বিশ্ব জাহানের নবী, শ্রেষ্ঠ নবী শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
প্রিয় সাথীবৃন্দ, আজকে আমি আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সঃ এর প্রতি সমর্থন এবং মানার প্রতি কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই এই পোস্টে আপনাদের সকলকে স্বাগতম এবং অভিনন্দন।
আমাদের প্রভু মহান আল্লাহতালা। মহান আল্লাহ তা'আলা আমাদের সৃষ্টি করেছেন অত্যন্ত ভালবেসে দয়া মায়া মহব্বত করে। তিনি যদি আমাদের সৃষ্টি না করতেন করার কিছুই ছিল না আমরা হয়তোবা দুনিয়ার মুখ দেখতে পারতাম না। তাইতো মহান আল্লাহতালা নিজ উদ্যোগে অত্যন্ত মহব্বত করে অত্যন্ত সুন্দর করে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। শুধু তাই নয় আমাদেরকে আস্তিক বানায়া সৃষ্টি করেছেন শুধু তাই নয় আমাদেরকে মুসলমান বানাইয়াছেন শুধু তাই নয় আমাদেরকে শেষ নবীর উম্মত বানাইয়াছেন। শুধুই তাই নয় আমাদেরকে পৃথিবীতে হায়াতে বাচাইয়া রাখিয়াছেন। শুধু তাই নয় আমাদেরকে প্রতিবন্ধী বিকলাঙ্গ বানান নাই সবকিছু সুন্দরভাবে আমাদেরকে দান করেছেন। শুধু তাই নয় আমরা মহান আল্লাহতালার গুনোগান গাইতে পারি এবং আমাদের শ্রেষ্ঠ নবীর শেষ নবী নবীদের নেতা, খাতেমুন নাবিউন অর্থাৎ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাহু সাল্লামের উম্মত বানাইয়াছে এজন্য আমরা সবাই দিল থেকে শুকরিয়া আদায় করি আলহামদুলিল্লাহ।
মহান আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছা কে জিন এবং ইনসানের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য একটা মাধ্যম অবশ্যই প্রয়োজন। এজন্য মহান আল্লাহ তা'আলা এই পৃথিবীতে পৃথিবীর শুরু থেকে অর্থাৎ আদম আলাই সালাম থেকে শুরু করে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত প্রায় লক্ষাধিক নবী ও রাসূলগণ এ পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। আর এই নবী এবং রাসূলগণকে মহান আল্লাহ তায়ালা তার আশা আকাঙ্ক্ষা কথা বাণী জীনের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা তাদের মাধ্যমে করেছেন। নবী-রাসূলগণ হলো মহান আল্লাহ তাআলার দুত অর্থাৎ messenger। আল্লাহ কখন কাকে কি বলতে চান কখন কোন আদেশ করেন কখন কোন নিষেধ করেন এগুলো সবই যে যে সময়ে যে যে নবী ছিল সেই সেই সময়ে সেই সেই নবীর কাছে তিনি পৌঁছে দিতেন এবং তারা তার বান্দাদের কাছে এনে সেই কথাগুলো হুবহু বর্ণনা করতেন জানাইয়া দিতেন বুঝাইয়া দিতেন।
আদম আলাই সালাম এর সময় যে মানুষগুলো ছিল তারা আদম আলাই সালাম কে মেনে চলতে হতো তিনি যে খবর আনতেন সেই খবরই তারা মেনে চলতে হতো। অর্থাৎ আদম আলা সালামকে মেনে চলা মানেই হল মহান আল্লাহতালাকে মেনে চলা। অর্থাৎ যখন যে নবী পৃথিবীতে আগমন করেছেন যার কাছে মহান আল্লাহ তাআলার বাণী আদেশ-নিষেধ আসতো তখনকার মানুষ সেই নবীকেই মেনে চলতে হতো অনুসরণ করতে হতো আর এই মেনে চলা অনুসরণ করার মাধ্যমে মহান আল্লাহকে মেনে চলা এবং অনুসরণ করার সামিল। সেই ধারাবাহিকতায় প্রথম নবী হযরত আদম আলাই সালাম এরপর ঈসা আলাইহিস সালাম মুসালা সালাম সালাম এরকম প্রায় ২৫ জন নবী ও রাসুলের কথা কুরআনে সরাসরি পাওয়া যায়। তারা সবাই মহান আল্লাহতায়ালার একত্ববাদ মহান আল্লাহতালার আদেশ মহান আল্লাহতালার নিষেধ মহান আল্লাহতালার যাবতীয় বানিয়ে কথা জিন এবং ইনসান এর কাছে পৌঁছে দিত দিনে পার্থক্য রাতে পৌঁছে দিতে প্রকাশ্যে পৌঁছে দিত অপ্রকাশ্যে পৌঁছে দিত। এটা তাদের দায়িত্ব এবং কর্ম ছিল। তখনকার সময় এক এক কমেও এক এক নবী ছিল অর্থাৎ একই সময়ে একাধিক নবীর উপস্থিতি এই পৃথিবীতে ছিল।
