@ইসলাম ছাড়া জীবন মূল্যহীন

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। বন্ধুরা আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহর রহমতে সবাই ভালোই আছেন? আল্লাহর রহমতে আমিও ভালো আছি।

বন্ধুরা আমি আবার লিখব ইসলাম ছাড়া জীবন মূল্যহীন। হ্যা বন্ধুরা কথাটা এমন শোনালেও বাস্তবটা ঠিক সত্যি। জীবনে ইসলাম ছাড়া জীবন মূল্যহীন। তো চলুন বন্ধুরা জেনে নেই কেন ইসলাম ছাড়া জীবন মূল্যহীন।

Image source

খাদ্য ও পানীয়ের চেয়ে মানুষের জীবনে দ্বীনের প্রয়োজন অনেক বেশি। এতদিন মধ্যে কোন তুলনাই চলে না। কেননা দ্বীন ব্যতীত মানুষ, দুনিয়া ও আখেরাত উভয় হারায়। কিন্তু খাদ্য ও পানীয়ের অভাবে কেবল দুনিয়া হারায়।

দ্বীন হল জীবন, আলো, হেদায়েত, আরোগ্য, সৌভাগ্য, নিরাপত্তা, সফলতা, কল্যাণ এবং মুক্তি। দিন ব্যতীত মানুষ চতুষ্পদ জন্তু, হিংস্র জানোয়ার ও শয়তানের মত হয়ে যায়। চতুষ্পদ জন্তু যেমন, খেয়ালখুশি মতো চলাফেরা করে, সে কারো পরোয়া করে না। আর হিংস্র প্রাণী বলতে যেমন, অন্যদেরকে নির্দয় ভাবে শিকার করে।

মন্দ কর্ম ও ফাসাদ বা বিশৃংখলা ছরিয়ে দেওয়া ছাড়া শয়তানের আর কোন কর্ম নেই। এসব অধঃপতন থেকে মানুষকে বাঁচাতে হলে আল্লাহর পথে তাদেরকে দাওয়াত দেয়া আবশ্যক। এর মাধ্যমে মানুষ উচ্চ স্থান লাভ করে, যা আল্লাহ তাআলা ভালোবাসেন এবং সন্তুষ্ট হন। যেমনটি নবী-রাসূলগন তাদের জীবনে এটা পেয়েছেন।

Image source

ইসলাম হলো শান্তি ও কামিয়াবির ধর্ম। এ ধর্মে রয়েছে সুখ, শান্তি ও প্রশান্তি। ইসলাম ধর্মে মা বোনদের পদ্দার সুব্যবস্থা রয়েছে। ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারীরা দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। এবং মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া প্রার্থনা করে। যাতে তারা চিরশান্তির জান্নাত এ প্রবেশ করতে পারে।

আমরা আমাদের চোখের সামনে যাই কিছু দেখি সবই মাখলুক, আর মাখলুক কিছুই করতে পারে না আল্লাহ তাআলার হুকুম ছাড়া। আর আল্লাহ তায়ালা সব কিছুই করতে পারেন মাখলুকের হুকুম ছাড়া। এই পৃথিবীতে একমাত্র ধর্ম ইসলাম যা আল্লাহ তাআলা মনোনীত করেছেন।

আল্লাহ তাআলা ধর্ম ইসলাম। পৃথিবীতে এ ধর্ম ইসলাম প্রচারের জন্য যুগে যুগে অসংখ্য নবী রাসূলগণ প্রেরণ করেছেন। সর্বপ্রথম নবী হযরত আদম আলাই সাল্লাম এবং সর্বশেষ নবী ও রাসুল আমাদের বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

ঈসায়ী ৫৭০ সনের ১২ই রবিউল আউয়াল সুবহে সাদিকের সময় হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরবের বিখ্যাত কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আব্দুল্লাহ এবং মাতার নাম আমেনা।

তার জন্মের আগেই পিতা আব্দুল্লাহ ইন্তেকাল করেন। ফলে পিতামহ আব্দুল মুত্তালিব এর উপর তার লালন-পালনের দায়িত্ব আসে। একসময় নাতি শিশু মুহাম্মদকে রেখে আব্দুল্লাহ মুত্তালিব ইন্তেকাল করেন। বাল্যকাল থেকেই তার মাঝে ছিল সততা, কোমল স্বভাব, অপরিসীম কর্তব্যবোধ, চারিত্রিক সৌন্দর্য, অসীম সাধুতা, আমানতদার প্রগতি সৎগুণ।

এসব সৎ গুনের জন্য আরববাসী শ্রদ্ধা ও প্রীতির সঙ্গে তাকে 'আল-আমিন' বা বিশ্বাসী খেতাবে ভূষিত করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি সত্যের সন্ধানে গভীর চিন্তায় ডুবে থাকতেন। মাঝে মাঝে তিনি মক্কা মুকাররমা থেকে অনতিদূরে হেরা পর্বতের গুহায় চিন্তা করতেন।

