কাঁচা বাজার

A
abubakar
            বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম 
আসসালামুয়ালাইকুম, কেমন আছেন সকলে? আশা করি ভাল আছেন। আমি আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। আজ চলে এলাম আপনাদের সাথে আমার বাজার করার একটি ব্লগ নিয়ে।

বাজার করতে আমার বরাবরই খুবই ভালো লাগে। দেখেশুনে পছন্দের জিনিসটি কিনতে আমি খুব স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। তাই পরিবারের বাজার-সদাই দায়িত্বটা রয়েছে আমার উপর। তবে এই কাজে সেই কাজে আসলে অনেক দিন যাবত বাজারে যাওয়া হচ্ছিল না তবে ওই দিন ফ্রি ছিলাম তাই ভাবলাম আজকের কাঁচা বাজার টা আমিই করি।







মোটামুটি আমার বাজার সকলেই পছন্দ করে কেননা আমি ভালো মাছ চিনতে পারি। এবং দেখে শুনে বুঝে তারপরে জিনিসপত্রগুলো কিনে। তবে খুব একটা দাম দর করতে পারিনা। তাই মাঝেমধ্যেই ঠকে যায়। আমাদের একসাথে খুব বেশি বাজার করা হয় না। দুই একদিন দিন যাবে এমন ভাবে বাজার আনা হয়। কেননা বেশি বাজার আনলে খাওয়ার মানুষ নেই ফলে ফ্রিজে রাখতে হয়। আর ফ্রিজের মাছ মাংস গুলো আমার পরিবার মানুষরা এবং আমি নিজেও খুব একটা খেতে পছন্দ করি না।







যাই হোক, সকাল ৯ টার মধ্যে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে মোটামুটি ১১ দিকে রওনা দিলাম বাজারের উদ্দেশ্যে। আমার প্রত্যেকবারই বাজারে যেতে খুব দেরি হয়ে যায়। যদি ও সবসময় চেষ্টা করি তাড়াতাড়ি বাজারে যাওয়ার কেননা যত তাড়াতাড়ি বাজারে যাব তত ভালো মাছ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। দেরিতে গেলে দেখা যায় ভালো মাছগুলো শেষ হয়ে যায় আগে থেকেই। এত চেষ্টার পরেও তবুও কেন জানি প্রতিবারই বাজারে যেতে দেরি হয়ে যায় আমার। যাই হোক, আজ যে বাজার যাচ্ছি সেটা খুব দূরে নয় আমাদের এলাকার খুব কাছেই। রিক্সা করে গেলে সর্বোচ্চ ১৫ মিনিটের মত লাগে । আর ওখানে ভালো মাছ এবং ফ্রেশ সবজি পাওয়া যায়।









আজ দেখলাম বাজারে বেশ ভালো ভালো সাগরের মাছ উঠেছে। যদিও কিছুদিন আগেও সাগরের জাল দেওয়ার নিষেধাজ্ঞার কারণে বাজারে খুব একটা সাগরের মাছ পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে সে নিষেধাজ্ঞা এখন কেটে গিয়েছে। তাই এখন বাজারে ভালো ভালো মাছ পাওয়া যাচ্ছে।









বাজারে গেলে আমার প্রথম উদ্দেশ্য থাকে সাগরের মাছ কেনা। কেননা আমার পরিবারের মানুষরা পুকুরে মাছের তুলনায় সাগরের মাছ খেতে বেশি পছন্দ করে। তাই সাগরের মাছ দেখছিলাম। সাগরের মাছের মধ্যে সবথেকে বেশি পছন্দের লইট্টা মাছ। যে মাছটি আমি বাজারে গেলে প্রত্যেকবারই কিনি। অন্য কোন মাছ কিনি কিংবা নাকি লইট্টা মাছ আমার বাজারের মেনুতে প্রত্যেকবারই থাকবে।








যাইহোক সাগরের মাছ গুলোর মধ্যে লইট্টা মাছ, হোনদ্রা মাছ, ও দেশি তেলাপিয়া, চিংড়ি মাছ, রুই মাছ কিনি। বাজারে প্রত্যেকটি মাছের আকাশছোঁয়া দাম। যেখানে গত সপ্তাহের তুলনায় প্রত্যেকটি দ্রব্যের মত এ মাছের দাম বেড়েছে প্রতি কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা করে। লইট্টা মাছ- ১৩০, হোনদ্রা মাছ - ২৮০, দেশি তেলাপিয়া - ১৯০,চিংড়ি মাছ -৫০০। আপনাদের ওদিকে মাছের দাম কেমন তা জানাতে পারেন আমাকে।










যাইহোক মাছ বাজার শেষ করে চলে যায় সবজির বাজারে। শীত না আসতেও বাজারে শীতের সবজির আগমন ঘটেছে বহু আগেই। শীতকালীন নতুন এই সবজি দেখে আর লোভ সামলাতে পারলাম না তাই অনেক দাম দিয়ে ফুলকপি, পাতাকপি, শিম ও বেগুন নিই। ফুলকপির কেজি নিয়েছে -৯০ টাকা, পাতাকপি - ৬০ টাকা, শিম-১২০, বেগুন- ৮০। এছাড়াও কাঁচামরিচ, ধনেপাত��� ও টমেটো এগুলো তো বাজারের মেনুতে কনফার্ম।








যাই হোক বাজার-সদাই শেষে 12:30 মধ্যেই বাসায় ফিরে আসি। ওই দিন বাহিরে প্রচুর গরম ছিল। বাসায় এসে একদমই ক্লান্ত হয়ে পড়ি। এছাড়াও বাসার সামনে রাস্তা ঠিক হচ্ছে তাই রিকশা আসছিলোনা ভিতরে দিকে। অনেকটুকুই হেঁটে আসতে হয়েছে এতো ভারী বাজার সদাই গুলো নিয়ে। তা অনেকটাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম।

তো এই ছিল আমার আজকের ব্লগ। সকলে ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন। অন্য কোনদিন অন্য কোনো কিছু নিয়ে হাজির হবো।







আপনারা যারা আমার এই পোস্টটা পড়েছেন আশা করি আপনাদের ভালো লাগছে।আর যদি আমি কিছু ভুল করে থাকি তাহলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন, মানুষ মাত্রই ভুল।


ছবি গুলো আমার নিজের হ্যান্ডসেট দিয়ে তোলা হয়েছে।
ডিভাইস: VIVO 
মডেল : Y12A

Comments