আমরা দায়ী উম্মত আমাদেরকে দাওয়াতের কাজ অর্পণ করা হয়েছে।

alim236
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

প্রিয় সাথী বৃন্দ, আজকে আমি আমাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য হলো দাওয়াতের আমল। দাওয়াত হলো সকল আমলের পাওয়ার হাউজ। পাওয়ার হাউস যদি চালু থাকে তবে বাতি জলে, ফ্যান চলে, সমস্ত ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি চলতে থাকে। আর পাওয়ার হাউজ বন্ধ হয়ে গেলে কোন প্রকার ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি আর চলতে পারে না কারণ সে তো আর শক্তি পাচ্ছে না পাওয়ার পাচ্ছে না। ঠিক একইভাবে দ্বীনের দাওয়াত যদি চালু থাকে তবে মসজিদ চালু থাকে মাদ্রাসা চালু থাকে তালিমের ঘর চালু থাকে। যেমন কোন জায়গায় যদি বৃষ্টি না হয় তবে পশু পাখি উদ্ভিদ রাজী যেমন কষ্ট পায় শান্তি পায় না ফসলাদি ঠিকমতো হয় না ঠিক তেমনি মাঝে মাঝে আমরা আল্লাহর বাণী না শুনলে মনটা মরুভূমির মত খা খা করতে থাকে। তাই আমাদের দরকার প্রতিদিন প্রতিনিয়ত মহান আল্লাহ তায়ালার গুণাবলী মহান আল্লাহতালার শক্তি মহান আল্লাহ তাআলার দয়া মহান আল্লাহতালার মেহেরবানী মহান আল্লাহ তায়ালার কুদরত মহান আল্লাহতালা সৃষ্টি ইত্যাদি আলোচনা শুনতে হয় আর এই আলোচনাগুলো যদি আমরা শুনি তবে আমরা আমাদের মন দৃষ্টি হলে যেমন ফসলা দিয়ে খুব সুন্দর হয় তেমনি আমাদের মনটাও আনন্দে ভরে যায় ঈমানের পরিপূর্ণ হতে থাকে। তাই আমাদের পরিবারে আমাদের সমাজে আমাদের এলাকা আমাদের এই দেশে ইসলামের বাণী চালু রাখা আল্লাহ তায়ালার বড়ত্বের আলোচনা প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর তরিকা ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে হলে শুনতে হলে আমাদেরকে দাওয়াতের আমল চালু রাখতে হবে। আর এই দাওয়াতের আমল গুলি চালু থাকে তবে আমরা প্রতিনিয়ত ইসলামের বাণী গুলো শুনতে পারবো আর ইসলামের বাণী যদি আমরা শুনতে পারি তবে আমাদের দুর্বল ঈমানদার মুসল্লিও সবল ঈমানের অধিকারী হবে।

তাইতো আমার প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দীর্ঘ 13 বছর মক্কার অলিগলিতে ঘরে বাইরে সর্ব জায়গায় ইসলামের দাওয়াত নিয়ে পৌঁছে যেতেন এবং তিনি দীর্ঘ 13 বছর দিন রাত ২৪ ঘন্টা মেহনত করিতেন। মহান আল্লাহ তায়ালা নিজেই বলেছেন আমি প্রত্যেকটি নারী এবং পুরুষের উপর দাওয়াতের আমল ফরজ করে দিলাম। আমরা শিক্ষিত হই, মূর্খ হই, চালাক হই কালো হই সাদা হয় যাই হয় না কেন আমাকে দাওয়াতের আমল করতেই হবে এটা আমাদের জিম্মাদারী। আমাদের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আর কোনদিন পৃথিবীতে ফিরে আসবেন না। এ পৃথিবীতে আর কোন নবীও আসবে না কিন্তু এ দাওয়াতের আমল কিয়ামত পর্যন্ত জারি রাখতে হবে। আর এই জারি রাখার জন্য প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দাওয়াতের দায়িত্ব প্রতিটি উম্মতের উপর অর্পণ করে গিয়েছেন। প্রত্যেক উম্মতকে অবশ্যই দাওয়াতের কাজ করতে হবে। একটি আয়ত যদি জানা থাকে তবুও অপরের কাছে পৌঁছাতে হবে একটি হাদিস ওযুল জানা থাকে তবুও অপরের কাছে বলতে হবে। যেভাবেই হোক না কেন দাওয়াতের আমল করতেই হবে করতেই হবে। আর যদি আমরা এই দাওয়াতের আমল না করি তবে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ আমাদেরকে শাফায়েত করবেন না। তখন তিনি বলবেন তোমরা তো আমার উম্মত নও কারণ তোমাদের যে দায়িত্ব অর্পণ করেছিলাম সে দায়িত্ব তোমরা পালন করনি।
দাওয়াতের আমলের ফজিলতঃ বলা আছে যে যে মুমিন নারী তার স্বামীকে আল্লাহর রাস্তায় পাঠিয়ে দিয়ে নিজে কষ্ট ধৈর্য এবং সাহসিকতা শহীদ ধৈর্য ধারণ করবে ওই নারী পুরুষের চেয়েও ৫০০ বছর আগে জান্নাতে যাবে এবং ৭০ হাজার ফেরেশতা হুরদের সরদার হবে। এছাড়াও আমরা আরো জানতে পারি যে, জাফরান দ্বারা তাকে গোসল করানো হবে সেই আকুতের পাথরের ঘোড়ার উপর শুয়ার হয়ে তার স্বামীর জন্য অপেক্ষায় থাকবে। এছাড়াও নবী করীম সাঃ বলেছেন যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় বের হয়ে যায় এবং যে পরিমাণ ধুলাবালি শরীরে লাগবে সেই পরিমাণ মেশকো পাবে। আর আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়ার পরে যদি তার শরীর অসুস্থ অর্থাৎ মাথা ব্যথা হয় এবং এই মাথা ব্যাথার উপর যদি সে ধৈর্য ধারণ করে তবে তার পিছনের সমস্ত গুনাহ আল্লাহ তা'আলা মাফ করে দিবেন। এছাড়াও প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাহু সাল্লাম বলেছেন মহান আল্লাহতালা অসংখ্য তার আমল নামায় লিখে দিবেন। এছাড়াও প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাহু সাল্লাম বলেছেন আল্লাহর রাস্তায় বের হয়ে সে যত কথা বলবে প্রতি কথার বিনিময়ে অসংখ্য সব তার আমলনামায় লিখে দেওয়া হবে। এছাড়াও আল্লাহর রাস্তায় বের হয়ে কোন ভাইয়ের কাছে যদি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করা হয় যে সে ভিতর থেকে আসতেছে বা কাজ আছে কাজ থেকে ফারুক হয়ে তাদের কাছে আসতে যে পরিমাণ দেরি হয় এই পরিমাণ যদি তারা দাঁড়াইয়া থাকে তবে দুনিয়া এবং দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম সব তার আমলনামায় লিখে দেওয়া হবে। ব্যক্তি যদি আল্লাহর রাস্তায় বের হয় কিছু সময় দাঁড়িয়ে থাকে তবে আপন ঘরে সত্তর বছর নফল ইবাদত করলে যে সব তা তার আমলনামায় মহান আল্লাহতালা লিখে দেন।

