বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহু।
আল্লাহর রাস্তায় দানের সওয়াব।
আল্লাহর রাস্তায় দান করার কি পরিমান সওয়াব, কি পরিমান ফায়দা, কি পরিমান উপকার, কি পরিমান মহান আল্লাহতালা খুশি হন তা বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। আজকে আমরা আল্লাহর রাস্তায় দান করলে যে সওয়াব হয় সে বিষয়টি নিয়ে আজকে আমরা এই পোস্টটি সাজিয়েছি এই পোস্টটা আপনাদের সকলকে স্বাগতম এবং অভিনন্দন।
মহান আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং পরীক্ষার জন্য এই পৃথিবীতে পাঠাইয়াছেন। শুধু পাঠান নাই আমাদেরকে বিভিন্ন প্রকার হুকুম আহকাম দান করেছেন। আর সেই হুকুম আহকাম এর মধ্যে দান করা অর্থাৎ আল্লাহর রাস্তায় দান করার হুকুম মান আল্লাহতালা করেছেন আর সেই হুকুম করেছেন সূরা বাকারার মধ্যে। সূরা বাকারার মধ্যে আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জাত বলেছেন যে তোমরা তোমাদের দেওয়া রিজিক হতে কিছু অংশ দান করো। এছাড়াও মহান আল্লাহতালা আরো বলেছেন দান করা আমার স্বভাব আর তোমাদের মধ্যে যে আমার এই স্বভাব জীবনে ধারণ করে নিতে পারবে সে আমার প্রিয় বান্দা হয়ে যাবে। মহান আল্লাহ তাআলা দান করতে বলেছেন এবং এই দান করলে তার প্রিয় বান্দা হওয়া যাবে এমন সহজ কাজ আর কি হতে পারে। আল্লাহ যেখানে আমাদেরকে প্রিয় বান্দা করার কথা বলে আর আমরা সে কাজ করবো না এমন তো হতে পারে না আমাদের প্রত্যেকটি বান্দার উচিত মহান আল্লাহতালার হুকুম দান করা আর এই দান করে আমরা মহান আল্লাহতালার প্রিয় বান্দা খুব সহজে হতে পারি। তাই দান করা সম্পর্কে আমরা একটি ছোট্ট কবিতা বলতে পারি।
দান করলে কখনোই দান কমেনা তা আরো মনকে মন বেড়ে যায়। আর দানশীল ব্যক্তিকে মহান রাব্বুল ইজ্জাত অনেক বেশি ভালোবাসেন। তাইতো আমরা বলতে পারি দান করলে কখনোই কারো মাল কমে যায় না বরঞ্চ এই দান আরো অনেক গুন ভোট দিতে করে মহান আল্লাহতালা ওই দানশীল ব্যক্তিকে পুনরায় দান করে দেন। মহান আল্লাহতালা খুশি হয়ে আরো অনেক গুন বাড়িয়ে দেন তবে এখানে কথা হলো যে যেরকম নিয়ত করে দান করবে তার দান সেই পরিমাণে বাড়বে। নিয়ত যত ভালো হবে তার সম্পদ কত আল্লাহ তাআলা বর্ধিত করে দেবেন আর নিয়ত যত নিচু মানের হবে আল্লাহতালা তার মাল বৃদ্ধি ও ততো নিচু করে দেবেন।
দুনিয়াতে যদি আমরা কাউকে একটি টাকা ধার দেই তবে সে তাকে একটি টাকায় ফেরত দিয়ে থাকে কিন্তু মহান আল্লাহ তালাকে এক টাকা ধার দিলে মহান আল্লাহ তা'আলা দয়ার সাগর মায়ার সাগর সে একটি টাকে বর্ধিত করে ৭০ গুণ তাকে ভোট দিতে করে দেন। যখন এই পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে এবং একসময় হাশরের ময়দান কায়েম হবে আর সেই হাশরের ময়দানে মহান আল্লাহ তা'আলা বিচারক হবেন এবং সেই কাঠগড়ায় মহান আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেকটি বান্দার পাপ পুণ্যের হিসাব ওজন করবেন। আর সেই সময় যদি কাহারো নেকীর পাল্লা হালকা হয় এবং বৌদির পাল্লা ভারী হয় তাহলে সেখানে মহাবিপদে পড়বে সেই বান্দা। কিন্তু সেই সময় শেয়ার কোন প্রকার নেকি কোথাও খুঁজে পাবে না তবে সে যে তার জিন্দেগি তে যত দান-খয়রাত করেছে যত গরিব-দুঃখীকে দেখেছে যত অসহায় মানুষের পাশে বা অসহায় মানুষের পিছনে টাকা-পয়সা খরচ করেছে সেই দানের নেকিগুলো যোগ করা হবে। সেদিন কেউ কাউকে কোন প্রকার সাহায্য সহযোগিতা করতে পারবে না আর সেই কঠিন দিনে দান-খয়রাত যে তার জিন্দেগীতে করেছে সেটা তার অনেক বড় কাজ দেবে।
