বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লাহ
সম্মানিত সাথী বৃন্দু আজকে আমরা যমুনা নদীর করাল গ্রাসে পতিত হওয়া এক দুঃখী মানুষের জীবন কাহিনীতে আপনাদের সবাইকে স্বাগতম।
নাম তার হারান ফরাজী। তিনি অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের লোক।তিনি তারাকান্দি গ্রামের সুনামধন্য ফারাজী গোত্রের লোক ছিলেন।
তিনি সেই গ্রামে সুখে শান্তিতে বসবাস করতে ছিলেন । তার তিন ছেলে এবং দুই মেয়ে। তার মধ্যে একটি ছেলে মানসিক প্রতিবন্ধী ছিল। তার সংসার খুব ভালই চলতেছিল। ইতিমধ্যে নিয়তির কি পরিহাস ১৯৮৮ সালের কথা। যমুনা নদী তখন ছিল ছোট এবং হুমকি স্বরূপ ছিল না। কিন্তু কালক্রমে ভারতীয় অতি বন্যার পানি যখন আমাদের দেশে দেন তখন আমাদের এঞই যমুনা নদী ভয়ঙ্কর রূপ নিয়ে থাকে। তখন নদী যেন আগ্রাসী মনোভাবের হয়ে যায় এবং দুই কুল কে ভেঙে চুরমার করে দেয়। তার স্রোতে সবকিছু যেন ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
সেই ১৯৮৮ সালে বন্যার মৌসুমে যমুনা নদী তার ভয়ঙ্কর রূপে আবির্ভূত হয় এবং এক রাতে তারাকান্দি গ্রাম ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায় ভাঙ্গার সময় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় যেন ঘর জিনিসপত্র ইত্যাদি তাড়াতাড়ি অন্যত্র স্থানান্তর করে ও সময় পাওয়া যাচ্ছে না নদী যেন সবকিছু গ্রাস করতে চাচ্ছে। ফারহান ফরাজী তার ছেলে মেয়ে ছোট ছিল এদিকে ছেলেমেয়ে নিয়ে ওদিকে বাড়িঘর নিয়ে সে বিপাকে পড়ে যায় এবং অনেক কষ্টে সে ঘরবাড়ি জিনিসপত্র সন্তান-সন্ততি সভা কে নিয়ে অন্য ঠিকানার জন্য অন্যত্র রওনা হয়।এই গ্রামের অনেক শিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত পরিবার ছিল। বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন জায়গায় তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অত্র কাজিপুরের মধ্যে এই গ্রামটি ছিল শিক্ষিতর হার সবচেয়ে বেশি। এই গ্রামে অনেক নামিদামি লোকজন আগেও ছিল, এখনো বর্তমান আছে। যাহোক আমি সেদিকে যাব না। সেই রাতে হারান ফারাজী এর জায়গা জমি বসত ভিটা সব কিছু নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
তখন তারা নদীর পশ্চিম পাড়ে এসে আশ্রয় নেয়। ওবদার বাঁধের পাশে অবস্থান নেয় এবং মানবেতর জীবন-যাপন করতে থাকে ।
তারপর তারা অত্যন্ত দৃঢ়তার সহিত জীবন যুদ্ধে নেমে পড়ে এবং তার ছেলে মেয়েকে স্কুলে দিতে পারে নাই। যাই বা দিয়েছিল অল্প কিছু পড়াশোনা করার পরেই তাদের ছেলে-মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। হারান ফারাজী নয় এরকম হাজার হাজার হারান ফরাজীর বাড়িঘর জমিজমা সব কিছু এই ভয়ঙ্কর যমুনা নদীর করাল গ্রাসে পতিত হয়েছে। কত মানুষ যে ঘর ছেড়েছে, কত মানুষ যে দেশ ছেড়েছে, কত মানুষ যে দুঃখে জীবন যাপন করেছে, কত মানুষ যে মানবেতর জীবন। তা বাস্তবে না দেখলে এটা বোঝানো অসম্ভব প্রায়।প্রায় তিন দশক পার হওয়ার পর বর্তমানে এই যমুনা নদীকে শাসন শুরু করেছে সরকার এবং এই বার ইহারা ঘর হারা জমি হারা সর্বহারা সমস্ত মানুষের মুখে হাসি ফুটতে শুরু করেছে এবং তারা আবার স্বপ্নের দানা বাধতে শুরু করেছে, যেন তারা তাদের নিজ নিজ গ্রামে আবার ঘর বাড়ি তৈরি করতে পারে এবং বাপ-দাদার সম্পত্তি আবার আবাদ করতে পারে এবং তাদের দুঃখের জীবন যেন এখন সুখের জীবনে পরিণত হতে যাচ্ছে।
তাই যার কথা বলতে ছিলাম সেই হারান ফারাজী এর জমি অনেক। সে এখন বৃদ্ধ প্রায় সে যদি নাও পারে তার ছেলে মেয়েরা আবার বাপ-দাদার সম্পত্তি হয় তো আবার আবাদ করতে পারে। প্রকৃতির অভিশাপে যমুনা নদী আজ সরকার শাসন করতে শুরু করেছে এবং কাজও শুরু হয়ে গেছে আর মনে হয় না যে সে আর মানুষের দুঃখের কারণ হতে পারবে না।
আল্লাহ হাফেজ


