বিসমিল্লাহির রহমানীর রহিম
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু
সম্মানিত সাথী বৃন্দু আপনারা সবাই কেমন আছেন,? আশা করি আল্লাহর রহমতে আপনারা সকলেই ভাল আছেন, আমিও আল্লাহর অশেষ দয়া ও মেহেরবানীতে ভালো আছি।
আজকে আপনাদের সামনে আরেকটি নতুন পোস্টের শুভেচ্ছা। দিনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই। আসলে আল্লাহতালা আমাদের পরীক্ষার জন্য এই পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। সর্বপ্রথম আমাদেরকে আল্লাহতালা রুহ জগতের একসাথে সবার রুহকে তৈরি করেছেন এবং আল্লাহতালা বলেছেন, আমি কি তোমাদের রব নই ? আমরা সবাই সমস্বরে স্বীকারোক্তি দিয়েছিলাম, হ্যাঁ আপনি আমাদের রব। অতঃপর আল্লাহ দলে দলে আমাদেরকে পৃথিবীতে পাঠাইতেছেন। এখন বর্তমান রয়েছি আমরা। আল্লাহ কেন আমাদেরকে এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন ?উদ্দেশ্য বা কি,?
আমরা এখন উদ্দেশ্যের কথা বলার চেষ্টা করবো।আল্লাহতালা আমাদেরকে এই পৃথিবীতে পাঠানোর উদ্দেশ্য হইল, কে আমলে শ্রেষ্ঠ, আর কে আমলে শ্রেষ্ঠ না। আমরা সবাই রবকে স্বীকার উক্তি দিলাম যে, তার কতটুকু আমরা পালন করলাম আর কতটুকু করলাম না। এইটা পরীক্ষা করার জন্যেই আল্লাহতালা আমাদের এই পৃথিবীতে পাঠায়াছেন।
কিন্তু আমরা এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পৃথিবীতে আসার পর যখন বুঝতে শিখলাম, জানতে শিখলাম, তখন আল্লাহর কাছে দেওয়ার কথা আমরা একেবারে ভুলে গেলাম তাই আমাদের মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য আল্লাহতালা কেতাব দিয়েছেন এবং নবীজির হাদিস দিয়েছেন। আমরা এগুলো পড়ে, শুনে এবং জেনে আল্লাহর স্বীকারোক্তির কথা মনে হবে এবং সেই মতে আল্লাহর ইবাদত করতে হবে। কিন্তু বর্তমানে আমার পরিবার, আমার সমাজ, আমার রাষ্ট্র, আমার বিশ্ব, ইত্যাদির দিকে যদি নজর দেওয়া যায় তবে দেখা যায় পৃথিবীতে প্রায় সাড়ে 700 কোটি মুসলমান রয়েছে।
এর মধ্যে প্রায় 200 কোটি মুসলমান এবং এই 200 কোটি মুসলমানের মধ্যে আবার এর মধ্যে সিংহভাগ মুসলমান হলো শুধু নামধারী মুসলমান। কাজের ব্যাপারে তারা বেখবর। মুষ্টিমেয় কিছু মুসলমান আছে যারা আল্লাহর হুকুম এবং নবী করিম সল্লালাহ সালাম এর তরিকায় জীবন যাপন করে থাকে।
এই পৃথিবীটা আমাদের জন্য পরীক্ষার হল স্বরূপ। ছাএরা যেমন পরীক্ষার হলে নির্দিষ্ট টাইম নিয়ে ঢুকে পড়ে এবং খাতা-কলম নিয়ে, প্রশ্ন নিয়ে বসে যায়, পরীক্ষা দেওয়ার জন্য। তার প্রশ্নগুলো ছিল অজানা। সেই অজানার মধ্যে কিছু প্রশ্নের উত্তর তাকে দিতে হবে। তাই সেই লেখা শুরু করেন এবং ভুল লেখুক আর সঠিক লেখুক, তাকে কোন প্রকার বাধা দেয় না। সময় শেষ, খাতা নিয়ে নেয় এবং তার মূল্যায়ন করা হয়। যদি ভালো লিখে থাকে তবে সে পাশ করল আর ভালো না লিখে থাকে তবে সে ফেল। ঠিক তেমনি ভাবে আমরা এই পৃথিবীতে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করেছি। এখানে আমরা কে ভালো কাজ করি আর কে মন্দ কাজ করি। ভাল কাজ করেও জীবন যাপন করা যাবে পক্ষান্তরে মন্দ কাজ করেও জীবন যখন করা যাবে। এ জন্য আল্লাহ তাআলা এখন আমাদের কিছুই বলবেন না। আমাদের যে অসংখ্য নিয়ামত দিয়েছেন, তার কোনো তা কখনো কেড়ে নেবেন না। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পর আল্লাহতালা আমাদের জবাবদিহি কাঠগড়ায় দাঁড় করাবেন।
আসুন আমরা সেই কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কি উত্তর দিব তাহা এখন থেকেই সেই উত্তর তৈরি করে রাখার চেষ্টায় লেগে যাই।


