Serey is utilizing Blockchain technology

আখিরাতের কল্যানকামী হতে চাইলে, রিয়া অথ্যাৎ লোক দেখানো মনোভাব পরিহার করতেই হবে।

A
alim236



বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

আসছালামুআলায়কুম ওয়া রহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহু।


প্রিয় সাথী বৃন্দ,

আজকে আমি আমাদের একটি রুহের রোগ- রিয়া অর্থাৎ লোক দেখানো মনোভাব। এই রুহের রোগ নিয়ে কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করব ইনশাআল্লাহ।


আমরা মানুষ, আমাদেরকে মহান আল্লাহ তা'আলা চঞ্চল করে সৃষ্টি করা হয়েছে। আমরা সবাই খুব চঞ্চল, কখনো স্থির থাকতে পারিনা। আমরা সবাই অস্থির। আমরা আমাদের শিশুকাল থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত এক এক সময়ে, এক এক জিনিস, আমাদের পছন্দের তালিকায় থাকে। শিশুকালে যেমন আমরা খেলাধুলা বেশি পছন্দ করি। যৌবন বয়সে আমরা নেতৃত্ব, নারী এরপর আমরা পথপদবী, মুরুব্বীগিরি, নামধাম ইত্যাদি প্রতি লোভ থাকে বৃদ্ধ পর্যন্ত।



আর আমাদের জীবনে সবচেয়ে একটা বড় রোগ হলো লোক দেখানো মনোভাব। এই রোগটা আত্মার রোগ হিসেবে অভিহিত। এই রোগটা এতই জঘন্যতম নিকৃষ্টতম যা আমাদের ঈমান, আমল দুইটাই একেবারে ধ্বংস করে দেয়। আমরা যা আমল করি তাহার কোন নেকি আমাদের আমলনামায় জমা হয় না। যাকে দেখানোর উদ্দেশ্যে আমরা আমলগুলো করি, মহান আল্লাহতালা সেই সমস্ত আমলের নেকি তাদের থেকেই নিতে বলবেন অর্থাৎ মহান আল্লাহতালা সে সমস্ত আমলের কোনো নেকি দিবেন না।



এ বিষয়টি বোধগম্য হওয়ার জন্য আমরা একটি হাদিস উল্লেখ করবো এখন। মহান আল্লাহ তাআলা হাশরের ময়দানে অথ্যাৎ বিচার দিবসে তিনজন ব্যক্তিকে দেখে নিবেন। তার মধ্যে এক দানশীল ব্যক্তি থাকবে, তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তুমি দুনিয়ার জীবনে তোমাকে এত সম্পদ দেওয়া হয়েছিল, তা তুমি কিভাবে ব্যয় করেছ। তখন দানশীল ব্যক্তি বলবে, হে আল্লাহ আমি দুনিয়াতে মসজিদ, মাদ্রাসা, দুঃস্থ ব্যক্তি নেই যে, তাদেরকে আমি টাকা পয়সা দিয়ে দান করি নাই। তখন মহান আল্লাহ তায়ালা তাকে বলবে, তুমি মিথ্যুক অর্থাৎ মিথ্যা কথা বলিতেছ। লোকে তোমাকে বাহবা দিবে, দানশীল বলবে এই জন্য তুমি দান করেছো। এখন তুমি যাকে দেখানোর জন্য দান করেছ, তাদের থেকে তোমার বদলা বা নেকির নিয়ে নাও। আমার কাছে কোন বদলা নেই।



এরপর মহান আল্লাহতালা ঐ শহীদকে ডেকে বলবেন, তুমি আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়েছ, তখন শহীদ ব্যক্তি বলবে জ্বী মাবুদ, আমি তোমার দ্বীনকে জিন্দা করার জন্য শরীরের শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত যুদ্ধ করতে করতে শাহাদাত বরণ করেছি আর এটা একমাত্র তোমার জন্যই করেছি। তখন মহান আল্লাহ তা'আলা তাকে বলবে, তুমি মিথ্যুক অথ্যাৎ তুমি মিথ্যা কথা বলিতেছ। লোকে তোমাকে শহীদ বলবে, এই জন্য তুমি যুদ্ধের ময়দানে যুদ্ধ করে শহীদ হয়েছ। তোমার কোন বদলা আমার কাছে নেই। যাদের জন্য করেছ, তাদের থেকে তোমার বদলা নিয়ে নাও।



এরপর মহান আল্লাহতালা এক হাজীকে ডেকে বলবেন, তোমাকে সম্পদ দেয়া হয়েছিল। তুমি তো হজ্ব করেছ, তখন হাজী বলবে, আমি তোমার উদ্দেশ্যেই হজ করেছি। তোমাকে রাজি এবং খুশি করার জন্য হজ করেছি। তখন মহান আল্লাহতায়ালা তাকে বলবেন, তুমি মিথ্যুক অর্থাৎ মিথ্যা কথা বলিতেছ। লোকে তোমাকে হাজী বলবে, এজন্য তুমি হজ করেছ। অতএব যাদেরকে দেখানোর জন্য তুমি হজ করেছ, তাদের থেকে তুমি বদলা অথ্যাৎ নেকি নিয়ে নাও। আমার কাছে কোন বদলা নেই।


লোক দেখানো অর্থাৎ রিয়া যে কত বড় জঘন্যতম অপরাধ তা আমরা এই হাদিস থেকে উপলব্ধি করতে পারলাম। আসলে আমাদের ইবাদত বন্দেগী অথ্যাৎ যে আমল বা কাজই করি না কেন, একমাত্র, শুধুমাত্র, কেবলমাত্র, মহান আল্লাহ তায়ালাকে রাজি এবং খুশি করার জন্যই করতে হবে। তাহলে মহান আল্লাহ তা'আলা সেই আমলের নেকি আমাদেরকে দান করবেন। আমাদের প্রতি খুশি হবেন এবং চিরস্থায়ী শান্তিময় জায়গা জান্নাত দান করবেন। আসুন আমরা রিয়া মুক্ত আমল করি। নাজাত পেয়ে যায়।

4099.473 SRY$0.00
Bengali Community

Comments