কোরআনী হেদায়েত।

A
abir190

সবায় কেমন আছেন, আসা করি অনেক ভালে আছেন,এবং আমিও আল্লাহর রহমতপ ভালো আছি,আলহামদুলিল্লাহ। 

 

কোরআনী হেদায়েত 

 

ولون الذ قال لقومه أتأتون الفاحشة ما سبقكم بها من احد من العلمين - انكم لتأتون الرجال شهوة عـن دون النساء بل انتم قوم تشرفون অর্থ : “এবং আমরা নৃত্ আলাইহিছ-ছালামকে প্রেরণ করিয়াছি যখন তিনি তাঁহার কওমকে লক্ষ্য করিয়া বলিয়াছিলেন, তোমরা এমন এক বেহায়াপনা করিতেছ যাহা তোমাদের পূর্বে এ বিশ্বজগতের অধিবাসীদের দ্বিতীয় কেহ করে নাই? তোমরা মেয়েদেরকে বাদ দিয়া পুরুষদের সহিত যৌনকর্ম করিতেছ! তোমরা বরং সীমা অতিক্রমকারী এক সম্প্রদায়।” ফায়েদা : উক্ত আয়াতসমূহের দ্বারা আল্লাহ্পাক ছেলেরা ছেলেদের সঙ্গে যৌনকর্ম করাকে (সমকামিতাকে) হারাম করিয়াছেন। অন্য আয়াতে সমকামিতায় লিপ্ত উক্ত সম্প্রদায়ের উপর আযাবের কথা উল্লেখ করিয়াছেন যে, হযরত জিবরাঈল (আ.) ঐ পাপিষ্ঠদের বস্তিকে পাতানের তলদেশ হইতে উৎপাটিত করিয়া আসমান পর্যন্ত লইয়া গিয়াছিলেন। অতঃপর সেখান হইতে বিকুল্ উল্টাভাবে নিচে নিক্ষেপ করিলেন যাহার অংশ ফলে নিচের উপরে ও উপরের অংশ নিচে চলিয়া গেল। অতঃপর উক্ত বস্তির উপর আকাশ হইতে ব্যাপকভাবে পাথরের বৃষ্টি বর্ষণ করা হইয়াছিল। প্রতিটি পাথর আল্লাহর তরফ হইতে এক বিশেষ ধরনের মোহরযুক্ত ছিল যাহা দ্বারা ঐ পাথরসমূহ দুনিয়ার পাথরসমূহ হইতে পৃথকভাবে চেনা যাইতেছিল। যেই পাথরখণ্ডের উপর যেই অপরাধীর নাম লেখা ছিল ঐ খণ্ডটি ঠিক ঐ অপরাধীর দিকেই ছুটিয়া আসিত এবং তাহার উপরই নিক্ষিপ্ত হইত। প্রথমত: উক্ত বস্তিকে উল্টাইয়া দেওয়া হইয়াছিল। তারপর উহার উপর বৃষ্টির আকারে পাথর বর্ষণ করা হইয়াছিল। আমার মোর্শেদ শাহ আবদুল গনী ফুলপুরী (রহ.) বলিতেন : যেহেতু তাহারা অমানবীয় পথে ‘উল্টা কর্মে’ লিপ্ত হইয়াছিল, সেজন্যই শাস্তিস্বরূপ উহাদের বস্তিকে উল্টাইয়া দেওয়া হইয়াছিল। হযরত লূত আলাইহিচ্‌-ছালাম তাহাদিগকে বহুত বুঝাইয়াছিলেন। কিন্তু তাহারা উপদেশ ত মানিলই না, উপরন্তু তাঁহার উপর নির্যাতন করিতে লাগিল। পরিণামে ঐ বস্তির চারি লক্ষ অধিবাসীকে মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস করিয়া দেওয়া হইল। সূরায়ে যারিয়াত'-এর মধ্যে ঐ অপকর্মকারীদিগকে ‘মুজরিমীন' (তথা অপরাধী গোষ্ঠী) বলা হইয়াছে। যখন হযরত ইবরাহীম আলাইহিছ ছালাম আযাবের ফেরেশতাদের নিকট জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন যে, হে ফেরেশতাগণ! কোন্ উদ্দেশ্যে তোমাদের আগমন? তাঁহারা বলিলেন : انا أرسلنا الى قـوم مـجـرمـيـن “আমরা এক ‘মুজরিম’ (অপরাধী) জনগোষ্ঠীর উদ্দেশ্যে প্রেরিত হইয়াছি।" ইহাদের উপর পাথর বর্ষণ করিয়া ইহাদিগকে ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন করিয়া দেওয়ার জন্য আমাদিগকে মোতায়েন করা হইয়াছে। যেই মুজরিম্ যেই পাoথরের দ্বারা হালাক হইবে, তাহার নামও ঐ পাথরে লেখা আছে। মোটকথা, মানবতার কলংক ঐ জঘন্যতম অপকর্মের প্রতিফলস্বরূপ কঠোর শাস্তিদাতা আল্লাহ্ তাহাদের উপর পাথর বর্ষণ করিয়াছেন যাহার ফলে তাহারা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হইয়া গিয়াছে। পরন্তু, ঐ কওমে লূতের বস্তিকেও ওলট-পালট করিয়া দেওয়া হইয়াছে। আল্লাহপাক বলেন : وتركنا فيها أية

 

অর্থ : “আর মানবজাতির জন্য আমরা এই ঘটনার মধ্যে এক 'স্থায়ী শিক্ষা’ রাখিয়া দিয়াছি।” ফলে, ঐ এলাকায় তৎক্ষণাৎ একটি হ্রদ সৃষ্টি হইয়া গেল যাহা ঐ ভয়াবহ ঘটনার স্মারক। অদ্যাবধি উহা ‘বুহাইরায়ে লূত্‌' নামে প্রসিদ্ধ। উহার পানি এত তিতা ও দুর্গন্ধময় যে, কোন প্রাণীর পক্ষেই তাহা পান করা বা ব্যবহার করা অসম্ভব ব্যাপার। ঐ হ্রদের কূলে কোন গাছও জন্মায় না। (তাফসীরে বয়ানুল কোরআন ও অন্যান্য তাফসীর গ্রন্থ অবলম্বনে)

 

আজ এ পর্যন্তই,আর আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন, আমি যেন সুস্থ এবং ভাল ভাবে চলতে ফিরতে পারি। এবং আমিও আপনাদের জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া প্রার্থনা করি আপনারাও সুস্থ এবং ভাল থাকুন।

 

 

আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ। আল্লাহ হাফেজ।

Comments