ডিজিটাল ছবি ও ডিজিটাল ক্যামেরার পিছনে ইতিহাস পর্ব 2

alim236

ডিজিটাল ছবি এবং ডিজিটাল ক্যামেরার পেছনের ইতিহাস

                           

                         পর্ব 2

 

          বিসমিল্লাহির রহমানীর রহিম

 

 আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

 

সম্মানিত সাথী বিন্দু আজকে আমি ডিজিটাল ছবি এবং ডিজিটাল ক্যামেরার পিছনে ইতিহাসের আলোচনার দ্বিতীয় পর্ব আপনাদের সাথে শেয়ার করবো ইনশা-আল্লাহ।

                         

   ছবি হলো আসলে রাসায়নিক বিক্রিয়া ফল।ভালো মানের ড্যাগেরোটাইপ তৈরী করা সেইসময় রীতিমতো দক্ষতার কঠিন ব্যাপার ছিল। ম্যানুয়াল পরেও যদি প্লেট বানানো হতো তবে স্পষ্ট ছবি আসবে কিনা তার কোন গ্যারান্টি ছিল না। তবে পদ্ধতিটা নথিভুক্ত করা আছে। তবে প্রথমে তামার প্লেটে রুপোর একটা স্তর পড়ে, সেটা প্রথমে আয়োডিন গ্যাস-এর সংস্পর্শে সিলভার আয়োডাইড তৈরী করে।

উৎপন্ন সিলভার আয়োডাইড স্তরটাকে ফটোসেনসিটিভ স্তর বলে। আলো যখন সিলভার আয়োডাইড এর উপর পড়লে তা ভেঙ্গে যায় এবং গুটলি গুটলি রুপো পড়ে থাকে। আলোটা যে পড়লো,তা বিক্রিয়ার মাধ্যমে ছাপ পড়ে যায় প্লেটের ওপর। এই প্রতিফলিত আলোকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রিত করতে হয় যাতে সামনেথেকে প্রতিপালিত আলোয় প্লেটের উপর গিয়ে পড়ে। আলো নিয়ন্ত্রণ করার পদ্ধতি কিন্তু আমরা আগেই আলোচনা করেছি সেটা হল ক্যামেরা অবসকিউরা-র বাক্সটা। যেদিকে ফুটো থাকে তার বিপরীত পার্শ্বে অর্থাৎ বিপরীত দিকে প্লেটটা বসানো হয় তাতেই হয়। এরকম ভাবেই ড্যাগেরোটাইপ প্লেটটা ক্যামেরা-র বাক্সে বসে সামনের দৃশ্যকে ধরে ফেলে। এই পদ্ধতিকে বলে এক্সপোজ। যখন প্রয়োজন মতো আলো প্রতিফলিত হল এবং ড্যাগেরোটাইপ প্লেট-এ গিয়ে পড়লো। অর্থাৎ এক্সপোজ করার পর ক্যামেরা-র ফুটো বন্ধ করে তারপর একটা অন্ধকার ঘরে প্লেটটাকে বাহির করা হয়। ওই প্লেটটা তে যে একটা ছবির ছাপ পড়েছে তা কিন্তু দেখতে পাওয়া যায় না অতঃপর এবার প্লেটটাকে গ্যাসীয় অবস্থায় মার্কারি বা পারদের সংস্পর্শে আনা হলে রুপোর গুটলিগুলোর ওপর গ্যাসীয় অবস্থার পারদ গিয়ে জাঁকিয়ে বসে শক্ত হয় এবং রুপো-পারদ মিশ্রণ তৈরী হয় ফলে ছবিটা স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যায় প্লেট-এর ওপর।

ড্যাগেরোটাইপ প্লেট-এর উপর নতুন করে আলো পড়লেও আর কোনোরকম রাসায়নিক বিক্রিয়া হয় না।প্লেটটাকে সোডিয়াম থায়োসালফেট দ্রবণে ডুবানো হয় ফলে পড়ে থাকা সিলভার আয়োডাইড ধুয়ে পরিষ্কার হয়ে যায়। এই প্রক্রিয়াকে বলে ফিক্সিং। এখন চূড়ান্তভাবে ছবিটাকে প্লেটে বন্দী করা হলো। সবশেষে ধাপে একটা সোনার পুরু স্তর বসানো হয় যাতে ছবিটা আরো স্পষ্ট দেখা যায়‌ এবং ছবিটা দীর্ঘস্থায়ী হয়।

 

বাকি আলোচনাটুকু শেষ করবে ইনশাআল্লাহ আপনাদের সামনে পেশ করব আজকে এই পর্যন্ত।

আল্লাহ হাফেজ।

Comments