বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহু।
প্রিয় সাথী বৃন্দ, আশা করি আপনারা সবাই ভাল আছেন আমিও আল্লাহর রহমতে অনেক ভালো আছি।
শয়তান যার বন্ধু হয় দুনিয়ার জিন্দেগীতে তার আর কোন শত্রুর প্রয়োজন নেই। এই লাইনটির উপর কিছু কথা বলব এই পোস্টটা আপনাদের সকলকে স্বাগতম এবং অভিনন্দন।
পৃথিবীর শুরু থেকে যখন মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছেন এবং দুনিয়াতে প্রেরন করেছেন, সেদিন হতে শয়তানকেও দুনিয়াতে প্রেরন করেছেন। অর্থাৎ পৃথিবীতে পদার্পণের ক্ষেত্রে মানুষ এবং শয়তান একসাথে পদার্পণ করেছে। এর আগে জান্নাতের ভিতর শয়তান আদম আলাই ওয়া সালাম এবং বিবি হাওয়াকেও শয়তানি প্রোচরনা দিয়েছিলেন। আর সেই প্ররোচনা শুনে তারা জান্নাত থেকে বিতাড়িত হয়ে দুনিয়ার জিন্দেগীতে চলে আসিয়াছিলেন। মহান আল্লাহতালা তাদেরকে দুনিয়াতে পাঠাইয়াছিলেন। আর যদি তারা শয়তানের কথা না শুনতো, শয়তানের প্ররোচনায় কাজ না করতো তাহলে তাদের দুনিয়ার জিন্দেগীতে এত দুঃখ কষ্টে পতিত হতে হত না। তাই এক কথায় বলা যায় শয়তানের অনুসরণ করলে তার অবস্থা কখনোই ভালো হতে পারে না। অবশ্যই মন্দ হবে, মন্দ প্রতিফল সে পাবে।
শয়তান এর কুমন্ত্রণা গুলো আমরা একে একে কিছু আলোচনা করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। শয়তান সর্বপ্রথম চেষ্টা করে একটা মানুষকে বেইমান বানানোর। কারণ যারা বেইমান হয়ে যায়, তাদেরকে আর বেশি ধোকা দেওয়ার তাদের প্রয়োজন হয় না কারণ তখন তার কার্যকলাপ কাজকর্ম ওঠাবসা চালচলন সবকিছুই শয়তানের মতই হয়ে থাকে। যেমন ইসলাম ব্যতীত এই পৃথিবীতে প্রায় 500 কোটি মানুষ রয়েছে তারা সবাই ঈমানহীন লোক। এরমধ্যে দুই একটি কথা উল্লেখ করা যেতে পারে যেমনঃ হিন্দু সম্প্রদায়। এই হিন্দু সম্প্রদায় দ্বারা সাধারণত শয়তানের প্রধান কার্যকলাপগুলো তারা করে থাকে তাদেরকে সূক্ষ্ম ধোকা দেওয়া হয় যেমনঃ তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলে বলে যে, আমরা মূর্তি পূজা করি ঠিকই কিন্তু মূর্তির মধ্য দিয়ে আল্লাহকে পূজা করি। কিন্তু আমাদের অন্তরে আকার সৃষ্টি করা খুবই কষ্টকর ব্যাপার বিধায় আমরা মূর্তি বানাইয়া সেই আকার বুকে ধারণ করে মহান আল্লাহকে ডাকতে থাকি। মহান আল্লাহ তাআলার পূজা করি, মহান আল্লাহতালাকে সেজদা করি, মহান আল্লাহর কাছে মাথা নত করি। এটি মূলত আল্লাহকেই মানা এমন কথা তাদের অন্তরে শয়তান ঢুকাইয়া দিয়েছেন। এর মধ্যে অনেক হিন্দু আছে, যারা ইসলাম ধর্মকে ভালোবাসে ইসলাম ধর্মে ফিরে আসতে চায় তখন তাদের মনে শয়তান এমন কুমন্ত্রণা দেয় যে তোমার বাবা, তোমার দাদা এবং তার দাদা তাদের ধর্ম ত্যাগ করে কেমনে তুমি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করবে তাদের কি উপায় হবে। অতএব তুমি হিন্দু ধর্মেই থাকো এবং হিন্দু ধর্মে মান। তাদের যে অবস্থা হয় তোমারও তাই অবস্থা হবে। আর এই সূক্ষ্ম ধোঁকা থেকে তারা কখনোই বেরিয়ে আসতে পারে না। তারা ইসলাম ধর্ম মনে প্রানে বিশ্বাস করে এবং গ্রহণ করতে চায় কিন্তু বলে আমার বাবা মার কি অবস্থা হবে। একথা বলেই তারা আর ধর্মান্তরিত হতে পারে না। সত্য ধর্ম ইসলামে আসতে পারে না। তারা বাপ দাদা ধর্মে থেকে যায় এবং বেইমান অবস্থায় তারা মারা যায়। এছাড়া খ্রিস্টান ধর্ম কথা বলি। খ্রিস্টান ধর্মে অনেক লোক ইসলাম গ্রহণ করে কিন্তু অধিকাংশ মানুষ ভুলের মধ্যে রয়েছে। তারা যীশু খ্রীষ্ট কে তাদের নবী মেনে থাকলেও একটা ভুল ধারণা তাদের মধ্যে রয়েছে। তারা মনে করে যে, তারা যতই পাপ করুক না কেন সমস্ত পাপের ভার আমাদের নবী নিয়েছে। আমাদের কোন পাপ হবে না।