আমরা একটি ছোট্ট গল্প শেয়ার করতে চাই। গল্পটি হলো-একজন লোককে একটি সাপ দাঁড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে লোকটি সাপের সামনে সামনে প্রানপনে করে ফোনে দৌড়াচ্ছে। দৌড়াতে দৌড়াতে তার সামনে ৩০ জন লোক পেল এই ৩০ জন লোকের কাছে এসে সাহায্য চাওয়ার পরেও তারা তাকে সাহায্য করল না। এই আর এই ৩০ জন লোক তাকে কোন প্রকার সাহায্য এবং সহযোগিতা করতে পারবে না। কোন একজন তাকে এ কথা বলল এবং আরো বললো সামনে অগ্রসর হও এবং দেখতে পাবে পাঁচ জন মানুষ তারা তোমাকে রক্ষা করবে। তখন লোকটি সামনের দিকে দ্রুত দৌড়াতে লাগলো। সামনে দেখো পাঁচ জন লোক তারা তোমাকে রক্ষা করতে পারবে। কিন্তু দেখা গেল যে সামনের পাঁচজন লোকও তাকে সাহায্য করতে পারল না এমনকি বাঁচাতে পারল না। সে মনে অনেক কষ্ট নিয়ে আবার সামনের দিকে দৌড়াতে লাগলো। দৌড়াতে দৌড়াতে লোকটির সামনে একজন অর্ধেক মানুষ তখন লোককে গিয়ে বলল হে ভাই আপনি আমাকে বাঁচান তখন ওই লোক ওই অর্ধেক লোক বলল তুমি ভয় করো না আমার পিছনে যাও তখন ওই লোকটি গিয়া পিছনে গিয়া দাঁড়ালো সব ভয়ে চলে গেল ওই লোকটি বলল ভাই আমাকে ৩০ জন লোক বাঁচাতে পারলো না তুমি অর্ধেক মানুষ হয়ে আমাকে বাঁচালে। তুমি আমাকে কিভাবে বাঁচালে সে বিষয়টি আমাকে খুলে বল। তখন অর্ধেক মানুষটি বলল ওই ৩০ জন লোক তোমাকে বাঁচাতে পারেনি আর ওই ৩০ জন লোক হলেও তোমার ৩০ টি রোজা। এরপর আরো পাঁচ জন লোক দেখলে যারা তোমাকে বাঁচাতে পারল না আর ওই পাঁচজন হল পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। আর এই নামাজও তোমাকে বাঁচাতে পারে নাই কারণ নামাজ রোজা তুমি ঠিকই করেছ কিন্তু অন্তরে আল্লাহর ভয় ছিল না। নামাজ পড়েছ ঠিকই নামাজে কখনই তুমি মন বসাতে পারো না নামাজে যখনই দাঁড়াতে তুমি তোমার মন চলে যেত বিভিন্ন জায়গায়। কিন্তু তুমি যখন দান করতে তখন খাস নিয়তে দান করিতে তাই তো তোমার নিয়তের বরকতে আজ বেশি গেলে।
মহান আল্লাহ তায়ালা আমার প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সল্লুল আলাইহি সালামকে বললেন হে নবী আপনাকে লোক সকল এসে জিজ্ঞেস করবে আমরা কি দান করব তখন আপনি অবশ্যই বলে দেবেন যে তোমাদের প্রয়োজনে অতিরিক্ত যে সম্পদ থাকে তা আল্লাহর রাস্তায় দান করে দাও কারণ মহান আল্লাহতালা এই দানকে ৭০ থেকে ৭০০ গুন বর্তিত করে দেবেন। মহান আল্লাহ তায়ালা আরো বলেছেন তোমরা যা কিছু দরকার হয় তা উপভোগ করো এবং দরকারের অতিরিক্ত যেটা থাকে সেটা আমার রাস্তায় হঠাৎ আল্লাহর রাস্তায় দান করে দাও। কেননা কোন এক সময় এমন দিন আসবে যেদিন তোমার ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষা আকাঙ্ক্ষা থাকা শর্তেয় তুমি দান করতে পারবে না। এরকম অনেক লোক আমাদের সমাজে আমাদের পরিবারে আমাদের কর্মস্থলে ইত্যাদি জায়গায় দেখতে পাওয়া যায় যারা মনে মনে ভাবে যে আল্লাহর রাস্তায় কোন কিছু দান করলে আমার অভাব পড়ে যায় কিনা এমনটা ভাবে সে আর এই ভাবাটা শয়তানের পক্ষ থেকে কারণ শয়তান তো চায় যে আদম সন্তান কখনোই জান্নাতে যেন না যেতে পারে আর সেই কাজ করে সে অবিরত। তাই আমাদের কোনক্রমেই শয়তানের কথা শোনা যাবে না শয়তানের কথাই তাল দেওয়া যাবে না কারণ শয়তান আমাদের প্রকাশ ও শত্রু তাকে মহান আল্লাহ তা'আলা আরো সুন্দর থেকে বিতাড়িত করেছেন এবং জমিনে এসে ছুটে চলে এক প্রান্ত থেকে আর মানুষের মনে কুমন্ত্রণা দিতে থাকে। আর মানুষের মধ্যে কুমন্ত্রণা দেওয়ার ফলে অধিকাংশ মানুষ আর তার সিংহভাগ মানুষ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে শয়তানের আদর্শ গ্রহণ করে নেয় তাহলে সে নিজের পরিবারে নিজের দেশ নিজের সমাজ ইত্যাদি যেখানেই থাকুক না কেন সে কখনোই মহান আল্লাহ তায়ালার হুকুম আসে পালন করে না এবং প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সঃ এর আদর্শ গ্রহণ করেনা আর এরাই সবচেয়ে বড় বিপদে পড়বে এদেরকে আল্লাহ ভালোবাসবেন না প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ শাফায়েত করবেন না আজকের মত এখানেই শেষ করছি আল্লাহ হাফেজ।


