ডিজিটাল ছবি এবং ডিজিটাল ক্যামেরার পিছনের ইতিহাস

alim236

 বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

 আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

 

সম্মানিত আজকে আমি ক্যামেরায় ছবি তোলা এর ইতিহাস আপনাদের সাথে শেয়ার করব এবং আপনাদের সকলকে স্বাগতম।

 

খোলা কত রকমের যে রং ব্যবহার করা হয় ঠিক তেমনি ভাবে কি ছবি তুলতেও কি এবং গুলো ব্যবহার করা হয়?প্রথম ছবি যেভাবে তোলা হয়েছিল, তার চিত্র কিন্তু অন্য কথা বলে।

এই নিজের ছবি তুলে ফ্রেমে বন্দী করে রাখা আগের দিনে একমাত্র রাজা-বাদশাদের পক্ষে সম্ভব ছিল।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আগের দিনে রাজা-বাদশারা তাদের ছবিগুলো সাধারণত পোর্ট্রেইট আর্টিস্টদের দ্বারা তাদের তুলিতে ফুটিয়ে তুলানো হত। কিন্তু বর্তমানে আমরা এমন একটা প্রযুক্তির যুগে প্রবেশ করেছি যেখানে এই ছবি তোলা মুড়িমুড়কির মতো নিজের ছবি তুলিতেছি এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে ছবিগুলো ছরিয়ে দিচ্ছি। বর্তমানে আমাদের ছবি তোলার এই আধুনিক প্রযুক্তি এ পর্যায়ে পৌঁছাতে অনেকগুলো ধাপ পার হতে হয়েছে। বর্তমানে ডিজিটাল ছবি আগে ছিল কোড্যাক্রোম পদ্ধতিতে রঙ্গীন ছবি, তার আগে ছিল জেলাটিন পদ্ধতিতে ছোট নেগেটিভ থেকে পাওয়া সাদা-কালো ছবি, তার আগে ছিল প্ল্যাটিনাম প্রিন্ট, ডিমের সাদা দিয়ে প্রিন্ট, ইত্যাদি ইত্যাদি।

এই ছবি তোলার ইতিহাসের যদি আমি পিছনে গেলে এক সময় আসবে ড্যাগেরোটাইপ। ফরাসী আর্টিস্ট Louis Daguerre এই বিজ্ঞানী তার এক অভিনব পদ্ধতিতে একটি প্লেটের উপর ম্যাজিকের মত ছবি বন্দি হয়ে যেত সেই ড্যাগেরোটাইপ নতুন করে আজ পৃথিবীতে ফটোগ্রাফিক বৈজ্ঞানিকদের উৎসাহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ড্যাগেরোটাইপ কি? ড্যাগেরোটাইপ কি জানার আগে আমরা ছবি তোলার বিষয়টা একটু জেনে নেই। ছবি তোলার পিছনে দুটি বিষয় কাজ করে থাকে। যার ছবি তুলছি, তার থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে একটা পর্দার ওপর গিয়ে পড়বে। সামনের বস্তু থেকে প্রতিফলিত আলো গিয়েই পড়বে, চারিপাশের অন্যান্য আলো সেখানে ঢুকতে পারে না। দ্বিতীয়ত, আলো-টা সেই পর্দার ওপর একটা স্থায়ী ছায়ার ছাপ ফেলে।

 

ড্যাগেরোটাইপঃ- একটা বাক্সে আলপিন-সাইজের একটা ছিদ্র করে দৃশ্যের দিকে সেই বাক্সটাকে তাক করা হয়। সরল পথে চলা আলো দৃশ্য থেকে, প্রতিফলিত আলো বাক্সের ফুটো দিয়ে ঢুকে উল্টো দিকে অর্থাৎ বাক্সের পিছনের দেয়ালে সেই দৃশ্যের প্রতিচ্ছবি সৃষ্টি করে। সেই প্রতিচ্ছবি অবিকল সামনের দৃশ্যের মতোই হয়,শুধুমাত্র উল্টে দেওয়া হয়। অর্থাৎ মানুষ হলে, মাথা নিচে, পা উপরে। এই ক্যামেরার সাফল্যের জন্য পারিপার্শ্বিক আলোকে যতটা সম্ভব ঢুকতে না দেওয়া যায় ততোই ভালো কারণ সেই আলো বাক্সের দুধারের দেয়ালে প্রতিফলিত হয়ে পিছনের দেয়ালের ছবিটা মিশতে পারে।তাই চার পাশেআলো আটকাতে একটা কালো কাপড়ের ছাউনি দেওয়া হয় বাক্সটার ওপর কিন্তু অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, ফুটোটা যেন না আটকে যায়।

একেই বলা হয় pinhole camera বা camera obscura)। এটাকে আমরা ক্যামেরা বলতে বুঝি কিন্তু এখানে ছবির কোন স্থায়িত্ব নেই এটা শুধু ছবি অঙ্কনের ক্ষেত্রে শর্টকাট পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। এই পদ্ধতিকে চিটিং বলা খেতে পারে। এখানে আর্টিস্টরা চোখে দেখে ছবি না একে শুধু ক্যামেরা অবসকিউরা-র পর্দায় যে ছবি পড়ে। তখন সেখানে ঘাপটি মেরে বসে থাকা আর্টিস্টরা ওই ছবির উপরে পেন্সিল দিয়ে সেটা সাইজ করে ছবি তৈরি করে থাকেন এবং ছবিটি দেওয়ালে পাকাপোক্ত হয়ে অঙ্কিত হলো।

এটা হলো লুই ড্যাগের ও তাঁর কিছু শিষ্যদের কেরামতি।এমন এক প্লেট বানালেন যাতে সরাসরি সামনের দৃশ্য স্থায়ীভাবে বন্দী হয়ে যায়। একেই বলে ড্যাগেরোটাইপ।

কি আরো ছবি তোলার ইতিহাস দ্বিতীয় অংশে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ। 

 

আল্লাহ হাফেজ

Comments