শিক্ষাই জাতির উন্নতির পূর্বশর্ত এবং নিরক্ষরতা দুর্ভাগ্যের প্রসূতি।

A
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, বন্ধুরা আশা করি আল্লাহর রহমতে আপনারা সবাই অনেক ভাল আছেন, আমি আল্লাহর রহমতে এবং আপনাদের দোয়ায় অনেক ভাল আছি, আবারো হাজির হলাম আপনাদের সামনে আমি আমার নতুন আরেকটি লেখা নিয়ে, আশা করি আমার লেখাগুলো পড়ে সবার ভালো লাগবে।

Image source 

শিক্ষাই জাতির উন্নতির পূর্বশর্ত এবং নিরক্ষরতা দুর্ভাগ্যের প্রসূতি। শিক্ষাকে জাতির মেরুন্ড বলা হয়। এ থেকে সহজেই অনুমেয় যে, নিক্ষরতা যে কোনো জাতির জন্যে হুমকিস্বরুপ। শিক্ষাই আলো, নিরক্ষরতা অন্ধকার। শিক্ষা ছাড়া- এ -পৃথিবীতে সুষ্ঠুভাবে বেঁচে থাকার কোনো উপায় নেই। নিরক্ষর ব্যক্তি তার নিরক্ষরতার জন্যে এ- পৃথিবীতে রূপ-রস-গন্ধ, ন্যায়- অন্যায়, লাভ-লোকসান, আনন্দ-বেদনা, সুখ-দুঃখ সবকিছু থেকে হয় বঞ্চিত, হয় প্রতারিত। তার জীবনটাই অভিশপ্ত ও ব্যর্থ।

মানবসন্তান হিসেবে জন্মগ্রহণ করলেই যথার্থ মানুষ হওয়া যায় না। মানুষকে যথার্থ মানুষ হতে হলে জ্ঞান অর্জন করতে হয়। আর এই জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রয়োজন শিক্ষার। শিক্ষার স্থান মানবজীবনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা ছাড়া ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে উন্নতি অসম্ভব। পৃথিবীবেতে শিক্ষা বা জ্ঞানই একমাত্র সম্পদ যা জীবনের মতো মূল্যবান। জীবন ছাড়া দেহের যেমন মূল্য নেই, শিক্ষা ছাড়া তেমনি জীবনেরও কোনো মূল্য নেই। যে ব্রক্তি শিক্ষা থেকে বঞ্চিত তার মনুষ্যজীবন ব্যর্থ। তাকে চরম দুর্ভাগ্যের মধ্য দিয়ে জীবন কাটাতে হয় । জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলোয় আলোকিত নয় বলে পদে পদে সে অন্ধকার দেখে। চোখ থাকতেও সে অন্ধের মতো বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্কহীন জীবনযাপন করে। আধুনিক বিশ্বে অক্ষরহীন ব্যক্তি প্রায় অচল । উন্নত জীচনের সঙ্গে তার পরিচয় থাকে না। উন্নত জীবন সম্পর্কে সে কোনো ধারণাও সে করতে পারে না এবং উন্নত পেশা লাভেও সে বঞ্চিত থাকে । 

দারিদ্রই তাদের চীবনের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হয়ে দাাঁড়ায়। দারিদ্র ও দুঃখ-কষ্টে থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার পথ সে জানে না। এই ধরনের মানুষ শুধু ধুঁকে মরে। নিক্ষরতার অভিশাপ বয়ে বেড়ানোই এদের একমাত্র নিয়তি। শুধু ব্রক্তি জীবনেই নয়, জাতীয় জীবনেও নিরক্ষরতার দুর্ভাগ্য নিয়ে আসে। জাতি যদি নিরক্ষর হয় তবে দেশের অগ্রগতি ব্যাহত হয় িএবং নানা সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার জাতীয় জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ। নিরক্ষর জাত আধুনিক উন্নত জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে এবং নানা সমস্যপায় জড়িয়ে পড়ে। বস্তুত ব্যক্তি ও জাতীয় চীবনের উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া ছাড়ার অন্য কোনো উপায় নেই। অজ্ঞতার অন্ধকারে নিমজ্জিত নিরক্ষর জনগোষ্ঠী তাই জাতির জন্যে বোঝাস্বরুপ। শিক্ষা প্রত্যেক নর নারীর জন্যে ফরজ। শিক্ষা ব্রতীত কোনো জাতি উন্নতি লাভ করতে পারে না। পৃথিবীর প্রত্যেকটি দেশ আজ নিক্ষরতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তুরস্ক তার অগ্নি সন্তান কামাল পাশার নেতৃত্বে মাত্র বিশ বছরে শিক্ষার মান ৮০ ভাগে উন্নীত করেছিল। ইংল্যান্ড,আমেরিকা, ফ্রান্স, জার্মানির মতো দেশগুলোর শতকরা ১০০ ভাগ শিক্ষিত। ফলে তার এত উন্নত। 
আমাদের দেশেও প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বর্তমান যুগে নিক্ষরতার মানবজীবনের সবচাইতে চড় অভিশাপ। শিক্ষা -বিবর্জিত মানুষ জাতিকে পিছিয়ে দেয়, জাতিকে পণিত করে ন্যুজ, গর্বহীন, দীপ্তিহীন জনগোষ্ঠীতে। বস্তুত শিক্ষার প্রসারই পারে সব কুসংস্কার, জড়তা দূর করে জাতিকে গতিশীল করতে । তাই জাতীয় জীবেনে তথা একটি উন্নত দেশেরে জন্যে চাই শিক্ষিত জনগোষ্ঠী। এজন্য বর্তমান বিশ্বে শিক্ষাকে উন্নয়নের পূর্বশর্ত বিবেচনা করা হয়ে হয়ে থাকে।
পৃথিবীতে মূর্খের কোনো স্থান নেই। ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে উন্নতি ও অগ্রগতির জন্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। তাই ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে জাতীয় জীবনে পর্যন্ত নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে সবাইকে মুক্ত করতে হবে।
লেখাগুলো কষ্ট করে পড়ার জন্য সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ, সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।

Comments

shariarr
Congratulations, your post has been curated by @shariarr

Pink Yellow Flash Sale Watercolor Background Animated Instagram Post (800 × 500 px).gif

please Vote for @shariarr serey witness
asad18
শিক্ষা ছাড়া কেউ পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে না। যে‌ জাতি বেশি শিক্ষিত হবে