আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
প্রিয় সাথী বৃন্দ, আজকে আমি সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রক অর্থাৎ সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করতে অন্যতম দায়িত্ব পালন করতে হবে পিতা-মাতাকে। এ বিষয়ে কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করব ইনশাল্লাহ এই পোস্টটা আপনাদের সকলকে স্বাগতম এবং অভিনন্দন।
তাইতো আমাদের স্রষ্টা আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে আল্লাহর হুকুম পালন এবং প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাহ আলাইহি সালামের আদর্শ গ্রহণ করা এবং তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা। আমাদের সন্তানগুলোকে সেই লক্ষ্যে যদি আমরা মানুষ করতে চাই তবে শিশুকাল থেকেই তাকে শিক্ষা দিতে শুরু করতে হবে। আমরা শিশুদেরকে মানুষ করার জন্য কত কষ্ট কত পরিশ্রম কত অধ্যাবসায় করে থাকি। শুধুমাত্র তাদের মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য। আর মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আমরা আমাদের সন্তানদেরকে বিভিন্ন জায়গায় ভর্তি করাইয়া থাকি। একটা সন্তানকে মানুষ হিসেবে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তাকে আমরা কেউ ভর্তি করি মাদ্রাসায় কেউ বিরক্তি করে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে কেউ ভর্তি করি কিন্ডার গার্ডেন এমন বহু জায়গায় আমরা ভর্তি করি শুধু তাদেরকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য। কিন্তু কার্যত দেখা যায় যে যে সন্তানকে আমরা বাংলা শিক্ষার জন্য কেজিতে বা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ভর্তি করি। একটা লক্ষ্য নিয়ে আর সেই লক্ষ্য হলো বেশি টাকা রোজগার, আর বেশি টাকা রোজগার করতে একটা সন্তানকে ডাক্তার অথবা ইঞ্জিনিয়ার অথবা বড় কোন চাকরির পেতে হবে। তাদের আশা পুরনো হয় তারা এই সন্তানকে সেই ভাবে লেখাপড়া করায় এবং এই সন্তান একদিন ডাক্তার হয় ইঞ্জিনিয়ার হয় বড় চাকরিজীবী হয় কিন্তু দুঃখের বিষয় সেই সন্তান দিন ইসলাম বলতে কিছুই জানে না কিছুই বোঝেনা। সেই সন্তান নামাজ কিভাবে পড়ে জানেনা রোজা কিভাবে রাখে জানে না ওযু কিভাবে করে জানেনা ফরজ গোসল কিভাবে করতে হয় জানেনা তাইমুম কিভাবে করতে হয় জানে না হজ কিভাবে করতে হয় জানেনা যাকাত কিভাবে দিতে হয় জানে না কোন দিকে প্রস্রাব করা যাবে আর কোন দিনকে প্রসাব করা যাবে না তাও জানে না। চার কালেমা বলতে পারেনা। এমনকি কোরআন শরীফ মহান আল্লাহ তায়ালার সরাসরি পবিত্র বাণী সেই কোরআন শরীফ তারা পড়তে পারে না। এই দোষ তাহার নয় এই দোষ হল তার বাবা এবং মায়ের। তারা সন্তানকে যেদিকে কনভার্ট করবে সে সন্তান সেদিকেই কনভার্ট হয়ে যাবে। সে সন্তানের কোন দোষ নয়, দোষ মূলত তার গার্ডিয়ান অর্থাৎ বাবা-মার।
একটা বাস্তব উদাহরণ আপনাদের সামনে তুলে ধরছি। এক বাবার একটি সন্তান ছিল সে সন্তানকে তারা বিভিন্ন স্কুল কলেজে ভালো লেখাপড়া করাইয়া বিদেশে পর্যন্ত লেখাপড়া করাইয়া শেষ করেছিল এবং সে দেশে ফিরে এসে বড় চাকরিতে জয়েন করার কথা। কিন্তু মহান আল্লাহ তা'আলা সেই ছেলেকে আর চাকরিতে জয়েন করতে দেওয়া হয়নি অর্থাৎ সে মৃত্যুর শয্যায় পতিত হয়েছে তখন ছেলেটি কান্না করে বলতেছে বাবা তোমরা তো আমাকে মানুষের মতো মানুষ করেছ কিন্তু আসলে তো আমাকে মানুষের মত মানুষ করো নাই কারণ তোমরা আমাকে মানুষ করেছে দুনিয়া কামাইয়ের জন্য কিন্তু এখন আমি মৃত্যুর শয্যায় এখন আমি আল্লাহর কাছে কি বলবো সেই শিক্ষা তোমরা আমাকে দাও নাই আজ আমি খালি হাতে বিদায় নিয়েছি কারণ আমি তো কিছুই অর্জন করিনি আল্লাহকে কিভাবে চেনা যায় আল্লাহর পরিচয় জানিনা এবং ইসলামের হুকুম আহকাম সম্পর্কে কিছুই জানিনা। তোমরা তো আমাকে এগুলো শিক্ষা দাও নাই আমি শিখব কোথা থেকে। তখন ছেলেটি কান্না করতে করতে মৃত্যুবরণ করল। বাবা ওকে বাবা-মা কান্না জুড়ে দিল তারা বলল হায় বাড়ি জমিজমা সব বিক্রি করে ছেলেকে মানুষের মতো মানুষ করলাম আজ তারা সেই ছেলে মারা গেল। এই হল দৃশ্যপট।
এখন এই ছেলে হাঁসের ময়দানে যেদিন জাহান্নামের দিকে রওনা দিবে তখন তার বাবা-মা ছাড়া তো আর সে জাহান্নামে যাবে না অর্থাৎ বাবা-মাকে নিয়েই জাহান্নামে রওনা দিবে। আসলে এই সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ হয়েছে আসলেই সে মানুষ এর মত মানুষ হয় নাই। আমরা সন্তানকে ডাক্তার বানাই ইঞ্জিনিয়ার বানাই ব্যারিস্টার বানাই যাই বানাই না কেন প্রথমদিকে ওই পরিমাণ দিনে শিক্ষা দেওয়া উচিত ছিল যে পরিমাণ শিক্ষা গ্রহণ করলে সে ইসলামের উপর টিকে থাকতে পারে ইসলাম এর আইন কানুন সমূহ সে ভালোভাবে পালন করতে পারে। এই পরিমাণ শিক্ষা দেওয়ার পরে সে যেন ডাক্তার হয় কোন সমস্যা নাই সে যদি ইঞ্জিনিয়ার হয় কোন সমস্যা নাই সে যদি ব্যারিস্টার হয় তাও কোন সমস্যা নেই।
তাই আমাদের গার্ডিয়ানদের অর্থাৎ বাবা-মার প্রধান লক্ষ্য থাকতে হবে সন্তান যেন আমার প্রতি কোন প্রকার অভিযোগ না দিতে পারে হাশরের ময়দানের দিন। সেই ভয়াবহ দিনের এই অভিযোগ থেকে মুক্ত থাকার জন্য এবং সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আমরা সন্তানদেরকে আগে ইসলামের শিক্ষায় শিক্ষিত করি। তবে আমার আর কোন চিন্তা থাকবে না আমার আর কোন ভাবনা থাকবে না। তাই আসুন আমরা সন্তানদেরকে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে করে তোলার জন্য ছোটকাল থেকে তাকে শিক্ষা দিতে শুরু করি এবং এই শিক্ষাই যেন তাকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। আজকের মত এখানেই শেষ করছি আল্লাহ হাফেজ।


