বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহু।
প্রিয় সাথী বৃন্দ, আজকে আমি একটি অতি আলোচিত সমালোচিত ঘটনার নিয়ে কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই এই পোস্টে আপনাদের সকলকে স্বাগতম এবং অভিনন্দন।
ইসলাম একটি শান্তির ধর্ম। ইসলাম হলো সত্য ধর্ম। যে ধর্মটি সরাসরি মহান আল্লাহতালা এই দুনিয়াতে পাঠাইয়াছেন। ইসলাম হলো আল্লাহর মনোনীত ধর্ম। এ ধর্ম কখনোই যুদ্ধ চায়না শান্তি চায়। এ ধর্ম কখনো হাঙ্গামা চায়না শান্তির পথ বেছে নেয়। এই ধর্মকে মহান আল্লাহতালা সরাসরি মনোনীত ধর্ম বলে অভিহিত করেছেন। একমাত্র ইসলাম ধর্মে আকাশ থেকে নেমে এসেছে অর্থাৎ মহান আল্লাহ তা'আলা এই একটি মাত্র ধর্ম পৃথিবী শুরু থেকে কেয়ামত পর্যন্ত জারি রাখবেন। এই ধর্মে মানুষের মানবীয় যত গুণ রয়েছে সব গুণী এই ধর্ম শিক্ষা দেয়। এই ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ হল পবিত্র কুরআন অর্থাৎ কুরআনুল কারীম। এই পবিত্র ধর্মগ্রন্থে পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান সুন্দরভাবে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। এই পবিত্র কোরআনের সরাসরি লেখক মহান আল্লাহ তায়ালা তারই বাণী সমূহ দিয়ে এই কোরআন লেখা হয়েছে। মহান আল্লাহ তা'আলা যাই বলেছেন যাই নির্দেশ দিয়েছেন যেভাবে বলেছেন যাই করতে বলেছেন তাই প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের আদর্শ দিয়ে এই কোরআনকে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই কোরআনের ছাত্র হলো প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম এবং প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষক সরাসরি আল্লাহ তা'আলা। মাঝে বার্তা বাহক ছিলেন জিব্রাইল আলাই সালাম নামক একজন ফেরেশতা।
মহান আল্লাহ তা'আলা নিজেই বলেছেন এই পবিত্র কুরআনুল কারীম রাক্ষার দায়িত্ব একমাত্র আমার। অর্থাৎ এই পৃথিবীর বুকে কুরআনুল কারীমের হেফাজত একমাত্র আল্লাহ তালাই করবেন। এই কুরআনুল কারিমের পৃথিবীতে বিশুদ্ধতা রক্ষার দায়িত্ব টিকে রাখার দায়িত্ব সবকিছু দায়িত্বে একমাত্র আল্লাহ তাআলার। তাইতো এই পবিত্র কুরআনুল কারীম পৃথিবীর বুকে টিকে থাকার অন্যতম একটি উদাহরণ হল হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ মানুষের দিলের মধ্যে এই কোরআন উল কারিম মুখস্ত রয়েছে। পৃথি���ীর বুকে যদি পবিত্র কুরআনুল কারীমের সব পান্ডুলিপি পুড়িয়ে ফেলা হয় নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয় মাটিতে পুঁটিয়ে ফেলা হয় তবুও এই কোরআনুল কারীমকে পৃথিবীর বুক থেকে নিচর্ণ করতে পারবে না কেহই। যতবার বাহাদুর হোক যত বড় ক্ষমতাধর হোক যত সংখ্যাগরিষ্ঠতা হোক কেউ এই কুরআনুল কারীমকে পৃথিবীর মানচিত্র বা পৃথিবীর বুক থেকে ধ্বংস করে দিতে পারবে না। পৃথিবীর সমস্ত পান্ডুলিপি যদি পুড়িয়ে ফেলা হয় কোরআনের সবগুলো কপি যদি জ্বালিয়ে দেওয়া হয় পানিতে ফেলে দেওয়া হয় তবুও হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ হাফেজের অন্তরে এই কোরআন সংরক্ষিত রয়েছে আর এটা সংরক্ষণ করে রেখেছেন একমাত্র মহান আল্লাহ তা'আলা। আল্লাহ নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন কোরআনকে নিজুন্ন করা দূরের কথা কোরানের একটি আয়াত বা একটি নোক্তা ব্যক্তি হরফকেও যদি কেউ পরিবর্তন করতে পারে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। চ্যালেঞ্জ করার পরেও মহান আল্লাহতালা বলেছেন এটা কখনোই তোমরা পারবেনা কারণ এই কোরআন উল কারিমের রক্ষার দায়িত্ব রক্ষক একমাত্র আমি আল্লাহ।