এই দাওয়াতের আমলের কারণে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অন্যান্য নবীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছে। এই দাওয়াতের আমলের কারণে আমার প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সালাম উম্মতদেরকে সবার আগে জান্নাত দেওয়া হবে। আমার প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সালামের মর্যাদা অন্যান্য নবী হতে অনেক অনেক গুণ বেশি। মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত সবচাইতে মর্যাদাপূর্ণ সবচাইতে দামি সবচাইতে নিয়ামত পূর্ণ জান্নাত আমার প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেয়া হবে কারণ তিনি সব নবী হতে শ্রেষ্ঠ নবী।
এই দাওয়াতের আমল করলে আমাদের ঈমান বাড়তে থাকে এবং বাড়তে বাড়তে আমার ঈমান এমন এক পর্যায়ে পৌঁছবে যখন আমার দ্বারা আর কোন অন্যায় কাজ হবে না আমার দ্বারা আর কোনদিন নামাজ কমায় যাবে না আমার দ্বারা কোন মানুষের কষ্ট দেওয়া হবে না আমার দ্বারা মানুষের উপকার করা হবে। ঈমান যখন বাড়বে তখন ওই মানুষটি আল্লাহর জন্য হয়ে যাবে অর্থাৎ আল্লাহ যা হুকুম করেছেন তা সে অক্ষর অক্ষরে পালন করবে এবং আল্লাহর বড়ত্ব তার অন্তরে বদ্ধমূল হয়ে যাবে তার অন্তর আল্লাহর নাম ছাড়া আর কিছুই থাকবে না। তার সর্বসমরি জিকির হবে একমাত্র আল্লাহর তার চোখ যখন দেখবে আল্লাহর জন্যই দেখবে তার মুখ যখন কথা বলবে আল্লাহর জন্যই বলবে যখন তার হাত চলবে তখন আল্লাহর জন্যই চলবে যখন তার পা চলবে তখন আল্লাহর জন্যই চলবে। যখন আল্লাহ তার সমস্ত হৃদয় জুড়ে অবস্থান করবে অর্থাৎ বিরাজ করবে তখন সে হযরত মুহাম্মদ সঃ এর আদর্শ গ্রহণ করে নেবে।। প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর প্রত্যেকটি সুন্নাত প্রত্যেকটি কাজ প্রত্যেকটি কাজের সমর্থন সে জীবন দিয়ে আমল করার চেষ্টা করবে।

তাই আসুন আমরা দাওয়াতের আমল গুরুত্বসহকারে করি, নিজের ঈমান বৃদ্ধি করি। নিজের ঈমান বৃদ্ধি করে আমরা আল্লাহর পরিচয় নিজের অন্তরের বদ্ধমূল করে নেই এবং প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তরিকা গ্রহণ করে নেই তবে আমি পাব সুখ-শান্তির সমৃদ্ধির জায়গা জান্নাত এবং অনন্ত দুঃখের জায়গা কষ্টের জায়গা ভয়ংকর জায়গা জাহান্নাম হতে আমরা বেঁচে যাব। তাই আসুন আমরা জান্নাত লাভের জন্য এবং জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর হুকুমগুলো অক্ষর অক্ষরে পালন করি এবং প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর সুন্নত সমূহ নিজের জিন্দেগীতে আমলে পরিণত করি। আজকের মত এখানেই শেষ করছি আল্লাহ হাফেজ।
    

Comments