বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
প্রিয় সাথী বৃন্দ আজকে আমি আমাদের সমাজে প্রচলিত কিছু আজাব গজব এর আল্লাহর আক্রোশে পতিত হয় এমন কিছু রীতিনীতি নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির। আপনাদের সকলকে এই পোস্টে সু-স্বাগতম।
রাসুলে করীম সাঃ বলেছেন, চার ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় আল্লাহর গজব ও আক্রোশের অধীনে থাকে অর্থাৎ তাদের উপর গজব ও আক্রোশ আপতিত হয়। এই চার ব্যক্তি হলোঃ-
(ক) নারীদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ বেশভূষা গ্রহণকারী পুরুষ।
(খ ) পুরুষদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ বেশভূষা গ্রহণকারী নারী।
(গ) জীবজন্তুর সাথে সঙ্গম করী।
(ঘ) সমকামী নারী ও পুরুষ।
ব্যাখ্যাঃ-আমরা যদি আমাদের পরিবার, গোত্র, ও সমাজ এবং রাষ্ট্রের দিকে একটু নজর দেই তবে আমরা চারিদিকে দেখতে পাই যে উপরোক্ত এই চার শ্রেণীর মানুষের ভরপুর। আমরা যদি পরিবার থেকে শুরু করি তবে দেখা যায় কোন কোন পরিবারে পুরুষ মানুষ তারা দাড়ি রাখে না। প্রতিদিন সেভ করে থাকে এবং ওই পরিবারের ছেলেরাও লক্ষ করে যে, আমাদের বাবা আমাদের চাচা আমাদের দাদা এরা তো দাড়ি রাখে না আমরা কেন রাখব। দাড়ি আল্লাহতালার এক বিশেষ নিয়ামত। এটি পুরুষের গজায় এবং নারীদের ক্ষেত্রে দাড়ি গজায় না। এ থেকে আমরা বুঝতে পারি এটি পুরুষের ভূষণ নারীদের নয়। এখন আমরা যদি এই দাড়ি না রেখে কেটে ফেলি বা চেঁছে ফেলি তবে অবশ্যই মেয়ে মানুষের ভূষণ ধারণ করা হয় কারণ মেয়ে মানুষের দাড়ি নেই ছেলে মানুষের দাঁড়ি থাকলেও সেটা চেঁছে মেয়ে মানুষের অনুরূপ করে ফেলা হয়। এতে মেয়ে মানুষের ভূষণ ধারণ করা হয়ে থাকে। তারপর দাড়ি রাখা আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি জীবন্ত সুন্নাত যা মৃত্যুর পরেও আমাদের সঙ্গেই থেকে যায় যা মৃত্যুর পরে কঠিন সময়ে হাশরের ময়দানে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু সালামের শাফায়াত অর্জন করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে এই দাড়ি। দাড়ি না রাখলে আমাদের শরীরের অনেক ক্ষতির হয়ে থাকে সেটা হয় প্রত্যাক্ষ ক্ষতি, না হয় পরোক্ষ ক্ষতি।
আমরা আরো দেখতে পাই যে, অনেক পুরুষ মানুষ কানের দুল পড়ে নাকে নাকফুল পরে এটাও নারীদের ভূষণ ধারণ করা এছাড়াও আরও অনেক রয়েছে যেগুলো ধারণ করলে মহান আল্লাহতালা আমাদের উপর সর্বসময় গজব এবং রাগান্বিত অবস্থায় থাকেন।
এবার আমরা মহিলাদের কথা বলি যদি কোন মহিলা পুরুষের কোন ভূষণ ধারণ করে তবে তার উপরে আল্লাহর আযাব, গজব এবং রাগান্বিত অবস্থায় থাকেন। আমাদের সমাজে দেখা যায় অনেক মহিলারা পুরুষের প্যান্ট পরে পুরুষের শার্ট পরে পুরুষের পোশাক পড়ে থাকে। পুরুষের মতো সুগন্ধি ব্যবহার করে রাস্তায় বের হয়। এই মহিলাদের উপর আল্লাহর আজাব গজব এবং রাগান্বিত অবস্থায় থাকেন।
আসুন আমি নিজে, এছাড়াও আমাদের বাবা, আমাদের ভাই, আমাদের সন্তান, এবং আমাদের মা, আমাদের মেয়ে, আমাদের স্ত্রী, আমাদের বোন, আমাদের বন্ধু-বান্ধব এদের সবাইকে এই বিষয়গুলো সতর্ক করি এবং আখিরাতের ভয়াবহতা এবং আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে, নবীর শাফায়াত পেতে হবে ইত্যাদি বিষয় নিয়ে তাদের সাথে প্রতিনিয়ত আলোচনা করি এবং তাদেরকে সংশোধন করার চেষ্টা করি, নিজেও সংশোধন হয়, আল্লাহ হাফেজ।


