@আমার পোষা বিড়াল

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আশা করি আপনারা সবাই ভাল আছেন আল্লাহর রহমতে আমিও ভালো আছি। আমি এবার লিখব আমার পোষা বিড়াল সম্পর্কে।

বন্ধুরা এটা আমার জীবনে বাস্তব এবং সত্য একটি ঘটনা। আল্লাহতালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন আশরাফুল মাখলুকাত সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে আর সকল জীবজন্তু পশুপাখি কীটপতঙ্গ সৃষ্টি করেছেন মানুষের জন্য।

যাতে ও সকল পশুপাখি কীটপতঙ্গ মানুষের সেবা করতে পারে। এরইমধ্যে এক প্রজাতি হচ্ছে বিড়াল। বিড়াল আমার খুবই ভালো লাগে কারণ এই বছর দুয়েক আগে আমি যখন রাতের বেলা ঘরে থেকে বের হলাম ঘোরাফেরা জন্য তখন হুট করে একটা বিড়াল দেখতে পেলাম আমি।

বিড়ালটা ছিল গর্ভবতী এবং সে আমাকে দেখে মেও মেও করে উঠলো আমার বেটির প্রতি খুবই মায়া হল এবং আমি দোকান থেকে ছয় টাকা দামের একটা পাউরুটি কিনে বিড়ালটিকে খাওয়াতে খাওয়াতে আমার বাড়িতে নিয়ে আসি।

আমি বিড়ালটিকে বাড়িতে আনার পর বিড়ালটিকে কিছুক্ষণ পরপরই ডাকি এবং যেটাই আমি খাই সেটাই তাকে দেওয়া চেষ্টা করি এরপর ধীরে ধীরে বিড়ালটি পোষা হয়ে যায়। এবং তার কিছুদিন পর বিড়ালটি গর্ভপাত করে এবং একটি বাচ্চা হয়।

বাচ্চাটা দেখতে শিয়ালী রঙের ছিল এবং খুবই ভালো দেখাচ্ছিলো। কিন্তু হঠাৎ একদিন বিড়ালটি তার বাচ্চাকে রেখে কোথাও যেন চলে গেল বিড়ালটির মাকে আমি অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি কিন্তু কোথাও পাইনি শুধু পড়েছিল ওই বিড়ালের বাচ্চাটি।

বাচ্চাটিকে দেখে আমার খুব মায়া হয় এবং আমি সিদ্ধান্ত নিয়েই আমি এই বাচ্চাটি কে ছোট থেকে নিজের বাড়িতে রাখবো এবং পোষা বানাবো। বাস্তব ক্ষেত্রে এমনটাই করি আমি ওই বিড়ালটিকে খাবার দিয়ে দিয়ে বড় করে নিজের পোষা বানাই।

আমি বিড়ালটির নাম দিয়েছি আমি যেখানেই থাকি না কেন বাড়ির আশেপাশে বা অন্য কোথাও বেড়াতে চলে গেলে আমি তার নাম ধরে ডাক দিলেই আমার কাছে ছুটে চলে আসে।

এমনকি আমি যদি গোসল দিতে নদীর তীরে যায় কিংবা ঘোরাফেরা করার জন্য বাড়ির পাশে বালুরঘাট আছে ওই জায়গায় যায় বিড়ালটি আমার সাথেই যায় এবং আমার সাথে বাড়িতে চলে আসে।

আমি অনেক চেষ্টা করি বিড়ালটি যাতে আমার সাথে না যাইবো কারণ আমার সাথে গিয়ে হঠাৎ যদি কোন জায়গায় হারিয়ে যায় ওই কারণে আমি যখন বাইরে যায় তখন বিড়ালটিকে ডাকদি এবং ঘরের মধ্যে আনি এবং তাড়াতাড়ি করে ঘরের দরজা বন্ধ করে আমি বাইরে চলে যায় এবং বিড়ালটি আমার সাথে যেতে পারে না।

 

খুবই মজার ব্যাপার হলো যে বিড়ালটি কখনোই চুরি করে কোন জিনিস খায় না কারণ তাকে নিয়মিত ভাত মাছ দুধ ইত্যাদি খাওয়ায় কারণ তার পেট প্রায় সব সময় ভরা থাকে ওই কারণে সে চুরি করে খাইনা।

আমি যখন ভাত খেতে বসি বা আমার পরিবারের কেউই তখন খেতে বসে ঠিক তখনই বিড়ালটি আসে এবং এক কোনায় বসে থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত বিড়ালটিকে খাবার দিয়ে বলা না হয় যে খাও ততক্ষণ পর্যন্ত শেখায় না।

তার খাওয়ার জন্য একটা ছোট বাটি রেখেছি আমি যখনই আমি খেতে বসেছি তখনই আমি ওই বাটির মধ্যে খাবার দিয়ে তাকে খেতে দিই এবং শে খাই। সে রাতে ঘুমাই আমাদের ঘরে আমাদের ঘরে সিআর থাকে বা বাক্স থাকে তার ওপর এসে শুয়ে থাকে এমনকি অনেক রাতে দেখা যায় সে বিছানার উপরে।

