"মৃত্যুর সময় ধ্রুবক"

alim236

         বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

প্রিয় সাথী বৃন্দু আজকে আমি শিক্ষামূলক একটি গল্প তুলে ধরব আপনাদের সামনে। পোস্টটি আপনাদের সকলকে স্বাগতম।

কোন এক রাজ্যের মহাপরাক্রমশালী রাজা, তার ছিল বিপুল অর্থকরী, ধন-সম্পদ ও বেহিসাব সেনাবাহিনী, চাকর-নকর এবং হাতি-ঘোড়া, সমৃদ্ধ জাঁকজমকপূর্ণ এক অধিপতি। রাজা কোন এক সময় রাজ প্রাসাদের বাইরে গমন করার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করলেন। রাজা বাহির হওয়ার কথা মুখে আনতে না আনতেই উজির-নাজির সমস্ত সভাসদগণ রাজার জন্য বেশ কিছু মূল্যবান পোশাক-পরিচ্ছেদ অর্থাৎ যাত্রাপথে যা লাগে সব প্রস্তুত করে দিল। কিন্তু উজির-নাজির এর প্রস্তুতি রাজার মনঃপুত হল না। তাই তারা তার অপেক্ষা আরো অধিক মহামূল্যবান হীরা-জহরত ও যাত্রা জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক-পরিচ্ছেদ এনে আবার জমা করল এবং পূর্বের চেয়েও আরও অধিক জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক-আশাক হীরা জহরত চৌকস ঘোড়া ইত্যাদি রাজার সামনে এনে হাজির করা হল। রাজা নিজে বাছাইকৃত আরো একশত অশ্ব সহ তিনি রাজদরবার হতে বের হলেন এবং যাত্রা শুরু করলেন। এরকম জাঁকজমকপূর্ণ রাজকীয় বহরের আয়োজন দেখে রাজার ভিতর এবং বাহির গত ভাবে ফুলে-ফেপে উঠতে লাগল। তিনি মনে করলেন তার মতো ক্ষমতাবান শক্তিশালী এবং প্রশংসনীয় আর দ্বিতীয়টি নেই। তখন সে সাধারন গরিব প্রজাদের প্রতি নজর করতো তার অহংকার, অহমিকা এবং ঘৃণা হতে শুরু করল। যাত্রা শুরু হলো এমন সময় তার সামনে সাধারণ গরিব প্রজাদের মতো দীনহীন, ময়লাযুক্ত ছেরা পোশাক পড়া এক লোক দেহরক্ষীদের বাধা দেওয়ার আগেই নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করে রাজার সামনে আগমন করে, অত্যন্ত বিনয় এবং নম্রতা'র সহিত সালাম দিলেন। অহংকারী রাজা একবার মাত্র তার দিকে দৃষ্টিপাত করে মুখ ঘুরিয়ে নিলেন এবং সালামের উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করলেন না। একটু সামনে আগায়ে ঘোড়ার লাগাম টেনে ধরলেন। এতে রাজা ভীষণ তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠে গরিব লোকের দিকে রাগান্বিত চোখের দৃষ্টিপাত করে বললেন বেয়াদব তোমার এত বড় সাহস তুমি আমার ঘোড়ার লাগাম টেনে ধরে আমার যাত্রা পথের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার দুঃসাহস তুমি কোথায় পেলে? যদি নিজের ভাল চাও, তবে লাগাম ছেড়ে দাও এবং প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করো না এখনই তোমার গর্দান উড়িয়ে দেব। জীর্ণশীর্ণ সাধারণ লোকটি নিচু স্বরে রাজাকে বললেন মহারাজ আপনার কাছে বিশেষ দরকার নিয়ে এসেছি । দয়াকরে যাত্রা বন্ধ করে আমার কথাগুলো শুনুন। এরকম দীনহীন গরীব লোকটিকে তার মত পরাক্রমশালী রাজার চোখ রাঙ্গানি দেখে ভয় না পাওয়াতে মহারাজ একটু সুর নরম করলেন এবং বললেন আমি ঘোড়া হতে নেমে কথা শুনি। আগত লোকটি বললেন না, সে সময় আমার নেই। ওইখান থেকেই তুমি কানটা আমার মুখের দিকে লাগাও। তখন অহংকারী রাজা বললেন আচ্ছা তোমার বক্তব্য বলো। লোকটি অহংকারী রাজার কানে কানে বললেন আমি আজরাইল, এখনই তোমার প্রাণ হরণ করার জন্য আগমন করেছি। এ কথা শ্রবণ করে রাজার অন্তর কেঁপে উঠলো এবং মুখ বিবর্ণ হয়ে গেল বাকশক্তি বন্ধ হয়ে গেল এবং বলল আমাকে কিছু সময় দাও আমি স্ত্রী সন্তান পরিবার-পরিজন এর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আসি। আজরাইল বললো এক মুহূর্ত সময় তুমি পাবে না এ কথা বলে তার প্রাণ হরন করলো।

আসুন আমরা অহংকার ছেড়ে দেই, গৌরব ছেড়ে দেই, নিজের আমিত্বকে ধ্বংসকারি এবং প্রকৃত মানুষের মত মানুষ হওয়ার চেষ্টা করি।

আল্লাহ হাফেজ।

Comments