আমাদের এই দুনিয়ার জিন্দেগীতে চলার পথে ধৈর্যের গুরুত্ব অপরিসীম।

alim236

আমাদের এই দুনিয়ার জিন্দেগীতে চলার পথে ধৈর্য এর অপরিসীম গুরুত্ব!!!

 

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহু।

 

প্রিয় সাথী বৃন্দ, আজকে আমি ধৈর্য কি ধৈর্য এর প্রকারভেদ এবং ধৈর্যে এর গুরুত্ব নিয়ে কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই এই পোস্টটি আপনাদের সকলকে স্বাগতম এবং অভিনন্দন।

 

ধৈর্য মূলত তিন প্রকারে ভাগ করা যায়। যথা এক নাম্বার ইবাদত বন্দেগী করতে যে কষ্ট মজাহাদা করতে হয় সে বিষয়ে ধৈর্য ধারণ। দুই নাম্বার ধৈর্য হলো আমাদের খারাপ রিপু গুলো দমন করতে যে কষ্ট হয়। তৃতীয় প্রকার ধৈর্য হলো দুনিয়ার জিন্দেগীতে সংসার মা-বাবা ভাই-বোন আত্মীয়-স্বজন ছেলে-মেয়ে বন্ধু-বান্ধব সহকর্মী ইত্যাদি থেকে যে খারাপ আচরণ গুলো আমাদের কাছে এসে পৌঁছায় তার উপর ধৈর্য ধারণ করা।

 

এই তিন প্রকার ধৈর্যধারণ সম্পর্কের বিস্তারিত আলোচনা নিচে পেশ করলাম। প্রথম প্রকার ধৈর্য ধারণ হলো ইবাদত বন্দেগীর ক্ষেত্রে যে কষ্ট মোজাহাদা হয় সেই বিষয়ে ধৈর্যধারণ করা।

মহান আল্লাহতালা আমাদেরকে এই পৃথিবীতে পাঠাইয়াছেন ইবাদত ও বন্দেগী করার জন্য তাছাড়া অন্য কোন কারণে মহান আল্লাহতালা আমাদেরকে পাঠান নাই। এই ইবাদত-বন্দেগীর ক্ষেত্রে আমাদের অনেক অনেক কষ্ট স্বীকার করতে হয়। যেমন আমরা জানি ইবাদত-বন্দেগি প্রত্যেকটি একমাত্র আল্লাহর জন্য করতে হবে অন্য কোন কারণে বা অন্য কারো জন্য এবাদত বন্দেগী করলে সেই ইবাদত বন্দেগী আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। তাই আমাদেরকে প্রথমে নিয়ত ঠিক করতে হবে নিয়ত থাকতে হবে আমি আল্লাহর বান্দা মহান আল্লাহতালা আমাকে ইবাদত ও বন্দেগির জন্য এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন অতএব একমাত্র শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য সবকিছু করতে হবে। তাই আমরা যখন কোন ইবাদত করার নিয়ত করব তখন প্রথমেই আমি মহান আল্লাহতালার জন্য করতেছি মহান আল্লাহ তাআলাকে খুশি করার জন্য করতেছি এমন নিয়ত করে সেই ইবাদত শুরু করা বা সেই কাজ শুরু করা। প্রথম যখন আমার নিয়ত ঠিক হবে নিয়ত সঠিকভাবে করব এরপর হলো সেই ইবাদতের কাজকর্ম।

 

