আল্লাহ কোরআনে মশা সম্পর্কে কিছু বিস্ময়কর তথ্য দিয়েছেন তা আমরা জেনে নেই।

alim236

পাট ১

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

আসসালামু আলাইকুম রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। প্রিয় সাথীবৃন্দু আশা করি মহান আল্লাহ তাআলার মেহেরবাণীতে আপনারা সবাই ভাল আছেন সুস্থ আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে খুব ভালো আছি। 

প্রিয় সাথী সাথীবৃন্দু আল্লাহতালা কোরআনুল কারিমে সুরা বাকারার 26 নাম্বার আয়াতে আল্লাহতালা মশা সম্পর্কে বিশেষ কিছু তথ্য আমাদেরকে দিয়েছেন। তা এখন আপনাদের সামনে পেশ করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।

 

সুরা নামল এর ২৬নাম্বার আয়াতে সাতটি বিশেষ দিক এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যথা, ১. মশার সৃষ্টির মধ্যেও কিয়ামত পর্যন্ত আনেওয়ালা সকল মানুষের জন্য আল্লাহর অনেক নিদর্শন রেখেছেন। 2. মশার চেয়েও ক্ষুদ্র সৃষ্টি এই পৃথিবীতে রয়েছে। 3. বিশ্বাসীরাই কোরআনের বর্ণিত বিষয়সমূহ সঠিক হিসেবে বিশ্বাস করে। 4.অবিশ্বাসীরা কোন কিছুতেই আল্লাহর নিদর্শন বুঝতে পারেনা। 5. এরকম নিদর্শন মানুষের জন্য সঠিক পথের দিশা হতে পারে 6.আবার অনেককে বিপথগামীও করতে পারে। 7. অসৎ ব্যক্তিদের আল্লাহতালা কখনো সঠিক পথ দেখান না। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে কোরআন যে তথ্য প্রায় সাড়ে চৌদ্দশত বছর আগে মানব জাতিকে দিয়েছেন তা আধুনিক বিজ্ঞান দ্বারা প্রমাণিত হওয়াই শুধু কুরআনের বিশুদ্ধ তা নয় বরং কোরআন যে একটি জীবন্ত প্রমাণিত গ্রন্থ তা ইতিমধ্যেই বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন অর্থাৎ প্রমাণিত হয়েছে । 

প্রথমে গঠনগত কারণে মশার সৃষ্টি অন্য যে কোন প্রাণী থেকে স্বতন্ত্র, এমনকি অন্যান্য উড়ন্ত পক্ষীকুল থেকেও অনেকগুলো কারণে ভিন্ন।

 

 দ্বিতীয় কোরআনে ব্যবহৃত শব্দ বাউদা মূলত স্ত্রীবাচক শব্দ যা স্ত্রী মশাকে বোঝায় এবং আধুনিক বিজ্ঞান ইতিমধ্যে এটি প্রমাণ করেছে যে শুধু স্ত্রী মশা মানুষের রক্ত খায়। তারা এই রক্ত ক্ষুধার নিবারণের জন্য খায় না। শুধু ডিমের নিউট্রিশন এর প্রয়োজন পূরণ করার জন্য। 

তৃতীয় ইঙ্গিত হল মশার মশার চেয়েও ক্ষুদ্র প্রাণী রয়েছে যারা তাদের উপর প্রভাব বিস্তার করে এবং তাদের দেহ থেকে রক্ত খেয়ে থাকে। আশ্চর্যের বিষয় যে ১৯২২ সালে প্রথম বিজ্ঞানী f.w. adward's তার গবেষণাপত্রে দাবি করেন দক্ষিণ এশিয়ার মালয় অঞ্চলে এমন এক ধরনের পতঙ্গ পাওয়া গেছে যা মশা থেকে রক্ত খায় এই প্রাণীটির নাম দিয়েছেন কুলিকোইডস অ্যানোফিলিস। 

আধুনিক বিশ্বে মশা এবং মশা দ্বারা সংক্রমিত রোগ নিয়ে বিশ্ববাসী হিমশিম খাচ্ছে ।

মশা নিয়ে কোরআন একটি ঘটনা আপনাদেরকে মনে করিয়ে দিতে চাই যে নমরুদ নাস্তিককে আল্লাহতালা শিক্ষা দিয়েছিলেন এই মশা দ্বারা। মশার বাহিনীর আক্রমণে নমরুদের বাহিনী ধ্বংস হয়েছিল এবং নমরুদের মৃত্যু এই মশার কারণে হয়েছিল। 

বর্তমানে বিচার বহির্ভূত হত্যা, নিরপরাধ মানুষকে হত্যা, পাপের প্রসারতা, মদ ও মাদকদ্রব্যের ব্যাপকতা হারামকে হালাল করার প্রবণতা, দুর্নীতি বৃদ্ধি, ন্যায় বিচার ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি অনীহা, আরো অন্যান্য কারণ বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী প্রকৃত রহস্য ও উদ্দেশ্য একমাত্র আল্লাহ তা'আলা জানেন এবং এর মধ্যে মশার বাহিনী ব্যবহার যেমন ডেঙ্গু জ্বর ডেঙ্গুজ্বর কে মোকাবিলা করার জন্য কি পরিমান সমস্যা হচ্ছে তা বিশ্বের ভুক্তভোগী মানুষগুলোই আজ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে তাই আমাদের উপরোক্ত অপরাধগুলো থেকে সম্পূর্ণ ভাবে নিজে বিরত থাকতে হবে, নিজের পরিবারকে বিরত রাখতে হবে এবং সমাজকে বিরত রাখার চেষ্টা করতে হবে এবং নিরাপত্তার জন্য দোয়া করা উচিত। নবী করিম ( সঃ) জানায়ছেন যে, ‘আল্লাহর পূর্ণ কালিমার মানার বিনিময়ে তাঁর সৃষ্টির যাবতীয় অনিষ্ট থেকে পরিত্রাণ চাচ্ছি’ (সুনানে আবু দাউদ, ৩৮৯৮ ও ৩৮৯৯)।

মশা সম্পর্কে আজকে এ পর্যন্তই। পোস্টটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ। সম্মানিত সাথী বৃন্দ আপনারা সবাই আল্লাহর মেহেরবানীতে ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন এই কামনায় বিদায় ।

আল্লাহ হাফেজ।

Comments