তারা বলে, আমরা নিষ্পাপ, আমরা জান্নাতে যেতে পারবো। তারা নবীকে বেশি ভালবাসতে গিয়ে নবীকে আল্লাহর আসনে বসিয়ে দিয়ে তারা বেইমান হয়ে গেছে। আর এই প্ররোচনা শয়তান তাদেরকে দিয়েছে এবং তাদের গোটা জাতিকেই বেইমান করে রেখেছে, এই শয়তান ইবলিশ।
এরপর যদি আমরা আরও অন্যান্য ধর্মের দিকে তাকায় তাদের এরকম কিছু ভুল ধারণা কিছু সংস্কৃতি, সেটা পারিবারিক হতে পারে রাষ্ট্রীয় হতে পারে। সেই সমস্ত সংস্কৃতির কারণে তারা ইসলাম ধর্মে হাজির হতে পারে না। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে পারে না। তাদের ভুল ধর্মই তারা পালন করে যাচ্ছে আর এই ভুল ধর্মের মধ্যে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে ইবলিশ শয়তান। বৌদ্ধ ধর্মের মধ্যে রয়েছে জীব হত্যা মহাপাপ। এই কথাটি শয়তানের পক্ষ থেকে তাদের কাছে এসেছে এবং এই কথার উপর বদ্য মূল থাকার কারণে তারা মহান আল্লাহকে মানতে পারেনা ইসলাম ধর্মকে গ্রহণ করতে পারেনা। অথচ তারা জানে না যে জিন এবং ইনসানের জন্য পৃথিবীর যা কিছু আছে সবকিছু সৃষ্টি করা হয়েছে শুধুমাত্র জিন এবং ইনসানকে সেবা করার জন্য আর জিন ইনসানকে সৃষ্টি করা হয়েছে একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করার জন্য।
এরকম পৃথিবীর মধ্যে প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার জাতি বা গোষ্ঠী রয়েছে বা তারও বেশি থাকতে পারে তাদের মধ্যে শয়তান এমন কিছু প্রতারণা বা কুমন্ত্রণা দিয়ে রেখেছেন তারা যদিও ভুল পথে কিন্তু তাদেরকে ওই ভুলি শুভ্র করে দিয়েছেন তাদের চোখে তাদের হৃদয়। তারা ওই ভুলের মধ্যে জীবন পার করছে একের পর এক সবাই মৃত্যুবরণ করছে এবং তারা সত্য সন্ধান আলোর সন্ধান পায়না তারা অন্ধকারই থাকে অন্ধকারে নিমজ্জিত হয় আর অন্ধকার থেকে এই পৃথিবী থেকে বেইমান হয়ে বিদায় নেয়। তাদের কথা আমরা এতোটুকু বলতে পারি যে তারা তো আসলে ঈমানদারই নয় তারা তো বেইমানি আর বেইমানের উপরেই তাদেরকে অটল রাখতে শয়তান প্রচারণা চালায়।
অন্য ধর্মের কথা আমরা বাদই দিলাম আমাদের মুসলিম ধর্মের মধ্যে অর্থাৎ যারা মহান আল্লাহকে মানে এক একক অদ্বিতীয় হিসেবে স্বীকার করে নেয়। মহান আল্লাহকে মানা এবং এক অদ্বিতীয় প্রভু হিসেবে স্বীকার করার পরেও তারা আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মানে না নূর হিসেবে স্বীকার করে না। যেমন শিয়া সম্প্রদায়। এরা আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে না মানার কারণে তারা বেইমান। এরপরে আমাদের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রায় 200 কোটি মুসলমান রয়েছে আর এই ২০০ কোটি মুসলমানের মধ্যে নামের মুসলমান অধিকাংশ আর কাজের মুসলমান খুবই কম। তাদের কথা বাদ দিয়ে যদি আমরা মোটামুটি যারা কাজের মুসলমান তাদের দিকে একটু দৃষ্টিপাত করতে চাই। যেমন আমরা যারা মুসলিম রয়েছি এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মানুষ শিক এর সাথে লিপ্ত রয়েছে। আল্লাহকে এক অদ্বিতীয় প্রভু বলে স্বীকার করার পরও তারা বিভিন্ন বস্তুকে আমার প্রিয় আমার মহান