কোন ক্ষেত্রে গীবত জায়েজ!!!

alim236

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম 

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

 সম্মানিত সাথী বৃন্ধু আজকে আমি কোন কোন ক্ষেত্রে গীবত করা জায়েয বা হালাল সে বিষয় নিয়ে আজকের আয়োজন। এই আয়োজনে আপনাদের সবাইকে স্বাগতম।

গীবত করতে তিন ব্যক্তির প্রয়োজন হয় উপস্থিত থাকতে হয় দুই ব্যক্তি আর অনুপস্থিত থাকবে এক ব্যক্তি তবেই গীবত শুরু হতে পারে। বিগত আলোচনায় গীবত কাকে বলে কত প্রকার কি কি এবং হারাম সমূহ আলোচনা করা হয়েছে এখন আমরা জায়েজ আছে বা হালাল গীবত সম্পর্কে আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ। যদি কোন গীবত, অন্য মানুষের উপকার হয় অর্থাৎ গীবত করতে তিন ব্যক্তি লাগে এই তিন ব্যক্তির কাহারো না কাহারো অবশ্যই উপকার হবে এমন গীবত হালাল। সাধারণত কয়টি বিশেষ কারণে গীবত করা জায়েয হয় যেমনঃ

১। জুলুম থেকে নিচে বাঁচতে, অন্যকে বাঁচাতেঃ- এমন ব্যক্তির কাছে গীবত করতে পারবে, যে ব্যক্তি ঐ ব্যক্তির জুলুম কে প্রতিহত করতে পারবে, যে ব্যক্তি জুলুম করে তার থেকে।

২। কোন খারাপ কাজ বন্ধ করার জন্য সাহায্য চাইতে এমন ব্যক্তির কাছে গীবত করতে পারবে যে তা বন্ধ করার ক্ষমতা রাখে বা বন্ধ করতে পারবে।

৩। কোন বিষয় সম্পর্কে শরীয়তের সমাধান জানতে গীবত করে মূল বিষয় উপস্থাপন করা জায়েজ আছে। যেমন বলা যে, আমাকে অমুক ব্যক্তি আমার উপর জুলুম করেছে, তাই আমারও কি তাকে আঘাত করা জায়েজ আছে কি?

৪। সাধারণ মুসলমানদের দ্বীনী ও দুনিয়াবী ধোঁকা ও খারাবী এবং জুলুম থেকে বাঁচাতে গীবত করা জায়েজ। যেমন সাক্ষ্য সম্পর্কে, হাদীস, আসার ও ইতিহাস বর্ণনাকারী সম্পর্কে, লেখক, বক্তা ইত্যাদি সম্পর্কে দোষ জনসম্মুখে বলে দেয়া, যেন তার ধোঁকা ও মিথ্যাচার থেকে মানুষ বাঁচতে পারে। উদাহরণতঃ আলেমে ছু অর্থাৎ ভালো আলেম নয় এমন, দেওয়ানবাগী পীর,মতিউর রহমান মাদানী, তাউসীফুর রহমান এমন ভ্রান্ত মানসিকতা ও মিথ্যাচারকারী ব্যক্তিদের দোষ মানুষের কাছে বলা সাধারণ মুসলমানদের ঈমান আমল হিফাযতের জন্য বর্ণনা করা বা গীবত করা জায়েয এবং হালাল।

৫। প্রাকাশ্যে কেউ যদি শরীয়তগর্হিত কাজ করে, তাহলে তার খারাবী,তার কুপ্রভাব ইত্যাদি বর্ণনা করা এমন ব্যক্তির কাছে যারা এই গুলো শুনার দ্বারা বিভ্রান্ত হওয়া থেকে বাঁচতে পারে বা বেঁচে থাকতে পারে। যেমনঃ কেউ প্রকাশ্যে মদ খায়, গাজা খায়, হিরোইন খায়,তবে মানুষের সামনে তার সরাসরি বদনাম করা জায়েজ হবে। যেন এমন খারাপ কাজ করতে ভবিষ্যতে কেউ সাহস না করে।

৬। যদি কারো পরিচয় প্রকাশ করতে। যেমন কেউ কানা। তার পরিচয় দেয়া দরকার। কিন্তু নাম কেউ চিনতেছে না। কিন্তু কানা বললেই সবাই চিনতে পারে। তখন কানা বলা বাহ্যিক দৃষ্টিতে যদিও গীবত হয় তবুও এই গীবত করা জায়েজ এবং হালাল হবে। এতে গীবতের গোনাহ হবে না।সাথী বৃন্দু আসুন আমরা গীবত হতে বেঁচে থাকি এবং যদি গীবত করতেই হয় তবে উপরোক্ত ছয়টি হালাল বা জায়েজ গীবত আমরা করতে পারি। আজকে আলোচনা এ পর্যন্তই আবার দেখা হবে দেখা হবে পরের পোস্টে ।

আল্লাহ হাফেজ

Comments