প্রচণ্ড কষ্টেই মানুষ কাঁদে না, ভীষণ রাগেও কাঁদে। এতদিন না বুঝলেও এখন বেশ বুঝি।
গত সপ্তাহে উম্মি বাসায় ছিলেন না। বাসার সব দায়িত্ব আমাদের দু'বোনের উপর দিয়ে গেছিলেন। ভাইয়ার সাথে তো মারুর পর্দা। তাই উম্মির এই “বাচ্চাটার” সব দেখাশোনা আমাকেই করতে হয়েছে। যদিও সে আমার মাত্র বছর ছয়েকের বড়ো।
গতরাতে উম্মি বাসায় এসেছেন। উম্মি বাসায় আসার সাথে সাথে আমিও আমার উপহার পেয়ে গেছি। বিগত দিনগুলোতে কী কী করেছি সব উম্মিকে যেন সবক শুনিয়েছে ভাইয়া। উম্মি যখন আমাকে বলছিলেন—অসম্ভব কষ্ট হচ্ছিল আমার। ভাইয়ার কেন সবসময় আমার সাথে এমন করতে হবে! গত তিন বছরে আরও বেশিই এমন করে। আমার পান থেকে চুন খসলেই হয়, উম্মির কানে যেতে এক মুহূর্তও দেরি হয় না। মাঝে মাঝে খুব কষ্ট হয়। আজ বেশিই কষ্ট লাগছে। ওর প্রতি এতটা খেয়াল রাখার পরেও আমার ছোট্ট ছোট্ট কয়েকটা ভুল ও হজম করতে পারল না! উম্মিকে বলে দিল। প্রচণ্ড অভিমান আর কষ্টে রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে চোখ মুছলাম। তখনও ভাইয়ার জন্যই খাবার গরম করছিলাম। কী মনে করে যেন উম্মিকে গিয়ে বললাম—“আমি আর ভাইয়ার কিছু করে দেব না। এবার ওর রুম গরুর গোয়াল হোক বা ছাগলের খোঁয়াড় হোক, তা আমি জানি না। তিন বেলা খাবার বেড়েও খাওয়াতে পারব না। আর ওর মাছ, পাখি ও বিড়ালের কোনো খেদমতও আমি করতে পারব না। নামেই ও পালে। জীবনে একটু যত্ন-আত্তি করেছে কিনা সন্দেহ।” এক শ্বাসে বলে চলে এলাম। আর কেউ না বুঝলেও উম্মি আমার চোখের কোণ আর নাকের আগার রঙ দেখে ঠিকই বুঝেছেন—“কন্যা তাহার অশ্রুজলে ভাসিয়াছেন”।
কষ্টগুলো সব একসাথেই যেন ভিড় জমায়। একজন আঘাত করলে অপরজনও সুযোগ পায়। ব্যস, আর কিছুই বোঝার নেই। শক্ত একটা কথা বলেই দেই না। কী আর হবে। ওর ও তো শিক্ষা পাওয়ার দরকার আছে। আজকাল সবার মানসিকতাই যেন এমন।
কতবার পণ করলাম একদম ভদ্র মেয়েটি হয়ে যাব। রাত পোহানোর পর ভুলে যাই সবই। কীসের মান, আর কীসেরই বা অভিমান। হুট করে বিদায় নেয় সবই।
কিন্তু মাইমুনা, তোমারও তো বোঝা উচিত। বড়ো হয়েছ। এখন একটু বুঝতে শেখো অন্তত। দুনিয়া ততটাও সহজ নয়, যতটা তুমি ভাব। এবার তো বুঝতে শেখো।