আল্লাহতালার সমকক্ষ তারা বানায়ে ফেলে। এবং আল্লাহ সমকক্ষ তাদেরকে মনে করা হয়। অর্থাৎ তারা চরম আকারের শির্ক করছে। অথচ মহান আল্লাহ তাআলা তার পবিত্র গ্রন্থে বলেছেন একটা বান্দা যাবতীয় যত প্রকার গুনাহ হোক না কেন ছোট গুনাহ হকার বড় গুনাহ হোক গুনার পাহাড় হোক বা সমুদ্রের ফেনা বড় করা হোক তবুও তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে যদি সে তোমাকে নসুহা করতে পারে কিন্তু শিরক গুনাহ অর্থাৎ মহান আল্লাহতালার সমকক্ষ মনে করা সময় শক্তি মনে করা সমান অধিকার দেওয়া এমন কাজকে শিরক বলা হয় আল্লাহতালা কখনোই ক্ষমা করবেন না। এছাড়া যদি আমরা নামাজের দিকে যাই তাহলে অধিকাংশ মানুষের নামাজ হয় না কারন নামাজও পড়িতেছে অন্যায় কাজ করিতেছে, নামাজ পড়িতেছে অশ্লীল কথা বলিতেছে, নামাজ পড়িতেছে সুদ খাইতেছে, নামাজ পড়িতেছে ঘুষ খাইতেছে, নামাজ পড়িতেছে গীবত গাইতেছে, নামাজও পড়িতেছে অন্য সম্পদ অন্যায় ভাবে ভক্ষণ করিতেছে, নামাজও পড়িতেছে চুরি ডাকাতি করিতেছে নামাজ পড়িতেছে ছিনতাই করে গেছে নামাজ পড়িতেছে ফাহেশা কাজ করিতেছে, নামাজ পড়িতেছে জেনা করিতেছে, নামাজ পড়িতেছে অন্যর হক নষ্ট, এভাবে হাজার হাজার রকমের অন্যায় কাজ করিতেছে কিন্তু ওই ব্যক্তিটি নামাজের মধ্যেও রয়েছে অর্থাৎ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ বলেছেন যদি কেউ নামাজ পড়ে এবং অন্যায় কাজ করে তবে তোমরা অবশ্যই মনে করবে তার নামাজটা হচ্ছে না।
নামাজ এমন ভাবে পড়তে হবে যেমন যেন এক মনে একধানে অর্থাৎ সামনে মহান আল্লাহতালা আমাকে দেখতে এসে ডাইনে ব্যস্ত আমি মালিক অর্থাৎ এই নামাজে আমার জীবনের শেষ নামাজ এই বলে নামাজের দাঁড়াতে হবে এবং আল্লাহকে মনে রাখতে হবে কয় রাকাত নামাজ পড়লাম তাও মনে রাখতে হবে কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় যে অনেকে বলে জামার নামাজের মধ্যে দুনিয়ার হিসাব মনে হয় দুনিয়ার কথা মনে হয় কয় রাকাত নামাজ পড়লাম তাও খেয়াল থাকে না। আর এই নামাজের মধ্যে যে খেয়াল থাকে না সেটা সংশোধনের উপায় তারা খুঁজে না সংশোধন করার চেষ্টাও করে না।
সর্বক্ষেত্রে শুধু শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে থাকে শয়তান তাকে সঠিকভাবে নামাজ পড়তে দেয় না অন্যায় কাজ হতে বেঁচে থাকতে দেয় না পাপ কাছে বেঁচে থাকতে দেয় না তাদের মনে কুমন্ত্রণা দিয়ে থাকে যে তোরা এই কাজ করে সুদ খাওয়া ঘুষ খা অন্যের সম্পদ হরণ কর অশ্লীল কথা বল এভাবে যাবতীয় কাজগুলো শয়তান তাদের দ্বারা করাতে থাকে এবং শয়তান যেভাবে বলে সে কাজগুলো তারা সেভাবেই করে। তাইতো বলি যে কেউ যদি শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তবে তার আর কোন প্রকার শত্রুর প্রয়োজন হবে না কারণ শয়তানি তার প্রধান শত্রু আর এই শত্রু তাকে পাপ করাবে পাপের পরে মৃত্যুর দিকে নিয়ে মৃত্যু যা তাকে জাহান্নামে পৌঁছে দিবে।
তাই আসুন আমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ না করে, শয়তান কুমন্ত্রণা হতে বেঁচে থাকি। মহান আল্লাহতালা আমাদের তৌফিক দান করুক আমরা যেন শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ হতে বেঁচে থাকতে পারি এবং মহান আল্লাহতালার হুকুম মতো চলতে পারি প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ইসলামের আদর্শ গ্রহণ করতে পারি আল্লাহুম্মা আমিন।


