অলসতা জীবনের অন্যতম পিছুটান!!!

alim236
অলসতা জীবনের অন্যতম পিছুটান


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।


প্রিয় সাথী বৃন্দ, আশা করি আপনারা অনেক ভাল আছেন সুস্থ আছেন আমিও আল্লাহর রহমতে বিশেষ করুনায় ভালো আছি সুস্থ আছি। আজকে আমি "অলসতা জীবনের অন্যতম পিছুটান"এ কথাটি নিয়ে কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই এই পোস্টে আপনাদের সকলকে স্বাগতম এবং অভিনন্দন।


অলসতা জীবনের অন্যতম পিছুটান এ কথাটি যদি একটি ছোট্ট বাক্য হয়ে থাকে তবুও এর বিচার বিশ্লেষণ করলে এটা অনেক বড় একটা বাক্য বলে অভিহিত করা যায়। কারণ অলসতা প্রত্যেকটি জীবনের একটি বড় পিছুটান হয়ে দাঁড়ায়। যে পিছুটান আর কখনোই পূরণ করা যায় না বা পুষিয়ে নেওয়া যায় না। এটার প্রত্যেকটি জীবনের একটা বড় দাগ ফেলে দেয়। আর সেই দাগ নেই আমাদেরকে পৃথিবীতে সংক্ষিপ্ত জীবন চলতে হয়। আর এই দাগের কারণে আমরা পরপরের জিন্দেগীতে অনেক সমস্যায় পড়ে যেতে পারি। যদি জীবন থাকিতেই যদি আমরা সতর্ক না হয়। তাই আজকে আমি অলসতা নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা পেশ করবো ইনশাল্লাহ।

আসতা কিঃ অলসতার অর্থ হল কোন কাজ সঠিক টাইম না করে কিছুক্ষণ পরে করার অজুহাত। অর্থাৎ সঠিক টাইমে কোন কিছু করার পরিবর্তে মনে করি যে একটু পরে করব এক ঘন্টা পর করব দুই ঘন্টা পরে অথবা বিকালে অথবা দুপুরে অথবা সকালে এরকম কালক্ষেপণ করার নামই হল অলসতা। আরো যদি আমরা ভালোভাবে বলতে চাই তবে
অলসতার মানেই হলো কর্মবিমূখতা। নিষ্ক্রিয় বা কর্মবিমূখ বা উদ্যমহীন ব্যক্তি বর্গকে অলস বলেছি চিহ্নিত করা যায়। অলসতা অলস ব্যক্তির নিজের এবং সমাজের এবং পরিবারের অবক্ষয় বা ধ্বংস ডেকে আনে। তাই সর্বোপরি বলা যায় অলসতা একটি ব্যক্তি একটি পরিবার একটি গোষ্ঠী বা একটি জাতির উন্নতির পথে বাধা এবং হুমকি স্বরূপ ।


অলসতার কুফলসমূহঃ অলসতা আমাদের জীবন সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। আমরা যদি অর্থাৎ কোন ব্যক্তি যদি জীবনে অলসতা দূর করতে না পারে তবে তার জীবন কখনোই সফলতার মুখ দেখতে পারে না। আর এই অলসতা তার জীবনে বড় একটা অংশ কে ব্যর্থতার অটল গহবরে নিমজ্জিত করে দেয়। অলস ব্যক্তি কখনো জীবনে সফল হতে পারেনা তার জীবন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে থাকে। জীবনের প্রথম থেকে শুরু করে অলসতা করে তবে সে কখনো লেখাপড়ায় উন্নতি করতে পারে না। একসময় তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। কারণ অলসতা তার জীবন থেকে দূর করতে সে পারে নাই। আমরা যদি আশেপাশে তাকাই তবে দেখা যায় যে যে সমস্ত ব্যক্তি অলসতা জীবনের মুখ্য ছিল তারা কখনোই ভালো কিছু অর্জন করতে পারেনি তারা সবসময় সমাজের নিম্ন স্তরের ব্যক্তিত্ব পরিণত হয়েছে। ওদের জীবনটা কষ্ট আর দুঃখী কেটে যায়। যেমন এই অলসতার কারণে ইতিহাসে অনেক ব্যক্তি তার জীবনের করুন পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে। অলসতা অর্থাৎ কর্ম বিমুখ ব্যক্তি কখনো আর্থিক স্বচ্ছলতা দেখতে পারে না। তার জীবনে কখনো আর্থিক সচ্ছলতা থাকে না সবসময় দেনা ধার কর্য ভরপুর হয়ে থাকে। একসময় তাকে কেউ আর পর্যোধার দেনা দিতে চায় না। কোন সমাজে তার মান মর্যাদা অনেক কমে যায়। কেউ তাকে শ্রদ্ধা ভক্তি করে না। তখন সে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন হয় এমনকি তার পরিবার পরিজন অনেক কষ্টের ভোগ করতে হয়। স্বাভাবিক জীবন তাদের আর চলে না অস্বাভাবিক জীবন চালনা করতে হয়। তাইতো অলসতা আমাদেরকে ঝেড়ে ফেলতে হবে অলসতা কাটিয়ে যদি আমরা সঠিকভাবে সঠিক সময়ে সব দায়িত্ব পালন করি তবে আমাদের সফলতা ধরা দিবে খুব সহজেই। আসুন আমরা কিভাবে অলসতা দূর করতে পারি সে সম্পর্কে কিছু কথা বলব।

### নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হওঃ প্রথমে আমাদের অলসতা দূর করতে হলে নিজের প্রতি সহনশীল অর্থাৎ সহানুভূতিশীল হতে হবে। নিজের প্রতি যে সহনশীল সহানুভূতিশীল হতে পারে সে অলসতা সহজে দূর করতে পারে। তার জীবনের যদি অলসতা থেকেও থাকে তিনি সহানুভূতিশীল হওয়ার কারণে তার জীবনে অলসতা এমনি এমনি চলে যাবে অর্থাৎ কেটে যাবে। আর এইজন্য আমাদের অলসতা দূর করতে হলে আমাদের কিছু পদক্ষেপ সর্তকতা শহীদ গ্রহণ করতে হবে।
###ছোট ছোট পদক্ষেপ দিয়ে সূচনাঃ আমরা আমাদের জীবন অলসতা দূর করতে হলে ছোট ছোট পদক্ষেপের মাধ্যমে তা দূর করা সম্ভব প্রথমে আমাদেরকে ছোট ছোট পদক্ষেপ গুলোই গ্রহণ করতে হবে। যেমন আমার ব্যক্তিগত কাছ থেকে শুরু করি। আমি সকালে ঘুম থেকে উঠতে কখনই দেরি করবো না। আজান হওয়ার আগেই উঠে পড়বো এবং অজু এস্তেঞ্জার কমপ্লিট করে মহান আল্লাহতালা ইবাদত করে সকালটা যদি আমরা সূচনা করতে পারি। এটা হবে আমাদের প্রথম সূচনা অলসতা দূর করতে। এরপর আমার প্রত্যহিক জীবনে যে কাজে থাকুক না কেন সেটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই করে ফেলতে হবে। যেমন কেউ যদি শিক্ষকতা করে থাকে তবে প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট সময়ের ১৫ মিনিট আগে উপস্থিত হতে হবে। এবং সেখানে উপস্থিত আমি কি কাজ করব সেই কাজ সম্পর্কে আগেই প্রস্তুতি নিতে হবে। এরপর কাজটি যথা টাইমে যথাসময়ে সম্পূর্ণ করতে হবে। এভাবে যদি আমরা সঠিক উপায়ে কাজ করতে পারি তবে অলসতা আমার ধারে কাছে আসবে না। এছাড়া যদি আমি কারো থেকে কোন খরচ নিয়ে থাকি সেই খরচ দিতে কখনোই অলসতা করা উচিত নয় টাইম মতেই তাকে দিয়ে দিতে হবে। এছাড়া যদি কাউকে কথা দেই তাহলে সে কথা অক্ষর অক্ষরে পালন করতে হবে। ছাত্র জীবনে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হলো যখন শিক্ষক যে পড়া বা যে পাঠদান করে থাকে সেটা অবশ্যই অবশ্যই বুঝে সুজে কমপ্লিট করতে হবে। তবে পরীক্ষার সময় তার আর কোন সমস্যা হবে না সে সুন্দর পরীক্ষা দিতে পারবে এবং সফলতার দ্বার তার তার কাছে উন্মুক্ত হবে। গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে যদি আমরা অলসতা উদাসীন হয়ে গাড়ি চালায় তবে তা এক্সিডেন্টে হতে পারে আর এক্সিডেন্ট হলে তা হবে সারা জীবনের কান্না। এমনকি জীবন নাশ হয়ে যেতে পারে। তাই আমরা আমাদের প্রত্যাহারীরিক অর্থাৎ দৈনন্দিন জীবনে ছোট ছোট পদক্ষেপগুলো যদি আমরা সুন্দরভাবে নিতে পারি তবে অলসতা মূলেই নির্মূল হয়ে যাবে।