কিন্তু আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেহেতু শেষ নবী আমাদের নবীর পরে আর কোন নবী এই পৃথিবীতে আগমন করবেন না। আমাদের এই প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মহান আল্লাহতালা এমন মর্যাদা দান করেছেন যা অন্য কোন নবীকে দান করেন নাই। আমাদের এই নবীর মর্যাদা মহান আল্লাহ তা'আলা এমন বাড়িয়ে দিয়েছেন যে অন্য কোন নবী আমার নবীর ধারের কাছেও নেই। আমার প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ নবুয়ত পাওয়ার আগ পর্যন্ত অর্থাৎ 40 বছর পর্যন্ত মক্কার কাফেরমুশরিকদের অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং প্রিয় পাত্র ছিলেন। আমাদের প্রিয় নবী কে পাঠিয়েছিলেন আরব দেশে অর্থাৎ সৌদি আরব বর্তমান জেদ্দায়। ইতিহাস থেকে জানা যায় তখন আরব বিশ্বে সবচাইতে জাহিলিয়াতের যুগ ছিল যা পৃথিবীর অন্য কোন প্রান্তে এরকম জাহিলিয়াত ছিল না। তাই মহান আল্লাহতালা আমার প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সেই জাহিলিয়াতের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়া মানুষগুলোর মধ্যেই প্রথম পাঠাইয়া দিয়েছিলেন। আথা হঠাৎ মক্কা নগরী থেকে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইসলাম ধর্ম প্রচার শুরু করেছিলেন। ইসলাম প্রচারের আগে মক্কার কাফের মুশরিকদের প্রিয় নবী এমন প্রিয় পাত্র ছিলেন যে সবাই তাকে আল আমিন বলে ডাকত এবং যেকোন বিচার আষাঢ়ে তাকেই প্রধান মানতো।
আমার প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমস্ত নবীদের নেতা নবীদের নবী শ্রেষ্ঠ নবী সবচাইতে বেশি মর্যাদা পূর্ণ নবী। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ কে আল্লাহতালা এমন মর্যাদা এমন ভালোবাসতেন যা অন্য কোন নবীর ক্ষেত্রে তেমনটি ঘটে নাই যেমন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহতালা আরশ মাওলা তাকে দাওয়াত দিয়েছিলেন। তিনি সরাসরি গিয়েছিলেন এবং আল্লাহর সাথে কথা মতন আল্লাহর সাথে যাবতীয় আলাপচারিতা এবং বেহেশত দোযখ আরজ করছি লাহারে মাহফুজ সবকিছু তিনি নিজ চোখে দেখে আবার পৃথিবীতে ফেরত আসিয়াছিলেন। আর তিনি আরশ মলয় কাটিয়েছিলেন প্রায় 27 টি বছর কিন্তু দুনিয়ার জিন্দেগীতে এক নিমেষ। যখন তিনি মেরাজে যান যে বিছানা থেকে উঠে যান যেখানে অজু দিয়েছিলেন মেরাজ থেকে ফেরত এসে দেখেন সেই বিছানার গরম তেমনি রয়েছে এবং সেই হুজুর পানি গড়িয়ে যাইতেছে। এটা মহান আল্লাহতালার কুদরতি কারণ তিনি যখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মেরাজে নিয়ে যান তখন পৃথিবীর সময়কে তিনি স্থির করে দি���়েছিলেন। আর এই কিছুক্ষণ স্থির থাকার মধ্যে ২৭ টি বছর তিনি কাটিয়েছেন।
