আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
প্রিয় সাথী বৃন্দ, আজকে আমি নদীর তীরে বসবাস গ্রামের বসবাস এবং শহরে বসবাস নিয়ে কিছু আলোচনা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই ইনশাআল্লাহ। এই পোস্টটা আপনাদের সকলকে স্বাগতম।
আমরা যারা নদীর তীরে বসবাস করি। তাদের জীবন অনেক বৈচিত্র্যময় এবং আনন্দময় হয়ে থাকে। শুধুমাত্র আনন্দময় এবং সুখময় হয় না নদীর তীরে বসবাস অনেক দুঃখের কারণ হয়ে থাকে আমরা প্রথমে নদীর তীরে বসবাস সুখময় দিকগুলো আগে আলোচনা করব।
নদীর কিনার বসবাস করার অন্যতম উপকারিতা হলো খোলামেলা জায়গা যা আমরা আমাদের দৃষ্টিকে প্রসারিত করতে পারি। এই খোলামেলা জায়গা দেখতে দেখতে আমাদের মনেও প্রশস্ত হয়ে যায়। যেমন কেউ যদি নদীর কিনারে দাঁড়াইয়া ওপারে কুল দেখতে চায় অর্থাৎ সুদূর পানি আর পানির উপর দৃষ্টি রাখে তবে তার মন উদার এবং প্রশস্ত হয়ে যায়। সে জীবনের সংকীর্ণতা থেকে সম্পূর্ণ বের হয়ে আসতে পারে। সে সাধারণত উদার প্রকৃতির হয়ে থাকে।
এরপর নদীর কিনারে সাধারণত নির্মল পরিশুদ্ধ দূষণমুক্ত বাতাস আমরা পেয়ে থাকি। প্রতিদিন সকালে যখন আমরা মহান আল্লাহ তাআলার ইবাদত করে নদীর কিনার ায় ঘুরতে যাই বা ভ্রমন করতে যায় বা নদীর কেনার দেখে থাকি তখন আমরা পরিশুদ্ধ নির্মল দূষণমুক্ত বায়ুটা আমরা গ্রহণ করি। যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। আমরা জানি দূষণযুক্ত বায়ু যদি আমরা সেবন করি তবে আমাদের নানা রোগ ব্যাধি হয়ে থাকে। যেমন কার্বন মনো অক্সাইড যা একটা নীরব ঘাতক গ্যাস এই গ্যাস আমাদের কি পরিমান ক্ষতি করে তা যদি কেউ জানতো তাহলে সবাই অবাক হয়ে যেত। বর্তমান দেখা যায় যে আমাদের সমাজে অধিকাংশ মানুষ আক্রান্ত হয়। এর কারণ পরোক্ষভাবে এই কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস। কিন্তু নদীর কিনারে যদি আমরা বাড়ি বা বসবাস করে থাকি তবে আমরা দূষণমুক্ত বাতাস গুলো আমরা সেবন করিতে পারি আমাদের শরীর ভালো থাকে সুস্থ থাকে এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।
এরপর নদীর কিনারে যদি আমরা বসবাস করি তবে আমাদের জমিগুলো নদীর কিনার দিয়ে থাকে যা বন্যায় প্লাবিত হয়ে পলিমাটি পড়ে। এই পলি মাটিযুক্ত জমিতে আমরা যা চাষ করি না কেন উর্বর ফসল খুলে থাকে। যা আমাদেরকে ভেজাল মুক্ত খাবার হতে রক্ষা করে থাকে। এরপর আমরা নদীর কিনারে বসবাস করি আমাদের যাকাত ব্যবস্থা শান্ত সহজলভ্য এবং সস্তা হয়ে থাকে। কারন আমরা সব্বাই জানি পৃথিবীতে সবচেয়ে সহজ পরিবহন খরচ হলো জলপথে। জলপথে আমরা পরিবহন খরচও কম এবং পরিবহন করে অত্যন্ত সুবিধা হয়ে থাকে।
এরপর নদীর কিনারে যদি আমরা বসবাস করি তবে আমরা নদীর টাটকা মাছগুলো খেতে পারি। সহজে মাছগুলো আমরা সংগ্রহ করতে পারি যদি আমরা নদীর কিনারে বসবাস করে থাকি। যেমন মাছগুলোর মধ্যে আছে বোয়াল, চিতল, ফইলা, চিংড়ি, বাঁশপাতাড়ি, মলা মাছ, ঢেলা মাছ আরো নাম অজানা অনেক মাছ রয়েছে। এ মাছগুলো যেমনি পুষ্ট গুণে ভরপুর তেমনি খেতে অনেক সুস্বাদু যা শুধুমাত্র নদীর কিনারায় বসবাস করলেই এরকম টাটকা মাছগুলো পাওয়া সম্ভব হয়।
