বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি বারকাতুহু।
প্রিয় সাথী বৃন্দ,
আশা করি আপনারা সবাই ভাল আছেন আমিও আল্লাহর রহমতে অনেক ভাল আছি সুস্থ আছি। আজকে আমি
আজকে গীবতকারীর শাস্তি বিভিন্ন দিক নিয়ে আজকের এই পোস্ট সাজাইতে যাচ্ছি। এই পোস্টে আপনাদের সকলকে স্বাগতম এবং অভিনন্দন।
গীবত একটি জঘন্যতম অপরাধ। এর শাস্তি অত্যন্ত ভয়াবহ এবং মারাত্মক। এই গীবত গাওয়ার শাস্তি মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে । যার একটি হল দুনিয়ার শাস্তি অপরটি হলো আখিরাতের শাস্তি। প্রথমে আমরা আখেরাতে শাস্তি নিয়ে কিছু কথা তুলে ধরি।
আখিরাতের শাস্তিঃ পৃথিবী একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে। সাত আসমান জমিন সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে। ধ্বংস হওয়ার পর হাশরের ময়দান কায়েম হবে। আর তখন মহান আল্লাহতালা জিন এবং ইনসানের বিচার কার্য শুরু করবেন।
তখন সব অপরাধের বিচার শুরু হবে তার মধ্যে একটা মারাত্মক অপরাধ থাকবে সেই অপরাধ টির নাম হলো গীবত। যার গীবত গা হয় তার অনেক অনেক খুশির খবর রয়েছে কারন তার সবচাইতে বেশি লাভ হবে।
যার গীবত গাওয়া হয়, তার খুশির খবর হলোঃ পূর্বের পোস্টে আমরা আলোচনা করেছিলাম যে, গীবত করতে তিনজন ব্যক্তি লাগে। আর এই তিনজন ব্যক্তির মধ্যে পরকালীন জিন্দেগীতে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে, যার সম্পর্কে গিবত দেওয়া হয়। আর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যে গীবত গায় অর্থাৎ গীবতকারীর।
যার গীবত গাওয়া হয়, সে কিভাবে বেশি লাভবান হয় তাহা হলোঃ যখন হাশরের ময়দান কায়েম হবে। এরপর যখন মহান আল্লাহ তা'আলা বিচারকার্য শুরু করবেন । তখন মহান আল্লাহ তা'আলা গীবতকারীর এবং যার গীবত গাওয়া হয়েছে তাদের দুজনকে উপস্থিত করা হবে। তারপর মহান আল্লাহতালা গীবতকারীর যে পরিমাণ গীবত গেয়েছে, সেই পরিমাণ নেকি(যার গীবত গাওয়া হয়েছে) তাকে দিয়ে দিবেন।
অথচ হাশরের ময়দানে একটি নেকি কম হলে, যার জন্য তাকে জাহান্নামে যেতে হবে। সে একটি নেকি কোথাও খুঁজে পাবে না। কেউ তাকে একটা নেকি দান করবে না অথচ গীবতকারীর কত বড় ক্ষতি হবে যে, তার নেকি (যার গীবত গাওয়া হয়েছে) তাকে দিয়ে দেওয়া হবে। তখন আফসোস ছাড়া আর কোন উপায় থাকবেনা।
গীবত কারীর দুনিয়াবী শাস্তিঃ গিবতকারীর দুনিয়াবী শাস্তি অনেক বড় কঠিন। এই গীবতকারী যখন দোয়া করবে তার কোন প্রকার দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। শুধু দোয়া নয়, সে যা যা আমল করবে তাও আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। আর তার আমলনামায় শুধু পাপ বৃদ্ধি হতেই থাকবে হতেই থাকবে।
এছাড়াও যে গীবত শুনতে থাকে, নিজে গীবত গায় না । সেও গীবতকারীর সমতুল্য পাপে পাপি হবে। তার শাস্তিও গীবতকারের শাস্তি সমতুল্য।
তাই আসুন আমরা গীবত গাওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করার শপথ করি। গীবত শোনা থেকেও নিজেকে রক্ষা করি। আমাদের পরকালীন জিন্দেগি সুন্দর সুখময় করার জন্য এই জঘন্যতম অপরাধ গীবত হতে নিজেকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করি। আজকে এই পর্যন্তই আল্লাহ হাফেজ।

Comments