আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ। সকলে কেমন আছেন?
আশা করি আল্লাহর অশেষ রহমতে অনেক অনেক ভালো আছেন। এবং আমিও আপনাদের দোয়ায় অনেক ভাল আছি আলহামদুলিল্লাহ।
আজকে মেরাজের 90 হাজার কালাম সম্পর্কে কিছু কথা বলবো ইনশাআল্লাহ।
মেরাজ রজনীতে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে 90 হাজার কালাম বানী লাভ করেছিলেন। তার মধ্যে 30 হাজার কালাম জাহেরী, যেগুলো উলামায়ে কেরাম জানেন আর অবশিষ্ট 60 হাজার কালাম বাতেনী, বলছি এগুলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোপনে একমাত্র হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু কে বলে গেছেন। তার থেকে সিনা পরস্পরায় পরবর্তী সুফি, ফকির ও দরবেশের নিকট তা পৌঁছেছে। ফকির দরবেশ নিকট গচ্ছিত বাতেনী এই 60 হাজার কালাম উলামায়ে কেরাম না জানার কারণে তা ফকির দরবেশ দের মধ্যে একটা কিছু দেখলেই তাদের উপর আপত্তি করে বসেন।
এটা বানোয়াট ও উদ্ভট। কেননা প্রথমত, এতে আল্লাহ তাআলার উপর মিথ্যা আরোপ করা হয় যে, এই মানুষকে দু'ধরনের শরীয়ত প্রদান করেছেন। একটি তিরিশ হাজার কালার বিশিষ্ট শরীয়ত, আরেকটি 60000 কালার বিশিষ্ট শরীয়ত
এবং উভয় শরীয়ত পরস্পর বিরোধী। এক শরীয়তে একটি বস্তু হালাল হলে অন্য শরীয়তে সে একই বস্তু হারাম। এরূপ পরস্পর বিরোধ পূর্ণ কাজ কোন সৃষ্টির পক্ষেও নিন্দনীয়। অথচ দাজ্জাল এটাকে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলার শানে চালিয়ে দিয়েছে।
দ্বিতীয়তঃ এখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম এর উপর এ অপবাদ আসে যে, পৃথিবীর অধিকাংশ মৌলিক কথা যা সর্বস্তরের মুসলমাদের জানা জরুরি ছিল, তা তিনি তাদের কাছে পৌঁছায়নি। শুধু একজনকে গোপনে বলে গেছেন আর অন্যদেরকে তার বিপরীত কথা বলে গেছেন। নবীজির সম্পর্কে যে ব্যক্তির এমন ধারণা থাকবে, তার যে রাসূলের প্রতি ঈমান নেই, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
তৃতীয়তঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু কে দিনের বিশেষ বিশেষ এমন অনেক কথা বলেছেন, যা অন্যদেরকে বলেননি। এ আকিদা মূলত সবাই চক্রের ছিল। যাদের কাফের হওয়ার ব্যাপারে উম্মত একমত।
সবাই চক্র এ আকিদা হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর যুগে রটিয়েছিল। আর হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু সুস্পষ্ট ভাষায় তা স্বীকার করেছেন। এসব বরকে একাধিক হাদিস রয়েছেন।
সহি হাদিস, আমের ইবনে ওয়াসেলা বলেন, এক ব্যক্তি হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু কে জিজ্ঞেস করল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি লোকের অগোচরে আপনাকে গোপন কিছু বলে গেছেন? এই কথা শুনে ক্রোধে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর চেহারা লাল হয়ে গেল। তিনি বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম লোকের অগোচরে আমাকে কিছু বলে যাননি, তবে আমাকে তিন-চারটি কথা বলে গেছেন, তখন আমরা ছিলাম ঘরের ভেতর। তিনি ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি গাইরুল্লাহ তথা আল্লাহতালা ছাড়া অন্য কারো নামে জবাই করে, আল্লাহ তাআলা তার ওপর লানত করেন। যে ব্যক্তি কোন ভেবে দেখছি বেদআতীকে আশ্রয় দেয়, আল্লাহ তাআলা তার উপর লানত করেন। যে ব্যক্তির জমির চিহ্ন এদিকসেদিক করে, আল্লাহ তাআলা তার উপর লা'নত করেন।
সুতরাং এ ধরনের উক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেরাজ রজনীতে 90 হাজার কালাম লাভ করেছিলেন। সেগুলো একমাত্র হযরত আলী রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু কে গোপনে বলে গেছেন। কুফুরি কালাম এবং একে হাদিস মনে করা বড় কুফরি, যে উপরোক্ত বর্ণনা দ্বারা সুস্পষ্ট হয়ে গেল। তাই এ ধরনের আকীদা বিশ্বাস করা পরিহার্য।
আজকের পোস্ট এ পর্যন্তই, সকলে আমার জন্য দোয়া করবেন। এবং আমিও আপনাদের জন্য দোয়া করব ইনশা আল্লাহ তাআলা।
তো আজকের মত এখানেই শেষ করছি, আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু। আল্লাহ হাফেজ।