আমাদের বাড়ির পাশেই জেলেরা সারারাত্রি মাছ ধরে সকালে এনে এখানে বিক্রি করে। তার কিছু ছবি বা চিত্র এবং বিভিন্ন প্রকার মাছের ছবিগুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। কেউ যদি দূরান্ত থেকে এখানে মাছ কিনতে আসতে চায় তবে আসতে পারে সকালে এসে মাছ কিনতে পারবে। অনেক কম দামে মাছ কিনতে পারবে।
এছাড়াও এই নদীর পানি যখন ভরপুর হয়ে যায় তখন সৌন্দর্যের অবতারণা হয় যা দেখলে যে কেউ মনে ভালো হতে বাধ্য। আমাদের বাড়ির পাশে একটা বালুর বাঁধ অর্থাৎ জয়বাথ তৈরি করা হয়েছে যেখানে দূর দুরান্ত থেকে মানুষ বিকেলে এবং সকালে ঘুরতে আসে এবং সৌন্দর্য অবলোকন করে থাকে। তবে তারা সাধারণত বর্ষাকালে বেশি সমাগম দেখা যায়।
নদীর কূলে বসবাস করি যেমন অনেক উপকার এবং লাভবান হওয়া যায় তেমনি অনেক ক্ষতিও হতে পারে। কি কি প্রকার ক্ষতি হবে তা আমরা এখন সে ব্যাপারে কিছু কথা তুলে ধরবো।
নদীর কিনারায় বসবাস করিলে সবচেয়ে বড় যে ক্ষতি হয় সেটা হল কোন ঝড় বাতাস বা ঝড় আসলেই বাড়িঘর ঝড়ের তোকে পরে লণ্ডভণ্ড হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও নদীর অতিরিক্ত পানি বৃদ্ধির কারণে বন্যা রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে আমাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিও হতে পারে।জান মালের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। এছাড়াও নদীর দুকুল ভেঙ্গে আমাদের বসত ভারী বিলীন করে দিয়ে থাকে যা আমাদের অনেক কষ্টের কারণ হয়ে থাকে শুধু কষ্ট নয় মানসিক কষ্ট শারীরিক কষ্ট অর্থনৈতিক কষ্ট হয়ে থাকে। এছাড়াও এই নদীতে বর্ষাকালীন অনেক ডাকাতের রুদ্র হয় যা আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে থাকে। এছাড়াও আমাদের বাড়িতে এই বর্ষাকালীন সময়ে অনেক চুরি হয়ে থাকে যা চোরের পক্ষে আক্রান্ত সহজ হয় কারণ বাড়ি থেকে গরু সম্পদ বের করে নদীতে নিয়েই নদীর কিনারে নিয়ে নৌকাতে তুলে নিয়ে চলে যেতে পারে অনায়াসে। এছাড়া নদীর কিনারে বসবাস করলে যাতায়াত ব্যবস্থা শহরের মতো কখনোই হতে পারে না। কিছু ভোগান্তি কিছু কষ্ট আমাদের হয়েই থাকে।
এখন যদি আমরা হতাম তো গ্রামের কথা বলি তাহলে গ্রাম বাংলাদেশের সৌন্দর্যের অন্যতম একটা প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। গ্রামের সৌন্দর্য অনেক সুন্দর এবং মনোরম। তবে গ্রাম হতে নদীর কিনারায় বসবাস করা আমি মনে করি অধিকতর ভালো এবং উপকারী। গ্রামে যে সমস্ত দৃশ্য যে সমস্ত উপকারী যে সমস্ত সঞ্জয় চামড়া দেখে থাকি সেগুলো নদীর কিনারে নাই বললেই চলে।
