গোলাম থেকে রাজা
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
আলহামদুলিল্লাহ বন্ধুরা আপনারা কেমন আছেন জানিনা তবে আশা করি আল্লাহর রহমতে ভালো আছে। আমিও আল্লাহর কৃপায় ভালো আছি, সুস্থ আছি।
আজকে আমি আরেকটি দীনের শিক্ষামূলক পোষ্টে আপনাদের অভিনন্দন।
আমরা এই গল্প থেকে জানতে পারবো পৃথিবীর বা দুনিয়ার প্রতি যদি আমরা আকৃষ্ট হয় তবে আখেরাত বরবাদ হতে বাধ্য । আর যদি আখেরাতের চিন্তা করে পথ চলি তবে আখিরাত জীবন সুন্দর, সুখময় অনাবিল আনন্দে ভরে যাবে।
এক দেশে একজন রাজা ছিল। তার অনেক দাস দাসী ছিল। রাজার কোন সন্তান হয় না । তার স্ত্রী সব সময় মন খারাপ থাকতো , স্ত্রীর কারনে রাজার মন ভাল থাকতো না। রাজা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে করতে আল্লাহতায়ালা তাকে এক ছেলে সন্তান দিলেন । ছেলেটি খুব জেদী স্বভাবের ছিল। বলা যা তাই করা ছিল তার স্বভাব। কোন একদিন ছেলেকে নিয়ে রাজা মশাই নদীর তীরে ঘুরতে গেল। ছেলেটি বলল আব্বা আমি নদীতে সাঁতার কাটতে চাই। রাজা মশাই বলল তুমি তো সাঁতার জানো না। তাই নদীতে নামা যাবে না।ছেলেটি জেদ ধরলো এবং হঠাৎ করে রাজার সামনে নদীতে ঝাঁপ দিল। রাজামশাই-এর যেহেতু বৃদ্ধ বয়সের ছেলে, তাই ছেলের জন্য অনেক কিছু করে থাকে। ছেলেকে খুব ভালোবাসে, যা চায় তাই পূরণ করে। তাই ছেলে নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার সাথে সাথে রাজামশাই প্রায় পাগল পারা হয়ে গেল চিৎকার করে তার দাস ও দাসীদের বলতে থাকলো, যে কেউ তোমরা আমার ছেলেকে বাঁচাও । আমার ছেলে তো মারা যাবে। তখন এক দাস নদীতে ঝাঁপ দিল এবং নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছেলেকে উদ্ধার করে আনল। রাজা দাসের এই সাহসিকতা ও মহান কাজের জন্য তাকে বলল , তুমি আমার থেকে কি চাও যা চাইবে তাই পাইবে। দাস বলল আমি কিছুই চাই না। রাজামশাই বলল তোমাকে আজাদ করে দিলাম এবং এক জাহাজ ভর্তি মালামাল তোমাকে দেওয়া হলো তুমি এগুলো বিদেশে নিয়ে বিক্রি করে সুখের জীবন যাপন করতে থাকো। দাস ভীষণ খুশি হয়ে জাহাজ নিয়ে অন্য দেশের দিকে চলল এবং সমুদ্রের মাঝে যাওয়ার পর প্রবল ঝড় ও তুফান শুরু হলো, ফলে তাহার জাহাজ সমুদ্রের পানিতে ডুবে গেল
এবং সে প্রাণ বাঁচানোর জন্য একটা কাঠের টুকরো ধরল। দাস সেই কাঠের টুকরা নিয়ে ভাসতে ভাসতে একটা জঙ্গলের ধারে গিয়ে পৌঁছলো। কিছুক্ষণ পর সে দেখতে পেল যে জঙ্গল ছাড়া চারদিকে সমুদ্র আর সমুদ্র ।তখন দাস জঙ্গলের দিকে চলতে শূরু করলো, কোন এক নতুন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। কিছু সময় চলতেই সে দেখতে পেল একদল অদ্ভুত ধরনের মানুষজন তার দিকে দলবেঁধে আসছে। তখন সে ভয় পেয়ে গেল। লোকজন তাঁর কাছে আসতেই তারা বলতে শুরু করল পেয়ে গেছি পেয়ে গেছি।
আমাদের এক বছরের রাজা এবং জয় মহারাজের জয়, জয় মহারাজের জয়, এই ধ্বনি দিতে লাগলো এবং মালা পরিয়ে দিল। তখন দাস ব্যক্তি চুপ করে রইলো। দাস ব্যক্তি ওই লোকজনের কার্যকলাপ দেখে মনে মনে সে ভীষণ খুশি হলো এবং আল্লাহ তালার প্রশংসা করল যে আল্লাহ বুঝি আমার প্রতি কৃপা দৃষ্টিতে তাকিয়েছেন ।
