আসসালামু আলাইকুম। সবাই কেমন আছেন?
আশা করি সবাই ভালো আছেন।
আগামী পর্বের পর থেকে।
কফিশপটি বিশাল। বেশ ছিমছাম এবং সাজানো গোছানো। সিনথিয়াই এই কফিশপটি চিনিয়েছে। চিনিয়ে ভালোই করেছে। জারা আজকে যে কাজটি করতে যাচ্ছে এর জন্য এই জায়গাটিই সবচেয়ে উপযুক্ত। বিশ-বাইশ বছরের একটা ওয়েটার অর্ডার নিতে এগিয়ে এলো। জারার সামনে এসে কিছুটা ঝুঁকে গিয়ে বিনীত গলায় বলল, ‘আসসালামু আলাইকুম। কী খাবেন আন্টি! অর্ডারটা বলুন প্লিজ!' জারার হাসি পেল। আপাদমস্তক বোরকা পরা দেখে অনেকেই তাকে আন্টি বলে ডাকে। সমীহ করে। ভালো। খুব ভালো। তবে, সে আসলে আন্টি পর্যায়ের কেউ না। এখনো বিয়েই হয়নি। কেবলমাত্র অনার্স করে বেরিয়েছে। বাসা থেকে পাত্র দেখা হচ্ছে। কয়েকটা প্রপোজালও এসেছে। কিন্তু, সুযোগ্য পাত্র মিলছে না। যেসব প্রস্তাব এসেছে তার সবই পয়সাওয়ালা ফ্যামিলির। পয়সাওয়ালা পাত্র জারার পছন্দ না। তার পছন্দ ধার্মিক পাত্র। পাত্রের দাড়ি থাকতে হবে। নামাজ-রোজায় পাকা হতে হবে। জুব্বা না হলেও, ছেলেকে অন্তত পাজামা-পাঞ্জাবি পরনেওয়ালা হতে হবে। মাথায় পাগড়িথাকলে থাকতে পারে। না থাকলেও অসুবিধে নেই; কাজ চালিয়ে নেওয়া যাবে। সিনথিয়ার সঙ্গে জারা এ বিষয়ে একবার কিছুটা শেয়ার করেছিল। তাতেই বাধে বিপত্তি। ফাজিলটা ‘একান্ত গোপনীয়' সে বিষয়টা বাবাকে বলে দিল। একদিন দুপুরবেলা টিউশনি শেষে বাসায় ফিরে আসতেই জারাকে নাজিমুদ্দিন সাহেবের মুখোমুখি হতে হলো। জারার বাবা নাজিমুদ্দিন সাহেব চিন্তিত মুখে বললেন, ‘এইসব তুই কী বলেছিস? ‘কীসব, বাবা?’ ‘তোর নাকি মোল্লা ছেলে পছন্দ? মোল্লা ছেলের কাছে মেয়ে বিয়ে দেবো বলে কি তোকে আমি ভার্সিটি পড়িয়েছি?? জারা থতমত খেয়ে গেল। বুঝতে বাকি রইল না, কথাটা বাবার কর্ণকুহর পর্যন্ত কে পৌঁছিয়েছে। জারা বোরকা গুছিয়ে চুলায় রান্না চড়াতে চড়াতে বলল, ‘বাবা, এসব এখন থাক।' ‘থাকবে কেন? তোর মা বেঁচে থাকলে সে-ই তোর বিয়েটিয়ে নিয়ে ভাবত। মহারানি তো চলে গিয়ে বেঁচে গেলেন। এখন এই ভাবনা আমাকে ভাবতে হচ্ছে। তবে, আমি কিন্তু মোল্লা-মুন্সি টাইপ ছেলের কাছে তোর বিয়ে দেবো না বলে দিচ্ছি! ওরা তো নিজেরাই চলতে পারে না; বউকে খাওয়াবে কী?' জারা হেসে ফেলে বলল, ‘বাবা!’ 'কী?' “তুমি তো মোল্লা নও, তাই না?? ‘হ্যাঁ! কী হয়েছে তাতে?
‘তোমার পেনশনের টাকায় কি আমরা খুব হেসে খেলে দিন পার করছি? করছি না। তবে, আলহামদুলিল্লাহ, মোটামুটি চলে যাচ্ছে।' ‘এতে তুই কী বোঝাতে চাচ্ছিস?' ‘বোঝাতে চাচ্ছি না, বাবা! বলতে চাচ্ছি, মোল্লা হলেই কেউ ভালো চলতে পারছে না এমন না। রিজিক-দৌলত আল্লাহ তাআলার হাতে। কে কীভাবে চলবে, এটা তিনিই ঠিক করে রেখেছেন। এ নিয়ে আমাদের টেনশনে পড়ে যাওয়ার কিছু নেই।
আগামী পর্ব ইনশাআল্লাহ আগামীকাল দিব।
এতক্ষণ গল্পটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
আমাদের সাথেই থাকুন।
সবাই ভালো থাকুক সুস্থ থাকুন।
আল্লাহ হাফেয।
আসসালামু আলাইকুম।

