দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবাদ একটি দেশের উন্নয়নের প্রধান বাধা।

alim236

দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবাদ একটি দেশের উন্নয়নের প্রধান বাধা।

 

প্রিয় সাথী বৃন্দ, আজকে আমি দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবাদ একটা দেশের উন্নয়নের কি পরিমান অন্তরায় হতে পারে সে সম্পর্কে কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করব, ইনশাআল্লাহ। আপনাদের সকলকে স্বাগতম এবং অভিনন্দন।

 

আমাদের বাংলাদেশ আমাদের এই দেশের শাসন ব্যবস্থা গণতান্ত্রিক। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা মানেই হল জনগণ শাসন ব্যবস্থার মূল উৎস। জনগণ যাকে ইচ্ছা করবে তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে ক্ষমতার মঞ্চে বসাতে পারবে। এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি দেখে যদি ভালো লাগে তাহলে পুনরায় আবার তাদেরকে নির্বাচিত করতে পারে এতে কোন প্রকার বাধা নেই। গণতান্ত্রিক পন্থায় একটা দেশ উন্নয়নে উন্নয়নের চরম শিখরে পৌঁছে যেতে পারে তার বাস্তব উদাহরণ বিশ্বের বুকে অনেক দেশ এখনও রোল মডেল হিসেবে রয়েছে। গণতান্ত্রিক দেশে জনগণ যেহেতু ক্ষমতার উৎস সেহেতু যারা শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করে যাদেরকে নির্বাচিত করা হয় তারা সব সময় একটা জবাবদিহিতার মধ্যে থাকে দেশের প্রত্যেকটি সেক্টরে যেন উন্নয়ন হয় এমনকি দুর্নীতি যেন না হয় কারণ উন্নয়ন দুর্নীতি যদি না হয় জনগণ তাদেরকে আর ক্ষমতায় থাকতে দিবে না। এইজন্য গণতান্ত্রিক দেশে উন্নয়নটা বেশি হয়ে থাকে।

 

কিন্তু আমাদের বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ হওয়া সত্বেও বর্তমানে যেসব রাজনৈতিক দল রয়েছে তারা অনুতান্ত্রিক ভাবে দেশের ক্ষমতায় থাকতে চাই এবং থাকার প্রচেষ্টা চালায় এবং বর্তমানে থাকিতেছে। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আমাদের একটি রাজনীতি দল এদেশের ক্ষমতার মঞ্চে বসে। তারা পাঁচটি বছর দেশ পরিচালনা করার পর তারা চেষ্টা করেছিল যে অগণতান্ত্রিক ভাবে এদেশের ক্ষমতায় থাকার জন্য। কিন্তু সেটা তারা বাস্তবায়নও করেছিল কিন্তু বাংলাদেশের জনগণের মুখে পড়ে মাত্র একদিন সংসদ মেয়াদ হওয়ার পরেই তারা ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল। এরপর আসে অন্য একটি দল যারা এখনো বর্তমানে বাংলাদেশের ক্ষমতায় বসে আছে। তারা দেশের শাসন ব্যবস্থা হাতে নিয়েছে এ পর্যন্ত তিনবার মেয়াদ পূর্ণ করল বা পূর্ণ করার পথে। তারা বিএনপির দেখানো পথেই অগ্রসর হয়েছে যে কিভাবে বাংলার ক্ষমতায় অগণতান্ত্রিকভাবে থাকা যায় তাই তারা বিএনপির দেখানো পথে হাঁটতেছিল এবং সেই পথে হাঁটিতেছে। অগণ তান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতায় থাকার জন্য তারা তত্ত্ববোধক সরকার অর্থাৎ নির্বাচনের সময়কালীন নিরপেক্ষ সরকার এর বিধান বাতিল করেছে। আর এই বিধান বাতিল করা তাদের পক্ষে খুবই সহজ কারণ তারা অতিরিক্ত সংখ্যা গরিষ্ঠতা লাভ করে সংসদে ক্ষমতায় বসেছে। তাই তারা তিন তিনবার নিজস্ব দলের নিজস্ব ক্ষমতার অধীনেই নির্বাচন করেছে এবং তারা জয়ী হয়েছে অর্থাৎ এটা লোক দেখানো একটা নির্বাচন কারণ এই নির্বাচনে জনগণের উপস্থিতি থাকলেও তারা এটা নিজস্ব কায়দায় তারা ক্ষমতা দখল করেছে। তারা এখন অগণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে সবার কাছে পরিচিত কিন্তু বাহ্যিক দৃষ্টিতে তারা দেখা যাইতেছে যে আমরা সংবিধান মতেই সরকার গঠন করেছি ক্ষমতায় আছি। সামনে ২০০৩ সালের জুনের দিকে আবার নির্বাচন হবে এই নির্বাচনেও তারা নিজস্ব দলের অধীনেই নির্বাচন করার পায় তারা করিতেছে। কিন্তু কি হবে জানিনা হয়তোবা সম্ভব হলেও হতে পারে।