এভাবেই চিন্তামগ্ন থাকা অবস্থায় হেরা পর্বত গুহায় থাকা অবস্থায় একদিন আল্লাহতালার আদেশে ফেরেশতা জিব্রাইল আলাইহি সাল্লাম তাকে নবুয়াতের খোঁজখবর দিয়ে ওহী নাযিল করেন।

Image source

কিছুদিন পর থেকেই হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা'আলার আদেশ পেয়ে ইসলাম প্রচার করতে শুরু করেন। এভাবেই ধীরে ধীরে ইসলাম প্রচার করতে লাগল অনেক লোকজন ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হতে শুরু করল।

ইসলাম প্রচার করার সময় হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক দুঃখ কষ্টের সম্মুখীন হয়েছেন। কিন্তু তাতেও তিনি পিছপা হননি বরং ইসলাম প্রচার করে গিয়েছেন। 

হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম তিনি আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন ইসলাম পরিপূর্ণ রূপে প্রতিষ্ঠা করেছেন। এবং তখন থেকেই আল্লাহতালা এই দ্বীন ইসলাম মুসলমানদের উপর পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন।

Image source

একমাত্র এই ধর্ম ইসলাম যা ছাড়া কেউ জান্নাতে প্রবেশ করিতে পারিবে না। আবার ইসলাম ধর্মের লোক হয়েও যদি ইসলাম ধর্মের কাজকর্ম না করে যেমন ইবাদত, বন্দেগী, নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত ইত্যাদি কিছুই না করে বরং নাফরমানীতে লিপ্ত থাকে তাহলে সেও জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। আর আল্লাহতালা ইচ্ছা করলে যে কাউকেই জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারবেন।

আর এই ইসলাম এমনি এমনি প্রতিষ্ঠিত হয়নি বরং ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য অনেক কষ্ট সাধিত হয়েছে। ইসলামের জন্য কত লোক শহীদ হয়েছেন। তারা নিজের জীবনকে ইসলামের জন্য উৎসর্গ করে দিয়েছেন তারা স্থান পেয়েছেন শহীদি মর্যাদা।

তাই আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমতে আমি আপনি যারা মুসলমানের ঘরে জন্ম নিতে পেরেছি কতই না আমাদের কপাল ভাগ্যবান। কিন্তু যারা মুসলমানের ঘরে জন্ম নিয়েও ইসলাম সম্পর্কে ধ্যান ধারনা রাখে না, বরং ইবাদত-বন্দেগী করার চেয়ে নাফরমানীতে লিপ্ত থাকে তাদের কপাল কতই না দুঃখজনক। তারাতো দুনিয়া ও হারাবে এবং আখিরাতে পাবে জাহান্নাম।

জাহান্নাম হল এমন এক স্থান যেখানে পৃথিবীর আগুনের চেয়ে ৭০ গুণ উত্তপ্ত আগুন রয়েছে। জাহান্নামের আগুনের ভয়ে পৃথিবীর আগুন বলে, আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে জাহান্নামের আগুনের সাথে মিক্সার করেন না।

আর আমরা কতই না দুর্ভাগা যে জাহান্নামের আগুনের কথা জেনেও কত নাফরমানি কাজ করতেছি তার কোন হিসাব রাখিনা। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সবাইকে মাফ করুন না হলে আমাদের অবস্থা যে কি হবে তা বলে বোঝাতে পারবো না।

Image source

 

তাই আমাদেরকে নামাজ বন্দেগি করতে হবে। কারণ আমাদের কপাল কতই না সৌভাগ্য যে আমাদের জন্ম মুসলমানের ঘরে হয়েছে। আমাদের জান্নাতে যাওয়ার পথ সুগম হয়েছে। তার কারণ মুসলমান হয়ে আমরা দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়বো এবং আল্লাহ তালার আদেশ-নির্দেশ মানব এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দেখানো পথ অনুযায়ী চলবো।

আর এসব দিক নির্দেশনা এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দেখানো পথ অনুযায়ী চলে কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না। দুনিয়াতে পাব শান্তি এবং আখেরাতেও পাব চিরশান্তির জান্নাত।

তাই আমরা এখন থেকেই নিয়ত করে নেব যে কখনোই আল্লাহতালার নাফরমানি করব না এবং পাঁচ ওক্ত নামাজ পড়ে আল্লাহতালার কাছে দোয়া প্রার্থনা করব। আমরা যেনো জান্নাতে প্রবেশ করিতে পারি।

Comments