তাকে রাজ প্রাসাদে নিয়ে গেল এবং নতুন রাজার পুরাতন পোশাক খুলে রাজার পোষাক পরিয়ে সিংহাসনে বসিয়ে দিল। পুরাতন পোষাক তারা স্বযত্নে রেখে দিল। নতুন রাজা তা ভালভাবে দেখে নিল।কিছুক্ষণ পর চারিদিকের পরিস্থিতি নিরব হওয়ার পর সামনে বসে থাকা কিছু লোকজন কে বলল তোমরা কেন আমাকে রাজা বলছো, কারণ কি? তখন একজন বৃদ্ধলোক রাজা কে বলল আমরা এই দ্বীপ দেশে অনেক বছর যাবত বসবাস করে আসছি। আমাদের নিয়ম হল আমাদের মধ্যে কেউ রাজা হওয়া নিষেধ।সে আরও বললো আমাদের দেশের নিয়ম হচ্ছে বাইরের কোন দেশের লোককে আমরা রাজা হিসেবে গ্রহণ করি এবং তার মেয়াদ থাকে এক বছর অর্থাৎ এক বছর পর পর রাজা পাল্টাই। সেই ধারাবাহিকতায় আপনাকে পেয়েছি এবং রাজা হিসেবে গ্রহণ করেছি। রাজা রুপি গোলাম তাদেরকে বলল এক বছর পর রাজাকে তোমরা কী করো ? তখন তারা বলল, তাকে আমরা এক বছর যখন শেষ হয় তখন অল্প কিছু খাবার, জল দিয়ে তাকে মরুভূমিতে রেখে আসি এবং পুনরায় এদেশে ঢুকা নিষেধ, ঢুকলেই তাকে কতল করা হয়।
এই মরুভূমিতে ফেলে আসা রাজা গুলো না খেয়ে না খেয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। তাদের এ অবস্থার কারণ হলো তারা এক বছরের জন্য রাজা হয়ে আনন্দ ফুর্তি আরাম-আয়েশ ইত্যাদি করে সময় পার করে দিত। তারা কেউ এক বছর পর নিজের পরিনতির কথা কখনো চিন্তা করত না। তখন রাজা চিন্তায় পড়ে গেল এবং উপায় খুঁজতে লাগলো। হঠাৎ তার মাথায় একটা বুদ্ধি আসলো যে এক বছর পর আমাকে যেখানে রেখে আসা হবে সেখানে ঘরবাড়ি, জনবসতি, গাছপালা ইত্যাদি আগেই ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে এক বছর পর সেখানে নির্বাসিত করলেও আমি যেন রাজা হিসাবে থাকতে পারি ও সুখের জীবন যাপন করতে পারি। কোন প্রকার কষ্ট না হয়। তাই রাজা গোপনে সেখানে লোকজন পাঠিয়ে গাছপালা ঘরবাড়ি প্রাসাদ ইত্যাদি সবই তৈরি করে ফেললেন। তার রাজার মেয়াদ শেষ দিন তারা বলল আপনি আপনার আগের পোশাকগুলো পড়ে নিন আপনার সময় শেষ, আপনাকে আমরা মরুভূমিতে রেখে আসবে। তখন রাজা আনন্দ চিত্তে আগের পোশাক পড়লো এবং তাদের সাথে রওনা হল।
লোকজন সেই মরুভূমিতে এসে দেখলো যে, সেখানে মরুভূমির কোন চিহ্ন নেই । চারিদিকে গাছপালা, বাড়িঘর, এমনকি রাজপ্রাসাদ তৈরি ইত্যাদি ।
এ যেন নতুন এক দেশ।তারা অবাক এবং রাজাকে জিজ্ঞেস করল, কিভাবে এগুলো হলো ? তখন রাজা বলল, আমি যখন শুনলাম যে তোমরা আমাকে এক বছরের জন্য রাজা বানিয়েছো, তাই আমি এক বছর পর আমার কি অবস্থা হবে, বিরান মরুভূমিতে? তখন আমি বিদেশ থেকে বিভিন্ন পণ্য কাঁচামাল ইত্যাদি এনে মরুভূমিকে বানিয়েছি এক নতুন শহর এবং দেশ , লাগাইছি গাছপালা ও ঘরবাড়ি লোকজন ইত্যাদিতে ভরপুর করেছি। এ কথাগুলো শুনে তারা রাজা কে বাহবা দিতে লাগলো এবং মরুভূমি অর্থাৎ তার বানানো নতুন দেশের বাসিন্দারা ফুলের মালা দিয়ে তাদের নতুন রাজাকে সাদরে গ্রহণ করে নিল। ফলে এক বছরের রাজা হয়ে গেল চিরদিনের রাজা।
আমরা যদি এক বছরের অন্যান্য রাজারদের মতো ক্ষণস্থায়ী এ দুনিয়ার প্রতি আসক্ত না হয়ে গোলাম রাজার মতো হই, তাহলে আমাদের পরকালীন জিন্দেগি ক্ষতির সম্মুখীন হব না।
আসুন আমরা একবছর অন্যান্য রাজারদের মতো ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীর মায়ায় পড়ে চিরস্থায় আখিরাতকে ধ্বংস না করি বরং গোলাম রাজার মত যদি আগের থেকেই পরকালীন জিন্দেগির জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করি তবে আমাদের আখিরাত জিন্দেগি সুখময় হবে ইনশাআল্লাহ।
প্রবাদ আছে যে "সময় থাকতে হেঁটে চল"


