বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।
প্রিয় সাথী বৃন্দ আজকে আমি এর আপনাদের সামনে "মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া একটা জঘণ্য কবীরা গুনাহ"। এই বিষয় নিয়ে আজকের আয়োজন। এই পোস্টটি আপনাদের সকলকে স্বাগতম।
মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে মমিন এর বিভিন্ন প্রকার গুণাবলী বিভিন্ন সূরার ভিতর বর্ণনা করেছেন সেই ধারাবাহিকতায় সূরা ফুরকান এর 72 নং হাদিস এর ভিতর আল্লাহ তাআলা মমিন ব্যক্তিবর্গের অন্যতম গুণাবলী মধ্যে একটি বিশিষ্ট গুণ উল্লেখ করেছেন সেটি হল "যারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না"। এটা মমিন ব্যক্তিবর্গের গুণাবলী মধ্যে অন্যতম একটা গুণ উল্লেখ করেছেন মহান আল্লাহ তা'আলা।
এ ছাড়াও আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে মিথ্যা সম্পর্কে অনেক আয়াত বর্ণনা করেছেন তার মধ্যে সূরা হজ্জের 30 নাম্বার আয়াতে আল্লাহ তালা বলেছেন "তোমরা মিথ্যা থেকে আত্ম সম্বরণ করো"
এ ছাড়াও আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম এর পবিত্র মুখশ্রীতে আমরা জানতে পারি যে "মিথ্যা সাক্ষ্য দান করা শিরক এর সমান"এছাড়া আরো বলেছেন "শেষ বিচার দিবসে অর্থাৎ হাশরের ময়দানে যারা মিথ্যা সাক্ষ্য দান করতো তাদের জন্য জাহান্নামের ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত এক কদম সামনে অগ্রসর হইতে পারিবে না"
এছাড়াও আমরা জানি যারা মিথ্যা সাক্ষ্য দান করে তারা চারটি বড় বড় গুনাহে লিপ্ত হয়ে যায়।
যেমনঃ
প্রথমতঃ মিথ্যা সাক্ষ্য দাতা মূলত মিথ্যা কথা বা মন গড়া বা বানাইয়া কথা বলার অপরাধে অপরাধী হয়। এ ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলার সতর্কবাণী হলো, "মহান আল্লাহতালা অপব্যয়ী মিথ্যাবাদীকে হেদায়েত করেন না"
দ্বিতীয়তঃ সে যার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দান করল সে তার উপর বড় জুলুম করল কারণ এই মিথ্যা সাক্ষ্য দ্বারা সে তার জানমাল মান সম্মান এর ক্ষতি সাধন করে দিল।
তৃতীয়ঃ সে যার পক্ষে মিথ্যা সাক্ষ্য দিল তার প্রতি ও সে অনেক বড় ধরনের জুলুম করলো কারণ সে তার জন্য হারাম সম্পদ ভোগের সুযোগ করে দিল ফলে সে হারাম খাওয়ার সুযোগ পেয়ে গেল হারাম খেলে এবাদত বন্দেগী কবুল হয় না আর ইবাদত বন্দেগীর সব না হলে সে হাশরের ময়দানে নেকির পাল্লা হালকা হবে সেই কারণে সে জাহান্নামে পতিত হবে। হারাম সম্পদ ভক্ষণ করা আর জাহান্নামের অগ্নি গ্রহণ করা একই কথা অর্থাৎ হারাম খাদ্য দ্বারা দেহ গঠিত হলে সেই দেহ কখনোই জান্নাতে যেতে পারবেনা।
চতুর্থতঃ তার দ্বারা ঘটিত মিথ্যা সাক্ষ্যের মাধ্যমে একটি হারাম বা নিষিদ্ধ সম্পদ প্রাণ বা সম্ভ্রমের উপর অন্য মানুষের হস্তক্ষেপ বৈধ বানিয়ে দেয়।
আসুন আমরা মিথ্যা সাক্ষ্য হতে বেঁচে থাকি আর মিথ্যা সাক্ষ্য থেকে বেঁচে থাকলে উপরের চারটি বড় বড় গুনাহ থেকে বেঁচে যাব এবং জান্নাতে যাওয়া আমাদের জন্য অনেক সহজ হবে,
আল্লাহ হাফেজ।