আমরা যদি শহরের কথা বলি তাহলে শহরে বসবাস করা যাতায়াত ব্যবস্থা অত্যান্ত ভালো। এবং কেনাকাটার দিক দিয়ে অনেক সুবিধা হয়ে থাকে। কারণ যখন ইচ্ছা যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই সবকিছু করা সম্ভব হয়। এবং শহরের পরিবেশ ও অনেক উন্নত এবং সভ্যতার অগ্রগতি শহর থেকে শুরু হয়। শহরে বাস বসবাস করলে মানুষ কৃষ্টি কালচার এর উন্নয়ন ঘটে। মানুষের মন উদার এবং ভদ্রতা হতে হয়। কিন্তু শহরের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো যানজট সমস্যা। একবার জ্যামে পড়লে দুই তিন ঘণ্টা জাম কেটে উঠতে লাগে। এটা আমার অনেক ক্ষেত্রে সমস্যা হয় যেমন কর্ম ক্ষেত্রে যেতে বিলম্ব হয় প্রয়োজনের কাছে বিলম্ব হয়। আরো এমনও কাজ রয়েছে যা সময়ের কারণে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এছাড়া শহরের আরো দ্বিতীয় বড় সমস্যা হলো দূষণ যুক্ত বায়ু। এই বাড়িতে নানা প্রকার দূষণ যুক্ত থাকে যা আমরা গ্রহণ করি প্রতিনিয়ত তাই আমরা বিভিন্ন প্রকার রোগ শোকে বসে থাকি এবং অকাল মৃত্যুতে পতিত হয়। একটি বিষয় লক্ষ্যনীয় যে সবচাইতে বেশি আয়ু পেয়ে থাকে নদীর কিনারে বসবাস করা মানুষগুলো, এরপর দ্বিতীয় বৃহত্তম আয়ু পেয়ে থাকে গ্রামের মানুষ এবং সবচাইতে কম আয়ু পেয়ে থাকে শহরের মানুষগুলো।
এছাড়াও শহরের আর একটা যন্ত্রণা যুক্ত সমস্যা হল অস্বাভাবিক শব্দ দূষণ। গাড়ি ঘোড়া তারা বিকট আওয়াজ করে থাকে যা আমাদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে থাকে। এছাড়াও কল-কারখানার প্রচন্ড শব্দ আমাদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাইয়া থাকে। এভাবে যদি আমাদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতেই থাকে তবে এক সময় আমরা অনিদ্রায় ভুগতে থাকব। আর এভাবে আমরা যদি ভুগতে থাকি তবে আমরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হব। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হলে আমরা একসময় না একসময় অকাল মৃত্যুতে পড়তে পারি। অকাল মৃত্যু হলে একটা পরিবারের অপরনীয় ক্ষতি হয়ে থাকে অর্থাৎ তার পরিবার কিভাবে চলে অর্থাৎ অনেক কষ্টে পতিত হতে হয়।
তাই আসুন আমরা কোন পরিবেশ ভালো কোন পরিবেশে আমি মহান আল্লাহতালার এবাদত সঠিকভাবে করতে পারব দীর্ঘদিন করতে পারব এবং সুস্থ থাকতে পারবো সেই বিষয়টি চিন্তা করে আমরা আমাদের বসবাসের ঠিকানা খুঁজে নেই। আমি মনে করি নির্জনতা সবচাইতে ভালো একটা জায়গা বসবাস করার জন্য। কারণ নির্জন পরিবেশে মহান আল্লাহ তার ইবাদত এক মনে একধানে করা সম্ভব হয়। আর একধানে ইবাদত করার, এবাদতগুলো মহান আল্লাহ তাআলা গ্রহণ করবেন এছাড়া এক মুনি ইবাদত না করে সেগুলো আল্লাহর কাছে কোন প্রকার গ্রহণযোগ্যতা পাবে না।
আমাদের সবচাইতে বড় মৌলিক উদ্দেশ্য হলো আমরা আমাদের জীবন দিয়ে অর্থ দিয়ে মাল দিয়ে সময় দিয়ে একমাত্র আল্লাহকে খুশি করি আল্লাহকে রাজি করি এবং প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর আদর্শ গ্রহণ করি তবে আমরা পরকালের জিন্দেগি সুখময় শান্তিময় জায়গা জান্নাত পেতে পারি। আমরা যেন আল্লাহকে রাজি করে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ইসলামের আদর্শ গ্রহণ করে এবং নেক আমল করে সে জান্নাতের অধিকারী হতে পারি আমিন। আল্লাহাফেজ।



আপনার পোস্ট @sereybd দ্বারা কিউরেট করা হয়েছে। Serey Bangladesh কমিউনিটিতে পোস্টটি শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ
realsort-elyas দ্বারা ম্যানুয়ালি কিউরেট করা হয়েছে