আমার প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সঃ আঃ এর মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য মহান আল্লাহতালা অনেক কিছুই করেছেন তার মধ্যে একটি হলো সারা জাহানের জন্য আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম কি একা নবী হিসেবে পাঠিয়েছিলেন।আমার প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখন পাঠিয়েছেন তখন এই পৃথিবীতে আর দ্বিতীয় কোন নবীকে মহান আল্লাহতালা পাঠান নাই। আমাদের প্রিয় নবীকে এককভাবে দুনিয়াতে পাঠানোর উদ্দেশ্য হলো প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর মর্যাদা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এ ছাড়া আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ মাজাদা বৃদ্ধির আরেকটি কারণ হলো তাকে সরাসরি মহান আল্লাহতালা আরশ মাওলা দাওয়াত করে নিয়ে গিয়েছিলেন সেখানে তিনি দুইটি যান ব্যবহার করেছিলেন একটা হল বরাক আরেকটি হলো রব রব। এরকম জানে আর কোন নবী উঠতে পারে নাই বা আল্লাহ তাআলা উঠান নাই। এটাও মর্যাদা বৃদ্ধির আরেকটি কারণ। এ ছাড়া আমার প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ কে মর্যাদা বৃদ্ধির আরেকটি কারণ হলো পৃথিবীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যত নবী-রাসূল আসবে সবচাইতে শ্রেষ্ঠ এবং সবচাইতে মর্যাদা পূর্ণ নবী হলো আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ। আমার প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সঃ এই দিনের জন্য দিন ইসলামের জন্য যত কষ্ট যত বেদনা যত যাতনা সহ্য করেছেন অন্য কোন নদী তা কখনোই সহ্য করেন নাই। আমার প্রিয় নবীর মর্যাদা এতই বেশি যে তাকে এমন জান্নাত দান করা হবে যে জান্নাত অন্য কোন নবী ও রাসুল কে দান করা হবে না। আমার প্রিয় নবীকে হাউজে কাউসার দান করা হয়েছে। আমার প্রিয় নবী কে হাশরের ময়দানে সুপারিশ করার তৌফিক দান করা হবে।
তাইতো কিয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ আসবে সর্ব মানুষের নবী হিসেবে আমাদের প্রিয় নবীকে আল্লাহতালা বাছাই করেছেন। এ পৃথিবীতে আমার প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ কিসে মানবে না সে কখনোই মুক্তি পাবে না। আমার প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সালামকে না মানলে আল্লাহকে মানা হবে না আর আমার প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ কে কেউ যদি মানে তবে আল্লাহকে মানা হবে। এটা মহান আল্লাহতালা কুরআনে একাধিকবার উল্লেখ করেছেন এবং তিনি বলেছেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম কে যে মানবে তার আদর্শ গ্রহণ করবে তবে অবশ্যই সে আমার আদর্শ গ্রহণ করলো আমাকেই মানল। এই সময় যদি কেউ শুধু আল্লাহকে মানে আল্লাহর নৈকটতা অর���জন করতে চায় তবে সে কখনোই আল্লাহ কত অর্জন করতে পারবে না কারণ আমার প্রিয় নবী যেভাবে দেখা দিয়েছেন আল্লাহকে সন্তুষ্টি করা আল্লাহর কাজ করা সেই ভাবে করতে হবে অর্থাৎ প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর আদর্শ গ্রহণ করতে হবে তাহলে আল্লাহকে মানা হবে।
তাইতো পৃথিবীর বুকে সকল মানুষের প্রতি উদারতা আহবান আপনারা এখনো সময় আছে অর্থাৎ যতক্ষণ জীবিত আছেন ততক্ষণ সময় আছে আমার প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সালামের আদর্শ গ্রহণ করুন এবং দ্বীন ইসলামের মধ্যে দীক্ষিত হন এবং ইসলাম মতে চলতে থাকেন তবে মহান আল্লাহ তা'আলা ক্ষমা করবেন প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাফায়েত করবেন। এরপর মহান আল্লাহ তায়ালা তাকে খুশি হয়ে পরম সুখের জিন্দেগী জান্নাত দান করবেন। আজকের মত এখানেই শেষ করছি আল্লাহ হাফেজ।



আমি আমার প্রিয় নবী কে আমার প্রানের চেয়ে বেশি ভালো বাশি।ইনশাআল্লাহ