 

একটি একটি সরকার বা একটি দল যদি একাধিকবার ক্ষমতায় থাকে তাহলে একটি দেশের উন্নয়ন হওয়া কথা কিন্তু বাস্তবে বাংল���দেশের যে পরিমাণ উন্নয়ন হওয়ার কথা সেই পরিমাণ হচ্ছে না। উন্নয়ন তুলনামূলকভাবে না হওয়ার প্রধান অন্তরায় হিসেবে আমি দেখছি সন্ত্রাসবাদি এবং দুর্নীতিগ্রস্ত শাসন ব্যবস্থা। একটা দেশে যদি সন্ত্রাসী এবং দুর্নীতিতে ছেয়ে যায় তবে সে দেশের অর্থনীতি উন্নয়ন খুবই কমই হয়ে থাকে। এ ছাড়া আরও একটি কারণ একটি গণতান্ত্রিক দেশ যদি অগণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতায় বসে থাকে তবে তাদের যে কোন কাজের যেকোনো কর্মের কোন প্রকার জবাবদিহিতা করতে হয় না। এছাড়াও আরেকটি কারণ রয়েছে যে কারণটি হল যে বিরোধীদল অত্যন্ত দুর্বল হওয়ার কারণে সরকার অনেক সুবিধা হয়। কারণ তারা আর যে কোন কাজে জবভিটা তাদের কাছে করতে হয় না জনগণের কাছেও করতে হয় না। কারণ ক্ষমতায় যে বসেছে তারা নিজস্ব শক্তিতে নিজস্ব পদ্ধতিতে জনগণের কারনে তো তারা ক্ষমতায় বসে নাই অর্থাৎ জনগণকে তাদের প্রয়োজন নাই আর এই বিষয়ে জনগণ যে কোন বিষয়ে তাদেরকে জবাব দেওয়া চাইতে পারে না।

 

আসলে আমাদের এই বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা হল যে প্রতিটি মন্ত্রণালয় প্রতিটি সেক্টর প্রতিটি বিভাগ প্রতিটি উপজেলা প্রতিটি থানা প্রতিটি ভূমি অফিস প্রতিটি স্কুল কলেজ সব জায়গায় দুর্নীতিতে একেবারে একাকার হয়ে গেছে। প্রথমে আসি আমরা মন্ত্রণালয় থেকে। একটা মন্ত্রণালয়ের প্রধান হল মন্ত্রী সাহেব, মন্ত্রী সাহেব যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হয় অসদ হয় তাহলে তার দপ্তর অবশ্যই দুর্নীতিতে ভরে যাবে। কারণ তিনি ইচ্ছা করলে একটা সেক্টরকে অর্থাৎ তার দপ্তরকে দুর্নীতিমুক্ত করতে পারে আর এটি করতে হলে তাকে প্রথমে সৎ হতে হবে। যদি সৎ হোন তবে তার অধীনস্থ যারা রয়েছে সচিব বলেন যাই বলেন তারা সকলেই সৎ হতে বাধ্য সৎ যদি না হয় দুর্নীতি করতে সাহস পাবে না।

 

 

কিন্তু আমাদের বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে যে যতগুলো মন্ত্রণালয় রয়েছে প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয় এর লোকগুলি অসৎ প্রকৃতির। তারা যদিও মুসলিম কিন্তু মুসলমান হিসেবে কি কি করণীয় কি কি বর্জনীয় তারা কিছুই জানে না। তারা আল্লাহকে চেনে না আল্লাহর পরিচয় জানে না প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর আদর্শ জানেনা তারা হাদিস পারেনা কোরআন পড়ে না। তাইতো তাদের ভিতর আল্লাহর ভয় নেই অর্থাৎ পরকালে যে আল্লাহর সামনে প্রতিটি কাজের হিসাব দিতে হবে সে বিষয়ে তারা সম্পূর্ণ উদাসীন। সরকারি সম্পদ তারা ভোগ করবে এতে তাদের কোন ভয় নেই। যারা আল্লাহকে ভয় করে না আল্লাহর বিচারকে ভয় পায় না অর্থাৎ পরকালীন জিন্দেগীর প্রতি উদাসীন তারা দুর্নীতিগ্রস্ত হবে না আর কে হবে। একজন মন্ত্রী যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হয় তবে তার দপ্তর আরো যত লোকবল রয়েছে কর্মকর্তা কর্মচারী রয়েছে তারাও দ্বিগুণ গতিতে দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে কারণ তারা জানে যে তাদের প্রধান অর্থাৎ মন্ত্রী যেহেতু দুর্নীতিগ্রস্ত দুর্নীতি দিয়ে প্রশ্রয় দেয় তাহলে আমরাও করলে কোন সমস্যা নাই। এইভাবে একজন শাসক যাকে সর্বময় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সে যদি একটা দফতরকে দুর্নীতিগ্রস্ত করে দেয় তবে তার আওতায় দেশের যে যে সেক্টর পরে তারাও দুর্নীতিগ্রস্ত এর কবলে পড়বে।

