বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু
প্রিয় সম্মানিত সাথী বৃন্দু আজকে আমি অহংকারীকে চেনার উপায় এবং অহংকার করলে কি ক্ষতি হয় এবং আমরা কোন স্তরে আছি তা যৎসামান্য আলোচনা করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। আমার মধ্যে অহংকার নামক রোগ আছে কি নাই এবং থাকলে আমি কি পরিমান আছে সে বিষয়ে আলোচনা করা যাক।
1. অহংকারী ব্যক্তি সাধারণতপথ চলার সময় সবার আগে যেতে চায় বা যেতে ইচ্ছা করে।
2. যখন সে কথা বলে তখন সে শুধু নিজে কথা বলাই পছন্দ করে থাকে। অন্য কথা বলুক বা অন্য কিছু বলুক তাহা সে চায়না বা অন্যের কথা শুনতে ইচ্ছা করেনা।
3. মিছিল-মিটিং, মজলিশ বা সভার মধ্যেস্থলে বসার প্রেয়াসী হওয়া। সব সময় সে মাঝখানে আসন দখল করে বসার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায় বা বসতে ইচ্ছা করে।
4. নিজের কাজকর্ম চালচলন, উঠাবসা, কথাবার্তা ইত্যাদিকে অন্যের চেয়ে ভাল মনে করা এবং অন্য চালচলন কাজকর্ম, ওঠাবসা, কথাবার্তা ইত্যাদি মন্দ মনে করে বা মনে হয়।
5. নিজের সব কাজকর্ম কে ত্রুটিমুক্ত মনে করা এবং অন্য সব কাজকর্ম ত্রুটিযুক্ত মনে করা।
6. যদিও নিজের ত্রুটি হয় সেটা মামলী মনে করা এবং অন্যকে ত্রুটিকে অনেক বড় করে দেখা।
7. অন্যকে তুচ্ছ, তাচ্ছিল্য, ছোট এবং অবজ্ঞার চোখে দেখা আর নিজেকে বড় মনে করা, সম্মানিত মনে করা, প্রতাপশালী মনে করা
8. অন্য কেউ সালাম না করলে ক্রোধান্বিত হওয়া।
9. অন্যকে সালাম করা লজ্জার বিষয় মনে করা।
10.যদি কেউ উপদেশ দিলে ভ্রু-কুঞ্চিত করে এবং তা অবহেলা করা।
10. অন্যর সালাম পাওয়ার আশা করা এবং নিজে কাউকে সালাম না করার প্রবণতা।
11. গরিব-দুঃখী এতীম-মিসকীন কে মানুষ বলে মনে করে না অর্থাৎ ইতর প্রাণী ভাবতে থাকে।
অহংকারের ক্ষতি সমূহঃ অহংকার পতনের মূল, এই অহংকার করার একমাত্র অধিকার রাখে, মহান আল্লাহতায়ালা। অন্য কেউ অহংকার করার প্রশ্নই আসে না । আসুন আমরা অহংকার করলে কি ক্ষতি সমূহ হয়ে থাকে তা আমরা জেনে নেই।
1.বড়ত্ব বা অহংকার আল্লাহতালার বিশিষ্ট গুণ। এটি শুধু তার গুণাবলী। নিজেকে বড়ত্ব বা অহংকার মনে করা নিতান্তই বোকামি যার কারণে আল্লাহতালা নারাজ হন।
2. নিজের আত্মা একেবারে রুগ্ন হয়ে যায় ফলে তার মধ্যে বিবেক বুদ্ধি কমতে থাকে। ফলে তার মধ্যে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যায় আর সকল অপরাধ পাপের কাজ আর এই পাপ নিয়ে যায় জাহান্নামের দিকে।
3. অহংকারী ব্যক্তি কোন প্রকার সৎগুণ অর্জিত হয় না।
4. হিংসা ও ক্রোধে ভরপুর হয়ে যায় তার অন্তর।
5.কোন মুসলমানের প্রতি সাহায্য ও সহানুভূতি করার আগ্রহ একেবারে হারিয়ে ফেলে।
6. কারো উপদেশ গ্রহণ করার মন-মানসিকতা নষ্ট হয়ে যায়।
7.অহংকার নামক রোগ যদি ভিতরে থাকে তবে এই ব্যক্তি সর্ব সময় মন্দ কে প্রাধান্য দেয় এবং সত্যকে গোপন করতে থাকে এবং সত্যের প্রতি তার সমর্থন থাকে না ফলে ধীরে ধীরে সে লজ্জাহীনতা বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং সব সময় সে মানুষের নেগেটিভ সাইট গুলো কার কাছে ভাসমান হয়ে ওঠে এবং পজিটিভ সে চিন্তাই করতে পারে না।
8. তখন এই ব্যক্তি হয়ে ওঠে একজন অমানুষ তার দ্বারা, তার পরিবার, তার সমাজ, তার রাষ্ট্র, এবং সে যে যে ক্ষেত্রে যায় এবং কাজ করে, সে সব ক্ষেত্রে, সে একজন মন্দ মানুষ হিসেবে পরিচিত লাভ করতে থাকে।
তাই আসুন আমরা এই অহংকার নামক ঘৃণিত পাব হতে নিজের আত্মাকে বাঁচতে চেষ্টা করি এবং অপরকে বাঁচাতে চেষ্টায় ু করি।
আল্লাহ হাফেজ