পৃথিবীর বুকে বহু দেশ বহু কাফির জাতি এই পবিত্র কুরআনুল কারিমের অবমাননা অনেক ভাবেই করেছে। যেমন ফ্রান্স করেছিল ইসরাইল করেছিল সর্বশেষ সুইডেন কয়েকবার করেছে এবং গত ভিডিওতেও করেছে দেখতে পেলাম। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে কোরআনের কপিগুলো ছিড়ে ছিড়ে রাস্তায় ফেলে দিচ্ছে পায়ের নিচে পিষ্ট করছে এবং কোরআনের অবশিষ্ট অংশের উপর দাঁড়িয়ে আছে। এছাড়াও এই কোরআনের কপি কতজন আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিচ্ছে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এগুলো যাই করুক না কেন এটা কোরআনের বিন্দুমাত্র সম্মান ক্ষুন্ন হবে না কারণ তারা তো কোরআনের সম্মানে বোঝেনা। তারা তো কুরআন কি জিনিস কোরআনের কি মর্যাদা এগুলো বোঝে না। এই পবিত্র কোরআন মহান আল্লাহ তায়ালা এই পৃথিবীর বুকে উজ্জ্বল করেই রাখবেন। তবে আমরা স্বাভাবিকভাবে মনে করি অন্য যত ধর্মগ্রন্থে থাকুক না কেন সবার প্রতি আমাদের মুসলমানদের শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে এবং থাকবে। আমরা কোন ধর্মকে কোন ধর্মগ্রন্থকে কখনোই অবজ্ঞার চোখে দেখি না। যদিও সেগুলো আল্লাহর মনোনীত ধর্ম গ্রন্থ বা ধর্ম নয়।
মুসলিম জাতি যে শ্রেষ্ঠ জাতি এবং শান্তির ধর্ম যে ইসলাম এবং সত্য ধর্মগ্রন্থ কোরআনুল কারীম তার প্রমাণ হলো আমরা অন্য কোন ধর্মের গ্রন্থ ধর্মের লোকের বা ধর্মকে আমরা কখনোই অবজ্ঞার চোখে দেখি না অবমূল্যায়ন করি না। আর এই শিক্ষা মহান আল্লাহতালা কুরআনুল কারিমের মাধ্যমে আমাদেরকে শিখাইয়া দিয়েছেন।
তাদের প্রতি ধিক্কার জানাই তাদের প্রতি আল্লাহর কাছে বিচার দেই যারা আমাদের এই পবিত্র ধর্মগ্রন্থকে ছিড়ে ছিড়ে রাস্তায় ফেলে দিচ্ছে পা দ্বারা পৃষ্ঠ করছে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিচ্ছে কোরআনের উপর প্রসাব করে দিচ্ছে এবং কোরআনকে অবমাননা করছে তাদের বিচার যেন মহান আল্লাহতালা একদিন করে। এই ভিসার আমরা মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে দিয়ে দিলাম। হে আল্লাহ যে ব্যক্তিরা যে জাতিরা যে গোষ্ঠীরা যে দেশগুলো আমাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআনুল কারীমকে বিভিন্নভাবে অবমূল্যায়ন অবজ্ঞা অবমাননা করছে হে আল্লাহ তুমি তাদের বিচার তোমার দরবারে করিও। তোমার দরবারে তাদের বিচারটা দিয়ে দিলাম। আমাদের ধর্মগ্রন্থ কোরানুল কারীম কে যারা জ্বালিয়ে দিচ্ছে পুড়িয়ে দিচ্ছে ছিঁড়ে ছিড়ে ফেলে দিচ্ছে পা দিয়ে পৃষ্ঠ করছে প্রসাব করে দিচ্ছে আমি তাদের কাছে প্রশ্ন করি আপনাদেরকে এই ধর্ম এই কুরআনুল কারীম কি ক্ষতি করেছি কি অন্যায় করেছে কি অপরাধ করেছে? কই আমাদের ধর্ম তো কাউকে বিনা দোষে আঘাত করে না কারো ধর্মকে অবমাননা করে না। আপনারা কেন করছেন এমন কাজ আপনার কি চিরদিন পৃথিবীতে বেঁচে থাকবেন না কখনোই থাকতে পারবেন না একদিন না একদিন আপনাদেরকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতেই হবে এবং একদিন না একদিন হাশরের ময়দানে আপনাদের কেউ দাঁড় করতে হবে সেই দিন মহান আল্লাহতালা আপনাদের জবাব চাইবেন এবং সুন্দর সঠিক বিচার সেদিন আপনাদের করে দিবেন। সেই দিনের অপেক্ষায় রইলাম আজকের মত এখানেই শেষ করছি আল্লাহ হাফেজ।