 আমাদের অলসতা দূর করতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হলো আমার জীবনে বা আমার দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো বাছাই করাঃ আমার জীবনে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো কি কি সেটা প্রথমে আমাকে সতর্কতার সহিত বাছাই করিত হইবে। বাছাই করার পর সে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সঠিক সময়ে সঠিক টাইমে সঠিকভাবে সুন্দরভাবে কমপ্লিট করা। কাজে যেন ভুল না হয় কাজটা সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা তারপর যবেক্ষণ করা। কাজ করার পরে আবার পুনরায় খতিয়ে দেখা যে আমার কাজগুলো প্রপার হয়ে সুন্দর নিয়মে হয়েছে কিনা সঠিক টাইমে হয়েছে কিনা।

আমাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করোঃ আমাদের প্রত্যেকটি কাজের লক্ষণ নির্ধারণ করা আমি কেন এ কাজ করছি কি উদ্দেশ্য করছি কেনই বা করব এ বিষয়গুলো আগেই ভেবে নেওয়া। আর লক্ষ্য যখন স্থির হবে তখন সেই কাজ আমার পক্ষে করা অত্যন্ত সহজ হবে অলসতা হীন ভাবে আমি কাজটি কমপ্লিট করতে পারব। আর যদি লক্ষ নির্ধারিত না হয় তবে সেই কাজে আমাদের অলসতা আসবে কারণ তার উদ্দেশ্য কি কি লক্ষ্যে আমি কাজটা করছি সেটা তো আমার জানা নেই অতএব এই কাজের গুরুত্ব কম আসবে আর গুরুত্ব কম আসলেই অলসতা আসবে আর অলসতা আসলেই সেই কাজ কখনোই সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তাই আমাদের যে যে বিষয়গুলো অলসতা তৈরী করে আমরা যদি সেগুলো থেকে দূরে থাকি, তাহলে অলসতা আমাদেরকে পাকড়াও করতে পারবে না। তাই আমাদের কি কি বিষয় অলসতা সৃষ্টি করে সে বিষয়গুলো আমাদের খতিয়ে খতিয়ে বের করতে হবে এবং সেই বিষয়ে অলসতা করা যাবেই না। যেমন টাইম ছাড়া, ঘুমানো টাইম ছাড়া খাওয়া, বিনা প্রয়োজনে কথা বলা, পেট ভর্তি করে খাওয়া, আরো অনেক অনেক কারণ রয়েছে যেগুলো করলে অলসতা এসে যায় তাই সেসব বিষয়গুলো আমরা সতর্কতার সহিত ওভারকাম করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। এরপর দিনশেষে যদি আমি নিজেকে প্রশ্ন করি আমি আজকে কি করলাম কোন কাজে অলসতা হলো। যেসব বিষয়ে অলসতা করা হয়েছে সে বিষয়গুলো আবার আগামীকালের জন্য শপথ করে নেওয়া যে সে বিষয়গুলো আর কখনো অলসতা করব না। এছাড়াও আমরা বড় বড় মনীষীদের জীবন থেকে শিক্ষা নিতে পারি এবং তাদের জিন্দেগীর দিকে যদি তাকাই তাহলে আমরা অনেক কিছুই শিখতে পারবো এবং অলসতা দূর করে আমরা সফলতার মুখ দেখতে পারব।

তাই আসুন আমরা অলসতা নামক এই কর্মবিমুখ কর্মযজ্ঞ পরিহার করি এবং সফলতার স্বর্ণ শিখরে আহরণ করি এবং ইবাদতের ক্ষেত্রে অলসতা দূর করে আমরা মহান আল্লাহ তালাকে খুশি করি এবং প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সালামের আদর্শ গ্রহণ করে আমরা অলসতা দূর করার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করি তবে আমরা আমাদের জীবন সফলতা শিখরে এবং পরকালের জীবন সুকুমার সুন্দর সমৃদ্ধিময় হোক এই আসে ব্যক্ত করে আজকের মত এখানে শেষ করছি আল্লাহ হাফেজ।

Comments