 

আর এভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত এবং সন্ত্রাসবাদি কার্যকলাপ যদি চলতে থাকে তবে দেশের উন্নয়ন কি করে সম্ভব কখনোই উন্নয়ন হতে পারেনা। বিগত সালের যদি পরিসংখ্যান আমরা তুলে ধরি তাহলে সুন্দরভাবে বোঝা যাবে আসলে বাংলাদেশের মন্ত্রী একই পরিমাণ টাকা বিদেশে পাচার করছে কিছুদিন আগে সুইস ব্যাংক এর প্রধান বলেছিল যে বাংলাদেশে যারা যারা টাকা রেখেছে তাদের নাম প্রকাশ করবে। তাছাড়া কি পরিমান টাকা রেখেছে তা হিসাবের বাইরে। এই টাকাগুলো যদি তারা বিদেশে পাচার না করতো তবে দেশের উন্নয়ন অসম্ভবভাবে বেড়ে যেত কিন্তু আমাদের দেশ যদিও দিকে দেখে কিছু উন্নয়ন হচ্ছে কিন্তু তার সিং হওয়া টাকায় বিদেশে পাচার করা হচ্ছে।

 

রক্ষক যদি ভক্ষক হয় তবে সে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো উন্নয়ন অত্যন্ত জটিল এবং কঠিন। তাইতো বাংলাদেশ এখন হারে হারে টের পাচ্ছে কারণ বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থায় দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষের ভরপুর হয়ে গেছে এবং এ দেশের অর্থনীতির চাকা প্রায় অচল হয়ে যাচ্ছে কারণ তারা দেশের টাকা দেশে না রেখে বিদেশে পাচার করে দিচ্ছে এবং বিদেশে গাড়ি-বাড়ি সব করছে কিন্তু দেশে যে শূন্য করে থাকছে। এ অবস্থায় যদি চলতে থাকে তবে এদেশের অর্থনীতির চাকা কখনোই সচল হবে না আরো ধীরগতি হবে একসময় চাকা বন্ধ করা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

 

তাই সন্ত্রাসবাদি এবং দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ থেকে উৎপাত করতে হলে অবশ্যই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া খুব সুন্দর সতেজ এবং সবল করতে হবে। যেকোনো মুহূর্তে যেন সরকারের পতন ঘটাতে পারে জনগণ এবং এতে শাসকগোষ্ঠীগণ সবসময় ভয় থাকবে এবং দেশের অর্থ দুর্নীতি করতে অত্যন্ত ভয় পাবে। তাই আমাদের দেশে দরকার একটা সুন্দর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা যে ব্যবস্থার মাধ্যমে যে কোন ব্যক্তি ক্ষমতায় আসতে পারবে এবং সে দেশকে ভালোভাবে চালাবে অর্থাৎ জবাবদিহিতা থাকা আবশ্যক আর জবাবদিহিতা যদি থাকে তবে যেকোনো সরকার যেকোনো দল ক্ষমতায় কোন কাজ করলে অবশ্যই তা জবাবদিহি তার ভয়ে দুর্নীতি করতে পারবেনা অর্থাৎ সঠিক পন্থায় অর্থ ব্যয় করবে।

 

আমাদের ইসলামের চার খলিফা হযরত আবু বক্কার রাযিয়াল্লাহু আনহু হযরত ওমর রাঃ হযরত ওসমান রঃ হযরত আলী রাঃ দেশ পরিচালনা করেছে শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছিল সেই শাসনব্যবস্থা যদি আমাদের এই বাংলাদেশের কায়েম হয় তবে আমাদের দেশে কোন দুর্নীতি থাকবে না সন্ত্রাসবাদ থাকবে না পরিণত হয়ে যাবে এবং প্রতিটি সেক্টরে দুর্নীতি হবে এবং এই দেশ সুন্দর অর্থনৈতিক উন্নয়নের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাবে। তবে জানি না সেই শাসন ব্যবস্থা কি বাংলাদেশে কখন আসবে যদি আসতো কতই না ভালো হতো। এই দেশ পরিচালনার সংবিধান যদি কোরআন হত কতই না ভালো হতো, এই দেশ যদি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর মত রাষ্ট্রনায় কতই না ভালো হতো। এদেশের শাসন কর্তা যদি হযরত আবু বক্কর ওমর ওসমান আলী রাঃ এর মত হতো কতই না ভালো হতো। আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি হে আল্লাহ তুমি আমাদের বাংলাদেশকে কোরআনের শাসন কায়েম করে দাও এবং প্রতিটি মানুষ যেন কোরআনের শাসন মেনে চলে এবং আল্লাহকে চেনে এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর আদর্শ গ্রহণ করে আল্লাহুমা আমিন।

Comments