নিঝুম দ্বীপ রূপসজ্জা

alim236

 বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

 আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু

সম্মানিত সাথী বিন্দু আজকে আর একটা পোস্টে আপনাদের সুস্বাগতম।

বাংলাদেশের একটি ছোট্ট দ্বীপ নিঝুম দ্বীপ। নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার অবস্থিত। ২০০১ এর ৮ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকার পুরো দ্বীপটিকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করেছে।এটি ২০১৩ সালে জাহাজমারা ইউনিয়ন হতে পৃথক হয়ে স্বতন্ত্র ইউনিয়ন হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। নিঝুম দ্বীপের পূর্ব নাম হলো চর-ওসমান, আবার অনেকে একে ইছামতীর চরও বলে থাকে। এখানে প্রচুর ইছা মাছ (চিংড়ীর স্থানীয় নাম) পাওয়া যায় বলে এই চরকে ইছামতির চরও বলা হয়।

 

স্থানাঙ্ক: ২২°৩′৪৮.৮২″ উত্তর ৯১°০′৩৮.৬৯″ পূর্ব

এই চরের আয়তন ১৬৩.৪৫ বর্গকিমি (৬৩.১১ বর্গমাইল) • স্থলভাগ ৩৮.৬৫ বর্গকিমি (১৪.৯২ বর্গমাইল) • জলভাগ ১২৪.৮১ বর্গকিমি (৪৮.১৯ বর্গমাইল) মোট জনসংখ্যা (25,000)

 

একজন বাথানিয়া সে সর্বপ্রথম এখানে মহিষের বাথান নিয়ে বসত গড়ে তোলে। পরে হাতিয়ার সাংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম কালাম এই নাম বদলে নিঝুম দ্বীপ নামকরণ করেন । এই নিঝুম দ্বীপ টি চারটি ছোট বড় চর যেমনঃ বাল্লারচর, চর ওসমান, কামলার চর এবং মৌলভির চর - এই চারটি চর মিলিয়ে নিঝুম দ্বীপ। এই‌ দ্বীপটি ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে জেগে ওঠে। বসতি গড়ে উঠেপ্রায় ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে।1970 খ্রিস্টাব্দে এই চরে এমন এক ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় হয় যাতে এই শহরে কোন প্রাণের অস্তিত্ব ছিলনা। ঘুনি ঝড়ের পরে দ্বীপটিতে তৎকালীন হাতিয়ার নেতা আমিরুল ইসলাম ঘূর্ণিঝড়ের পরে পরিদর্শনে গিয়ে দেখেন সেখানে কোন প্রাণী বেঁচে নেই তখন সে দুঃখের সহিত বলেছিল হাই নিঝুমদ্বীপ সেই থেকে দ্বীপটির নাম হয়েছে নিঝুম দ্বীপ।

 

এই দ্বীপে মাটি চিকচিকে বালুকাময়, জেলেরা তাই নিজ থেকে নামকরণ করেন বালুর চর। দ্বীপটিতে মাঝে মাঝে বালুর ঢিবির মতো ছিল বিধায় স্থানীয় লোকজন এই দ্বীপকে বাইল্যার ডেইল বা বাল্লারচর বলে ডাকত। বর্তমানে বর্তমানে এটিকে বাইল্যার ডাইল বলে সম্বোধন করে যদিও এর নাম নিঝুম দ্বীপ।

 

৭০-এর দশকের দিকে সর্বপ্রথম বাংলাদেশ বন বিভাগে এখানে বন্য কার্যক্রম চালু করেন। প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে চার জোড়া হরিণ ছাড়া হয়েছিল। নিঝুম দ্বীপ বতমানে হরিণের অভয়ারণ্য। ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দের এক হরিণশুমারি অনুযায়ী হরিণের সংখ্যা ২২,০০০টি । নোনা পানিতে বেষ্টিত নিঝুম দ্বীপটিতে সিংহ ভাগ গাছ হলো কেওড়া গাছ। এখন এটি অভয়ারণ্য। ম্যানগ্রোভ বনের মধ্যে সুন্দরবনের পরে দ্বিতীয় বৃহত্তম মানে নিঝুম দ্বীপকে বাংলাদেশের ম্যানগ্রোভ বন বলে অধিকাংশ মানুষ মনে করে।

 

নিঝুম দ্বীপ সম্পর্কে আজকে এই পর্যন্তই। ধৈর্য ধরে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

 

আল্লাহ হাফেজ

Comments