সাধ্য নেই, স্বাদ কেন ?

alim236

          

    বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম 

 

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু

 

আজকে আমি আপনাদের সামনে দুই বন্ধুর বিরল সাধ এর ঘটনায় আপনাদের স্বাগতম।

 

তারা দুই বন্ধু ছিল। তারা যদিও গরিব ঘরের ছেলে তবুও তাদের হাবভাব, চালচলন, ইত্যাদি বড় লোকের মত করতো । তারা দুইজনে আশা করত তারা ধনীর দুলালী মেয়েকে বিয়ে করবে। তাই তারা মেয়ে খুঁজতে লাগলো কিন্তু প্রস্তাব দিলে তো তাদের সাথে কেউ বিয়ে দেয় না । তাই তারা ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিল যে, তারা প্রেম করে বিয়ে করবে।যে কথা সেই কাজ। তাই তারা দুইজন, দুটি মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলল। তাদের মন পটানোর জন্য বিভিন্ন বানিয়ে বানিয়ে বিভিন্ন রকমের গল্প করে তাদের মন জয় করতো এবং তাদের কাছে গল্প করতো, আমরা অত্যন্ত ধনীর ছেলে, আমাদের টাকা পয়সার অভাব নেই, আমাদের বাড়ি গাড়ির অভাব নেই ,ইত্যাদি ইত্যাদি ওই মেয়ে দুইটির কাছে গল্প করতে করতে একসময় তাহারা দুইজনের এমন ভাবে প্রেমে পড়ে যায় যে তারা পালিয়ে দুইজন দুইজনকে বিয়ে করে। বিয়ে করার পর তারা ভাবলো যে , তাদের যদি আমরা গ্রামেই রাখি তাহলে ঘটনা প্রকাশ পেয়ে যাবে অর্থাৎ মেয়ে দুটি তাদের অবস্থা জেনে যাবে। তাই তারা শহরের দিকে চলে গেল এবং একটি বাসা ভাড়া নিল যাতে দুটি রুম ছিল। দুজন দুই রুমে উঠল। এবার তাদের তো ভালো ভালো খাওয়াতে হবে , পড়াতে হবে , কসমেটিক কিনে দিতে হবে। কিন্তু এগুলো করতে তো অনেক টাকার প্রয়োজন। এদিকে তাদের চাকরি নেই, টাকা নেই।নেই বললে তো হবে না। তাই তারা সিদ্ধান্ত নিল যে আমরা এক মর্ডান ব্যবসা শুরু করব । ব্যবসা হল, ডিজিটাল ভিক্ষাবৃত্তি । তাই তারা দুইজন শহর থেকে অর্থাৎ ফুটপাত থেকে কিছু পুরনো জামা কাপড় কিনল কারণ ভিক্ষা করতে তো পুরনো জামা কাপড় লাগে। তাই তারা বাসা থেকে দুইজন ভালো পোশাক, টাই শুট পড়ে দুই জন দুই বউকে বললো যে আমরা একটা বড় বিজনেস করিতেছি। আমাদের একটা অফিস আছে । সেই অফিসে বসি এবং ব্যবসা দেখাশোনা করতে হয়। তাই সেখানে যেতে হবে।আর অফিসে গিয়ে কথা বলা সম্ভব হবে না কারন সারাদিন অনেক ব্যস্ত থাকি। এই বলে তারা ভিক্ষা করতে বের হয় এবং একটা গোপন জায়গায় গিয়ে ভালো পোশাক খুলে, পুরনো পোশাক পড়ে। একটা থালা ও লাঠি নিয়ে তারা ভিক্ষা করতে শুরু করল। ভিক্ষা করার সময় একজন অন্ধ সাজে এবং আরেকজন হাত ভাঙ্গা অভিনয় করে এবং তারা ভিক্ষা চায়, ইংলিশ ভাষা ব্যবহার করে এবং বলে আমরা গ্রাজুয়েট ফকির, অল্প দিলে হবে না ,বেশি করে ভিক্ষা দিতে হবে । বিকালে ভিক্ষা শেষ করে বাসায় ফেরে এবং বাসায় ফেরার আগে তারা আবার নতুন পোশাক পরে। এভাবে তারা চলতে থাকে আবার মাঝে মাঝে বউকে নিয়ে দুইজন শহরের পার্কে বেড়াতে যায় এবং পার্কে অনেক লোক যারা ভিক্ষে দিয়েছিল তারা দুই বন্ধুকে চিনে ফেলে এবং বউয়ের সামনে বলে আপনারা না ভিক্ষা করতেন কিন্তু তারা পাত্তা দিত না। বলতো মানুষের মত মানুষ আছে না হয়তোবা আপনি ভুল করছেন । এভাবে প্রায় প্রতিনিয়ত মানুষ তাদের কথা বলতে থাকে কিন্তু তারা কোন পাত্তা দেয় না। একদিন এক হোটেল কর্মচারী তাদের বউদ্বয়কে গিয়ে বলল, ম্যাডাম আপনাদের সাথে যে স্যার বেড়াতে আসত, তারা দুইজন ভিক্ষা করছে এবং এক জায়গায় ঘুমিয়ে পড়েছে। তখন তারা তাদের সাথে গিয়ে দেখে যে, তারা ঘুমাইয়া পড়েছে, তখন তারা তাদের ডেকে তোলা হলো। ঘুম থেকে জেগে দেখে তাদের বউ দুইজন তাদেরকে সামনে এবং বলল তোমাদের সাথে আমরা থাকবো না, আমরা চলে যাব, তখন তারা দুইজন যার যার বউ এর পা ধরে মাফ চাইতে লাগলো এবং বলল তোমাদের প্রতি আমাদের ভালোবাসা কম ছিল না, শুধু ছিল না সাধ্য ।

 

গল্পের শিক্ষাঃ সাধ কখনও সাধ্বৌর বেড়াজালে আবদ্ধ থাকে না।

Comments