্ছি এই বিষয়টা আমার মধ্যে একটিও চিন্তা হলো না।

আমরা এখানে কি পরীক্ষা দিচ্ছি আর কি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল শেষ সম্পর্কে একটু কি ভেবে দেখেছি না কখনই আমরা সেটা ভেবে দেখি না আমরা শুধু দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ত আছি দুনিয়া কিভাবে অর্জন করব কিভাবে টাকা কামাই করব কিভাবে আরাম আইসি জিন্দেগি কাটাবো। কে কত বড় ধনী হতে পারব কে কত বিলাসিতা হতে পারি তা নিয়ে আমাদের প্রতিনিয়ত প্রতিযোগিতা চলতে থাকে কেউ যদি বিল্ডিং তৈরি করে আমরাও চেষ্টা করি বিল্ডিং তৈরি করার জন্য। কেউ যদি একতলা বিল্ডিং তৈরি করে আমরা দোতলা বিল্ডিং তৈরি করার জন্য চেষ্টা করি। কেউ যদি একটা সাইকেল কিনে আমি চেষ্টা করি একটা মোটরসাইকেল কেউ যদি একটা গাড়ি কেনার চেষ্টা করে আমি চেষ্টা করি আরও উন্নত মানে গাড়ি কেনার জন্য। কেউ একটা ভালো পোশাক কিনলে আমরা চেষ্টা করতে আরও বেশি ভালো পোশাক কেনার জন্য। পারো যদি একটি পোশাক থাকে সে চেষ্টা করে আরো আরেকটি পোশাক তৈরি করার জন্য। কারো যদি একটা বাড়ি থাকে সে চেষ্টা করে আর একটা বাড়ি করার জন্য। তাহলে যদি একটি গাড়ি থাকে সে চেষ্টা করে আরেকটি গাড়ি কেনার জন্য। এখানে আশা থেমে নেই এক আশাকে শুধু আর এক আশায় হাতছানি দিয়ে ডাকতে থাকে। দুনিয়ার সাথে একবারে আমরা একাকার হয়ে গেছি মিশে গেছি।

 

আমাদের মনে নেই যে আমরা এখনো স্থায়ী দুনিয়ায় কিছুদিন আছি এর পরেই আমাদেরকে পরকালে জিন্দেগীতে চলে যেতে হবে। সেই যে যাব আমি হাতে কি নিয়ে যাচ্ছি সেই ব্যাপারে আমাদের কোন প্রকার চিন্তা নেই ভাবনা ও নেই চিন্তা করার চেষ্টাও করি না ভাবনা করারও চেষ্টা করি না। আমি মনে করিতেছি এই ভাবি আমার জিন্দেগী কেটে যাবে আসলে এইভাবে জিন্দেগি কাটবেনা কারণ মৃত্যুর পরে যদি আমি দুনিয়ার জিন্দেগি পরীক্ষায় পাশ করি, তবেই তো মুক্তি আর যদি ফেল করি তাহলে তো দুঃখের সীমা থাকবে না।

 

তাই আমরা হাট বাজারের মধ্যে মানুষ যেভাবে ব্যস্ত থাকে সেই ভাবে আমি আমার পরকালের জিন্দেগি নিয়ে সর্বসময় চিন্তা করি সর্বসময় চেষ্টা করি সর্বসময় ব্যস্ত থাকি ইবাদতে মশগুল থাকি। আমি যেন ভালভাবে মরতে পারি নেককার হিসেবে মরতে পারি এবং মরনের পরেই যেন কবরের যে চারটি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা হবে সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর আমি দুনিয়াতে এই অল্প সময়ের মধ্যেই সংগ্রহ করার চেষ্টা করি আর যদি আমি কবরে সেই চারটি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারি। তাহলে আমার আর কোন চিন্তা থাকবে না আমার আর কোন ভয় থাকবে না মহান আল্লাহতালা খুশি হবেন এবং প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফায়েত পাবো। পরম সুখের জিন্দেগি যেখানে দুঃখ জানা নেই কোন প্রকার কষ্ট হবে না সেই জিন্দেগী আমাদেরকে মহান আল্লাহতালা দান করবেন।

 

 আসুন আমরা দুনিয়ার জিন্দেগীতে সঠিক পরীক্ষা দেই সঠিক উত্তরগুলো খাতায় লিখে পরীক্ষায় পাস করি আমরা পরকালীন সেই সুখের জায়গা জান্নাত লাভ করার আপ্রাণ চেষ্টা করি। আজকের মত এখানেই শেষ করছি আল্লাহ হাফেজ।

 

।

Comments

asad18
যে আল্লাতালা আমাদের শুধু এ দুনিয়াকে পরীক্ষা মূলক বা বীজ বপণের স্থান। যারা দুনিয়াতে নেক আমল করবে ভালো কাজ করবে আমি সেই কাজের ফলস্বরূপ আল্লাহ তায়ালা পরকালে জান্নাত দান করবেন। ক্ষণস্থায়ী জীবনে আমাদের সর্বদা স্রষ্টার পথে আমাদের জীবনকে করতে পারলেই আমরা পূর্ণাঙ্গ মুমিন হতে পারবো ।
mahmud50
আল্লাহ রব্বুল আলামীন আমাদের কে চিরস্থায়ী জীবনের সামানা নিয়ে যাওয়ার তৌফিক দান করুন। আমিন
sereybd

যেকোন প্রয়োজনে আমাদের ডিসকোর্ড চ্যানেলে যোগাযোগ করতে পারেন। - https://discord.gg/P4UFyjaZ

আপনার পোস্ট @sereybd দ্বারা কিউরেট করা হয়েছে। Serey Bangladesh কমিউনিটিতে পোস্টটি শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ

৥realsort-elyas দ্বারা ম্যানুয়ালি কিউরেট করা হয়েছে