পোশাক-পরিচ্ছেদ সম্পর্কিত গীবত।

alim236

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম 

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু 

সম্মানিত সাথী বৃন্ধু আজকে আমি আত্মা রোগের মধ্যে জঘন্যতম রোগ গীবত এর প্রকারভেদ এর দ্বিতীয় প্রকার অর্থাৎ পোশাক-পরিচ্ছেদ সম্পর্কিত গীবত নিয়ে আলোচনা করব ইনশাল্লাহ।

 

আমরা নিজেদের প্রয়োজনের জন্য বিভিন্ন প্রকার পোশাক-পরিচ্ছেদ ব্যবহার করে থাকি। আর এই পোষাক পরিচ্ছেদ মূল্য বিভিন্ন রং বেরঙ্গের এবং বিভিন্ন ডিজাইনের হয়ে থাকে। যদি আমরা কাহারো পোষাক নিয়ে কোন প্রকার কটুক্তি কথা, নিন্দা, রংবেরং নিয়ে যদি কারো বিষয় তার অগোচরে অন্যের কাছে আলোচনা সমালোচনা করি তবে তা পোশাক-পরিচ্ছদের সম্পর্কিত হিসেবে গণ্য হবে। যেমনঃ

কারো সম্পর্কে যদি বলা হয় যে ,তার পোশাক বেসামাল, আস্তিন ঢিলা, আচল দীর্ঘ, কাপড় গুলো অপরিষ্কার, নোংরা কাপড় পড়ে থাকে, লাল কাপড় এর জামা পড়ে, কি ঢং যে পাখি জামা পড়ে, মৌসুমী ডিজাইনের জামা পড়ে অমুকের তালি ওয়ালা জামা পড়ে অমুকে ছেঁড়া জামা পড়ে,ইত্যাদি ইত্যাদি। তা হলে তার বসন-ভূষণ সম্পর্কে গীবত করা হলো।

গীবত করা যেমন নিষেধ করা হয়েছে তেমনি গীবত শোনাও নিষেধ করা হয়েছে। যে গীবত করে এবং গীবত শুনে, তারা উভয়েই গীবতের পাপের অংশীদার হয়ে যায়।

সঠিক ভাবে না জেনে অর্থাৎ নিশ্চিত না হয়ে কারো সম্পর্কে মন্দ কিছু ধারণা করাও গীবতের শামীল। এই ধরনের মন্দ বা কু- ধারণাকে ইমাম গাযযালী (রহ) আন্তরিক বা মনের গীবত বলে অভিহিত করেছেন।

কুরআন মজীদে বর্ণিত হয়েছে, ‘যদি তোমাদের নিকট কোনো ফাসিক কোনো খবর নিয়ে আসে বা পরিবেশন করে, তা যথার্থ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অনুসন্ধান না করে মোটেও বিশ্বাস করতে নাই বা করবে না।

নবী করীম (সা.) থেকে বর্ণিত,‘আল্লাহ মুসলিমের রক্ত, ধনসম্পদ এবং তার প্রতি মন্দ ধারণা পোষণ করাকে হারাম করেছেন।’

গীবত বা পরনিন্দাকে নবী করীম (সা.) অত্যন্ত কঠোর ভাবে নিন্দা করেছেন এবং এর পরিণাম সম্পর্কে তার উম্মতকে বিস্তারিত অবহিত করেছেন।

হযরত আবু হুরাইয়া (রা.) বর্ণনা করেন যে, এক হাদীসে আছে- ইসা ইবনে মালিকিনা আসলামী নবী করীম (সা.)-এর নিকট এসে চতুর্থবারের মতো ব্যাভিচারের স্বীকারোক্তি দিলে, তখন নবী করিম সল্লালাহ আসসালাম তাকে প্রস্তরাঘাতে হত্যার আদেশ দেন। কোন একদিন নবী করীম (সা.) ও কিছু সাহাবা (রা.) তার কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করিতেছিলেন। সেই সময় তাদের মধ্য থেকে একজন বলে উঠলেন, এই কবরের মধ্যে থাকা বিশ্বাসঘাতকটা কয়েকবারই নবী করীম (সা.)-এর নিকট আসে এবং প্রত্যেকবারই রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে ফিরে যেতে বলেন, অতঃপর তাকে কুকুরের মতো হত্যা করা হয়। নবী করীম (সা.) এ কথা শুনে নীরবতা অবলম্বন করেন। অতপর তারা যখন একটি মৃত গাধার পাশ দিয়ে যায়তেছিলেন এবং গাধাটি ফুলে যাওয়ায় এর পাগুলো উপরের দিকে উঠেছিল, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তোমরা দুজন মিলে এটা খাও। তারা আশ্চার্য হয়ে বললেন, গাধার মৃত দেহ খেতে বলেছেন হে রাসূল! তিনি বললেন, কেন তোমাদের ভাইয়ের সম্মানহানীর মাধ্যমে ইতোপূর্বে তোমরা যা অর্জন করেছো, তা এর তুলনায় অধিক বেশি গর্হিত। মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রাণ যার হাতে সে পবিত্র সত্তার শপথ সে এখন জান্নাতের ঝর্ণাসমূহের মধ্যে একটি ঝর্ণাতে সাঁতার কাটছে।

আসুন আমরা সবাই পোশাক-পরিচ্ছেদ সম্পর্কিত জীবন থেকে সতর্ক হউন এবং এই জঘন্য কাজ হতে বিরত থাকি।

আল্লাহ হাফেজ।

Comments