বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ ওয়া বারকাতুহু।
প্রিয় সাথী বৃন্দ,
আশা করি আপনারা সবাই ভাল আছেন আমিও আপনাদের দোয়ায় আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালো আছি সুস্থ আছি। আজকে আমি আমাদের আপন কে সে বিষয়ে কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। এই পোস্টে আপনাদের সকলকে স্বাগতম।
আমরা যখন এই পৃথিবীতে আগমন করি, তখন আমরা সর্বপ্রথম মায়ের মুখ দেখতে পাই। তখন আমরা মনে করি, এই মা আমার সবচেয়ে বেশি আপন এরপর বাবাকে দেখি তাকেও আমরা আপন ভাবি। এরপর আপন ভাবি নিজের স্ত্রী ও সন্তানদের। এরপর আপন ভাবি আমাদের নিকট আত্মীয় সমূহ কে। এরপর আপন ভাবি বন্ধুবান্ধব যারা আছে তাদের।
আসলে আমাদের আপন কে সে বিষয়কে আমরা কখনো একটু ভেবে দেখেছি? উত্তর হবে না, কখনোই আমরা এ বিষয়টি ভেবে দেখি নাই। আসলে আমরা যাদের, যাদের আপন মনে করি, আসলে তারা কেউ আমার আপন নহে। আমার একমাত্র, শুধুমাত্র, কেবলমাত্র আপন হলো আমাদের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহতালা। তিনি ছাড়া আমাদের আর কেউ আপন নয়।
মা ও বাবা কথায় পরে আসছি। স্বার্থ ছাড়া কেউ আপনাকে ভালোবাসে না। আমি যদি ঘরের মধ্যে বিছানায় মারা যায় তবে আপন জনদের মনের ভিতরে দুইটা বিষয় ঘুরপাক খেতে থাকে। একটা বিষয় হলো-লাশটাকে তাড়াতাড়ি দাফন করতে হবে। লাশটা থেকে গন্ধ না ভেসে আসে। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো - লাশটা ফেলে যাওয়া সম্পদের হিসাব এবং ভাগাভাগি। এবার আসুন মা-বাবার ভালবাসা। যতক্ষন জীবন আছে ততক্ষন এ পৃথিবীতে আল্লাহ ছাড়া সবচাইতে বেশি ভালোবাসে, মা এরপর বাবা। তবে তাদের ভালোবাসা আল্লাহর ভালোবাসার কাছে একেবারেই নগণ্য।
মহান আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে এতটাই ভালোবাসেন যে তাহা বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। তিনি সর্বপ্রথম আমাদেরকে রুহ জগতে বাছাই করে, দয়া করে, মায়া করে, মহব্বত করে, আমাদেরকে শ্রেষ্ঠ মাখলুকাত মানুষ বানাইছেন। শুধু মানুষ বানিয়ে ক্ষান্ত হন নাই। আমাদের জন্য শ্রেষ্ঠ স্থান জান্নাত তৈরি করেছেন। এই জান্নাতের বর্ণনা করা সম্ভব নয়। তবে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বর্ণনা করতে করতে এক সময় বলেছেন যে, জান্নাতে এমন কিছু নিয়ামত আল্লাহ তৈরি করে রেখেছেন, যা কোন কান কোনদিন শুনে নাই, যা কোন চক্ষু কোনদিন দেখে নাই, কোন ব্রেন তা কল্পনাও করতে পারে না। এমন কিছু নেয়ামত আল্লাহতালা জান্নাতে রেখেছেন। আর এই জান্নাত মানুষের জন্য তৈরি করা হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে দুনিয়ার মধ্যে পাঠাইয়াছেন এবং সমস্ত মাখলুকাতকে আমাদের সেবক হিসেবে নিয়োগ করেছেন। এরপর মরনের সময় আমাদের শয়তানের থাবা হতে বাঁচবেন। এরপর হাশরের ময়দানে, পুলসিরাত পার হওয়া সময় , জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করতে, এবং জান্নাতে প্রবেশ করা পযন্ত। সমস্ত জায়গায় আল্লাহ তা'আলা তার দয়া,ক্ষোমা, মেহেরবানীর দ্বারা আমাদের সমস্ত বিপদ থেকে রক্ষা করবেন। একমাত্র তিনিই আমাদের আপনজন।
তাই আমাদের উচিত, মহান আল্লাহ তাআলার হুকুম আহকাম সবার আগে পালন করা এবং দুনিয়ার জিন্দেগীতে মহান আল্লাহ তালাকে চেনা এবং জানা একান্ত দরকার। আগে তার হুকুম মানা এরপর সময় থাকলে অন্য কিছু করা। আসুন আমরা আল্লাহতালাকে চিনি, মানি, জানি এবং তার হুকুমসমূহ অক্ষরে অক্ষরে পালন করি। আজকে এখানে শেষ করছি আল্লাহ হাফেজ।

Comments