প্রথমে আমি নামাজের কথা বলি। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবীদের সরদার শ্রেষ্ঠ নবী নবীদের নেতা শেষ নবী অর্থাৎ খাতেমুন নবীউন। আমাদের প্রিয় নবীর মর্যাদা সব নবীর উর্ধ্বে আমাদের প্রিয় নবীর মর্যাদা মহান আল্লাহ তা'আলা দিয়েছেন এবং তার মর্যাদা বৃদ্ধি করার জন্য আমাদের প্রিয় নবীর পরে আর কোন নবী এই পৃথিবীতে আসবেন না। আমাদের প্রিয় নবীকে মহান আল্লাহতালা এমন ভালোবাসতেন এমন মর্যাদা দিয়েছেন যে অন্য সব নবীর সাথে মহান আল্লাহতালা জিব্রাইলের মাধ্যমে এলহাম এর মাধ্যমে কথা বলেছেন দাওয়াত দিয়েছেন হুকুম করেছেন অথচ আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ কে সরাসরি মেয়েরা যে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তাইতো আমার প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মেরাজ গমন করেছিলেন অর্থাৎ উদ্ধা আকাশে গমন করেছিলেন। তিনি মহান আল্লাহতালার দরবারে গিয়েছিলেন তার সাথে কথা মতন করেছেন এবং তার সাথে আলাপচারিতা করেছেন এরপর প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সালামকে জান্নাত দেখানো হয়েছে জাহান্নাম দেখানো হয়েছে অর্থাৎ যা কিছু দরকার মহান আল্লাহতালা আমার প্রিয় নবীকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখিয়ে দিয়েছেন। আর সেই মেরাজে মহান আল্লাহতালা আমার প্রিয় নবীকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ দিয়েছেন যা শেষ নবী উম্মতের উপর ফরজ করা হয়েছে। খরচ অর্থাৎ যা সরাসরি আল্লাহর হুকুম কেউ যদি অস্বীকার করলে করলে সে মুসলিম থাকবে না আবার কেউ যদি না করে সে কবিরা গুনাহ করিবে এমনকি তার ঈমান থাকবে না। সেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আমাদেরকে পড়তে বলেছেন যা আমরা সূর্য উদয়ের আগে দুই রাকাত ফরজ নামাজ পড়ে থাকি এর সাথে দুই রাকাত সুন্নত নামাজ পড়ে থাকে। এরপর যখন বারোটা পার হয় তখন যোহরের নামাজের ওয়াক্ত শুরু হয় সেই সময় আমরা প্রথমের চার রাকাত সুন্নত নামাজ পড়ে থাকি। এরপর চার রাকাত ফরজ নামাজ পড়ে থাকি এরপর দুই রাকাত সুন্নত নামাজ পড়ি। এরপর যখন সূর্য দুই মানুষ হেরে যায়। তখন আমরা আসরের নামাজ পড়ি আসরের নামাজ চার রাকাত ফরজ নামাজ শুরু। এছাড়াও এই নামাজ পড়ার আগে চার রাকাত সুন্নতে সাজিদা পড়লে লাভ হবে না পড়লে ক্ষতি নেই এমন সুন্নত নামাজ রয়েছে। এরপর যখন বেলা ডোবার পর আমরা তিন রাকাত ফরজ নামাজ অর্থাৎ মাগরিবের নামাজ পড়ে থাকি এই মাগরিবের নামাজের পরে আমরা দুই রাকাত সুন্নত নামাজ পড়ি। এরপর আমরা রাত বেশি হলে এশার নামাজ অর্থাৎ চার রাকাত ফরজ নামাজ এবং দুই রাকাত সুন্নত নামাজ এবং তিন রাকাত ওয়াজিব অর্থাৎ বেতের নামাজ পড়ি। এরপরে আর আমাদের কোন ফরজ নামাজ নেই সকাল পর্যন্ত।

 

এখন কথা হলো যে এই যে আমরা দৈনিক ১৭ রাকাত ফরজ নামাজ পড়ি এর সাথে ১২ রাকাত সুন্নত নামাজ পড়ি। এছাড়াও আরো কিছু নামাজ রয়েছে যেমন ফজরের নামাজ পড়ে বেলা উঠার পর দুই রাকাত ইসরাকের নামাজ অর্থাৎ নফল নামাজ পড়ে থাকে এরপর ওর সাথে আরো দুই রাকাত পড়লে সারা দিনের জুম্মা মহান আল্লাহ তায়ালা নিয়ে নিবে বিদায় আরো দুই রাকাত চার রাকাত ইশরাকের নামাজ আমাদের পড়তে হয়। এই নামাজটা অতিরিক্ত নামাজ। এছাড়াও নয়টার পরে অর্থাৎ ৯ টা থেকে দশটা এর ভিতরে চাস্ট নামাজ পড়তে হয়।এছাড়াও মাগরিবের পর ছয় রাকাত নামাজ পড়তে হয়। এরপর যখন রাতে আমরা এক প্রকার নামাজ পড়ি যে নামাজটা হল নফল নামাজ যা কিয়ামুল লাইন বলে কোরআনে উল্লেখ রয়েছে এছাড়া আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর হাদিসের মধ্যে তাহা তাহাজ্জুতের নামাজ হিসেবে উল্লেখ করা আছে।

 

এই নামাজগুলো পড়তে হলে আমাদেরকে প্রথমে পবিত্র হতে হয় অজু করতে হয় যদি শীতের দিন হয় তাহলে অনেক কষ্ট হয় এরপর আমাদের নামাজগুলো পড়তে হয় এই নামাজ পড়ার জন্য অনেক কষ্ট হয়। এই নামাজগুলো পড়তে যে কষ্ট হয় সে কষ্ট হল ইবাদত বন্দেগীর করতে যে কষ্ট। এ ছাড়া আমাদেরকে যাকাত দিতে হয় যাকাত হিসাব করে সম্পদের হিসাব করে এই যাকাত দিতে হয় যা নিজের অর্থ অন্যকে দান করতে হয় ধর্মীয় অনুভূতির সামনে রেখে এটা অনেক কষ্টের। এছাড়া আমাদের প্রতিবছর একমাস অর্থাৎ রমজান মাসে ৩০ টি রোজা রাখতে হয় এটাও আমাদের অনেক কষ্ট হয় এই কষ্টের অনেকে ধৈর্য ধারণ করে আবার অনেকে ধৈর্য হারিয়ে ফেলে অর্থাৎ রোজা রাখেনা। এছাড়া আরেকটি ইবাদত রয়েছে যা আর্থিক এবং শারীরিক উভয়েই প্রয়োজন হয় সেটা হলো আজ হজ করতে অর্থ লাগে এবং শারীরিক পরিশ্রম লাগে এটা অনেক কষ্ট হয় যেমন বর্তমানে একজন হাজী হজ করতে প্রায় ৫ লক্ষ থেকে সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা খরচ হয় এত টাকা অনেকে খরচ করতে চায়না এবং হজ করতে পারে না আবার অনেকেই কষ্ট করে ধৈর্য ধারণ করে থাকে। এক কথায় বলা যায় আমাদের প্রতিটি ইবাদত বন্দেগী করতে যে পরিমাণ কষ্ট মোজাহাদা প্রয়োজন হয় সেটা হল ইবাদতের কষ্ট।