বেশিরভাগ রাতেই আমি যে জায়গায় ঘুমাই দেখি আমার পায়ের কাছে ঘুমিয়ে আছে বিড়ালটি। বিড়ালটিকে আমি কয়েকদিন পরে পরেই শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করিয়ে দিই এবং আমি এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছি বিড়ালটিকে নিকটস্থ সদর হাসপাতাল থেকে ইনজেকশন দিয়ে নিয়ে আসবো যাতে তার থেকে কোন অসুখ-বিসুখ না ছরাই।

 

এভাবেই চলতে থাকে দিনের পর দিন হঠাৎ করে একদিন আমি সকালবেলা বিলাই থেকে ডাকি কিন্তু বিড়াল আর আসে না আমি আমাদের আশেপাশের বাড়িগুলোতে অনেক ভালোভাবে খোঁজাখুঁজি করলাম কিন্তু বিড়ালটিকে পেলাম না।

আমার অনেক চিন্তা হলো এবং মন খারাপ হলো আমার ভালোবাসার বিড়ালটি কোথায় চলে গেল এজন্য আমি খোঁজার জন্য আমার বন্ধুবান্ধব এবং ছোট ভাইদের বললাম যে শিয়ালের রঙের একটা এক বছরের বিড়াল আমার বাড়ি থেকে কোথাও যেন চলে গেছে তোমরা কেউ যদি দেখো তাহলে আমাকে খবর পাঠাবে।

বিড়ালটি হারিয়ে যাওয়ার দুইদিন পর একজন বলল পাশের এলাকায় একটি বিড়াল দেখা গেছে আমার মনটা আনন্দে অনেকটাই উৎফুল্ল হয়ে উঠলো আমি সঙ্গে সঙ্গে বিড়ালটি খোঁজার জন্য পাশের এলাকায় গেলাম এবং তাকে থাকতে শুরু করলাম।

এক ঘন্টার মতো তাকে খোঁজা এবং ঢাকার পর অবশেষে দেখলাম একটা গুলির মধ্যে দিয়ে সে কোথাও যেন যাওয়ার চেষ্টা করতাছে আমি যে ডাক দিলাম তাকে সে শুনতে পেলো এবং দৌরে আমার কাছে চলে এসো।

আমি বিড়ালটিকে কোলে নিয়ে বাড়িতে চলে আসলাম এবং তাকে আবারো আগের মত যত্ন করতে শুরু করলাম আমি একটা জিনিস লক্ষ্য করলাম আমার বিড়ালটা তিন দিন হারিয়েছিল লক্ষ্য করলাম বিড়ালটির পেটে কিছু নেই বিড়ালটি শুধু মেও মেও করে চিৎকার করছে আমি তাকে সঙ্গে সঙ্গে খাবার দিলাম এবং সে খেলো।

এরপর বিড়ালটির সাথে আমার অনেকদিন কেটে গেল এবং এখনো কাটাচ্ছে । এরমধ্যে তিন চার দিন আগে এক রাতে বিড়ালটিকে খাবার দিয়ে আমিও খাওয়া-দাওয়া শেষ করে শুয়ে পড়লাম হঠাৎ দুইটা বিড়ালের জোরালো শব্দ আমার কানে আসলো এবং আমি বাইরে যেয়ে দেখি একটা বড় ওন্দা বিড়াল।

এতে ভাবলাম যে আমার বিড়াল টা ওন্দা বিড়ালের ভয়ে কোথায় চলে গেল। আমিও ইয়ন্দা বিড়ালকে লাঠি নিয়ে দাওয়া করলাম এবং সে ওন্দা বিড়ালটি চলে গেল কিন্তু আমার বিড়াল থেকে আর উটকে পারছিনা।

আমি রাতাতেই অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি কিন্তু বিড়ালটিকে রাতে কোথাও দেখতে পেলাম না প্রায় তিন ঘন্টা খুঁজলাম আমার বাড়ির পাশে বাড়ি ঘর দিয়ে এবং আশেপাশের ঝাড় জঙ্গল মধ্যে দিয়ে কিন্তু বিড়ালটিকে পেলাম না।

আমি মন খারাপ করে শুয়ে পড়লাম অনেক রাতে হঠাৎ আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল এবং আমি পাটা সোজা করতেই দেখলাম বিড়ালটি আমার পায়ের কাছে শুয়ে আছে আমি মনে সান্ত্বনা পেলাম এবং বিড়ালটিকে হাত দিয়ে আদর করতে লাগলাম এবং বললাম কোথায় চলে গিয়েছিলে তুই তোকে পেলাম না।

এভাবেই চলছে আমার আর বিড়ালের ভালোবাসা। চলতে থাকবে ইনশাআল্লাহ। বিড়ালটাকে আমি খুবই যত্ন করি এটা আমার জীবনের সত্য একটি ঘটনা।

Comments