আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ, সবাই কেমন আছেন, আশা করি সকলে আল্লাহর রহমতে ভাল আছেন, এবং আমিও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি আলহামদুলিল্লাহ।
কিছু জরুরী বিষয়:
সহিহ হাদিসের উৎস
১ মৌলিক আকীদা-বিশ্বাস ঠিক করা এবং জরুরি আমলের ইলম অর্জন করার পরিনাম এর ময়দানে একজন মুসলিমের সর্ব প্রথম কাজ হলো কুরআন মজীদের সহি শুদ্ধ তেলাওয়াত শিক্ষা করা। এরপর নির্ভরযোগ্য কোন হক্কানী আলেমের তত্ত্বাবধানে সাধ্য মোতাবেক ধীরে ধীর কোন নির্ভরযোগ্য তাফসীর ও তরজমা সহযোগিতায় কোরআন মাজিদের অর্থও ব্যাখ্যা বুঝার চেষ্টা করতে থাকা। সাথে সাথে নববী আদর্শ এবং তার শিক্ষা ও হেদায়াতের জ্ঞানার্জনের জন্য ব্যয় করা জরুরি।
উদাহরণস্বরূপ, আকিদা এই বিষয়ক হাদিস এর জন্য মিশকাতুল মাসাবিঃ এর কিতাবুল ঈমান তথা ইমান অধ্যায়ের হাদিস পড়া। আখলাক- চরিত্র ও আদব শিষ্টাচার এর জন্য ইমাম বূখারী (রহ:) রচিত 'আলআদাবুল মুফরাদ'এবং ইমাম নববী (রহ) রিয়াজুস সালেহীন অধ্যায়ন করা। নববী জিকির ও দোয়া সমূহের জন্য ইবনুল জাযারী রহমাতুল্লাহ আলাইহির লিখিত আল হিসনুল হাসিন এবং আল্লামা না নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি আলাই এর আলাআযকার বরাবর অধ্যায়ন করা। ফজিলত বিষয়ে হাদিস এর জন্য আল মুনতাকা মিনাত তারগীব ওয়াত তারহীব এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শামায়েল ও সিরাত সম্বলিত হাদিসের জন্য শামায়েলে তিরমিজি যাদুল মাআদ ও উসওয়ায়ে রাসুলে আকরাম সা: ইত্যাদি কিতাব পড়া।যুহদ ও মাওয়ায়েয হেকমত ও প্রবাদ এবং অন্যান্য বিষয়ে হাদিস জানার জন্য সহীহুল জামিইস সগীর মাইকেল ওয়া যিয়াদাতিহী ও একটি বিশাল ভান্ডার। ফিকহুস সুনান ওয়াল-আসার এবং আসারুল সুনান ইত্যাদি কিতাব পড়া।
কিন্তু আমাদের অবস্থা এই যে আমরা সহীহ হাদীসের শিক্ষা-দীক্ষার ব্যাপার একেবারে উদাসীন। হাদিসে নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহ অধ্যায়ের সঙ্গে আমার কোন সম্পর্ক নেই।
হাদিসের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক এতটুকু যে কোন বক্তার ওয়াজ নসিহত বা বাজারে কোন পত্রিকায় কোন হাদিস পেলেই হল। আমরা এতে সন্তুষ্ট হয়ে যাই, হাদিসের ইন অর্জন করার মাধ্যম যদি শুধু এটি হয়, তাহলে নিজেদের অজান্তেই মানুষ হাদিসের নামে জাল ও মিথ্যা রেওয়ায়েতের ধোকায় পড়ে চরম ভ্রান্তি শিকার হবে। হয়তো বলা হবে, সবই যদি হয় যাল ও ভিত্তিহীন, তাহলে আর থাকলো টা কি? এক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্য হলো ভাই যদি বাদ পরে তাহলে তাহলে জাল ও ভিত্তিহীন রেওয়ায়াত বাদ পড়েছে এবং এগুলোবাদ পড়া উচিত। যেগুলো মূলত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস সেগুলো সর্ব নির্ভরযোগ্য কিতাবে যথাযথভাবে সংরক্ষিত আছে। প্রয়োজন শুধু হিম্মত করে কোন নির্ভরযোগ্য আলেমের তত্ত্বাবধানে সেগুলো অর্জন করা। শুধু সহীহুল জামিইস সগীর ওয়া যিয়াদাতিহী এর মধ্যেই সাত হাজারেরও অধিক সহি হাদিস রয়েছে। সুতরাং বক্ষ্যমাণ গ্রন্থটির দেখে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে হাদীসের ব্যাপারে আমাদের জ্ঞানের পরিধি যুতিকাল পর্যন্ত সীমিত থাকে তাহলে তো আর করার কিছু নেই।
আরো আফসোসের কথা এই যে একই বিষয়ের উপর যদি একদিকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাহু সাল্লাম হাদিস বিদ্যমান থাকে অপরদিকে জাল ও ভিত্তিহীন দেওয়া হয়ে থাকে তখন দেখা যায় সাধারণ মানুষের মুখ ওই বিষয়ের জাল ও ভিত্তিহীন রেওয়াতেই প্রসিদ্ধ। আর তার বিপরীতে সহি হাদিস থেকে তারা সম্পূর্ণ খবর জাল ও ভিত্তিহীন গুলোকেই তারা হাদিসে রাসুল নামে চালিয়ে দিচ্ছে।
এ কারণে আমরা এই কিতাবের অধিকাংশ স্থানে ভিত্তিহীন ও জাল রেওয়ায়েতের বিপরীতে একটি বিষয়ের হাদিস উল্লেখ করার প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রেখেছি যাতে একই সাথে হাদিসের ইলম হাসিল হয়ে যায় আর আমাদের উদাসীনতার আলসো নিদ্রাও ভেঙ্গে যায় এবং একথাও যেন আমাদের সামনে স্পষ্ট হয়ে যায় যে আমরা নিছক অবহেলা ও অজ্ঞাত হাদিস জাল ও ভিত্তিহীন এর পিছনে ছুটছি।
আজকের পোস্ট এই পর্যন্তই আমার জন্য সকলে দোয়া করবেন এবং আমি আপনাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া প্রার্থনা করি আল্লাহ যেন সকলকে সুস্থ রাখেন আমীন।
আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু আল্লাহাফেজ