 

দুই নাম্বার ধৈর্যধারণ। দুই নাম্বার ধৈর্য ধারণ হলো আমাদের কে মহান আল্লাহতালা চঞ্চল করে সৃষ্টি করেছেন এবং আমাদেরকে দি প্রদান করেছেন এই রূপগুলো আর কিছু ভালো রিপোর্ট হয়েছে কিছু খারাপ রিপোর্ট হয়েছে মন চায় অন্যায় করতে মন চায় আরাম করতে মন চায় আয়েশ করতে মন চায় বিভিন্ন প্রকার পাপ করতে আর সেই পাপ হতে নিজেকে দমন করা নিজেকে রক্ষা করা এটা অনেক বড় ধৈর্যের ব্যাপার। আমি যখন আমার ভেতর রিপুগুলো দমন করতে পারব অর্থাৎ আমার নিয়ন্ত্রণাধীন রাখতে পারব তখন আমি সমস্ত পাপ কাজ হতে নিজেকে হেফাজতে রাখতে পারব আর যদি এই রিপোর্টগুলোর অনুসরণ আমি করি তবে পাপে পাপে নিমজ্জিত হব এবং আমার কপালে দুঃখ আর দুঃখ থাকবে।

 

এরপর আসে আমাদের দুনিয়ার জিন্দেগীতে স্ত্রী পুত্র পরিবার মা-বাবা আত্মীয়-স্বজন পাড়া পড়শী সহকর্মে সবার সাথে আমাদেরকে একসাথে চলতে হয় কাজ করতে হয় লেনদেন করতে হয় ওঠাবসা করতে হয় কথাবার্তা বলতে হয় ইত্যাদি আর এ সমস্ত কার্যকলাপ চালাতে গিয়ে অনেকে অনেক ধরনের কথা বলে থাকে অনেক ধরনের গালিগালাজ করে থাকে অনেক ধরনের অন্যায় করে থাকে অনেক ধরনের বিপদে ফেলে আর সেই সমস্ত বিষয়গুলো ধৈর্যের সহিত মোকাবেলা করা সর্বশে��� ধৈর্যধারণের আওতায় পড়ে।

 

আমরা অধিকাংশ মানুষ বুঝে থাকি বা জেনে থাকি যে আমার দুনিয়ার জিন্দেগীতে চলার পথে যে সমস্ত বিষয় ধৈর্য ধারণ করি এগুলো হলো ধৈর্যধারণের ক্ষেত্রে বা বিষয় আসলে তা নয় কারণ এই দুনিয়ার জিন্দেগীতে চলার জন্য ধৈর্যের ধরতে হয় ধৈর্যের পরিচয় দিতে হয় সেগুলো আসলে তৃতীয় প্রকার ধৈর্য এর সামিল। তাই আমাদের প্রথম প্রকার ধৈর্য আগে ধারণ করার জন্য প্রচেষ্টা চালাতে হবে এরপর দ্বিতীয় প্রকার ধৈর্যকে ধারণ করতে হবে এরপর তৃতীয় প্রকার ধৈর্য অবলম্বন করতে হবে। তবে আমরা একজন ধৈর্যশীল মানুষ হবো এবং ধৈর্যশীল মানুষ সবসময় সফলতার শিকড়ে পৌঁছে থাকে তার সফলতা আসবেই আসবে।

 

আসুন আমরা ধৈর্য ধরি ধৈর্যশিক্ষা করি এবং ধৈর্যের প্র্যাকটিস করি এবং ধৈর্য্য ধারণ করার অদম্য সাহস করে তুলি তাহলে আমি অবশ্যই সাফল্য চরম শিখরে পৌঁছে যেতে পারবো মহান আল্লাহতালা খুশি হবেন আমার প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ শাফায়েত করবেন আমাকে মহান আল্লাহতালা খুশি হয়ে তার অনাবিল সুখ শান্তির জায়গা জান্নাত দান করবেন আমীন ছুম্মা আমীন।

Comments

emran1985
support please